995> || মৃত্যু ||
<---আদ্যনাথ---->
জন্ম সৃষ্টির এক আনন্দ লীলা,
মৃত্যু প্রকৃতির এক অবসম্ভাবি খেলা।
মানবদেহ মরণশীল চিরসত্য,
আত্মা অবিনশ্বর নির্লিপ্ত সদাসত্য।
মৃত্যু বড়ই কঠিন,বেঁচে থাকাই সহজ হয়।
জীববিজ্ঞানে জীবনের সমাপ্তিই মৃত্যু হয়।
জীবের জন্মের মুহূর্তেই মৃত্যুর সময় ও কারন নিধারিত হয়েযায়।
তাইতো জীব মাত্রেই বেঁচে থাকতে চায়।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বাঁচার জন্য ব্যাকুল
হয়।
মৃত সর্বদা পবিত্র সত্য,সুন্দর, নির্মল হয়,
তাই বুঝি মৃত শরীরকে সাদা কাপড়দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
মৃত্যু নয় তেমন ভয়ঙ্কর চিন্তার,মৃত্যু নিষ্প্রাণ,
মৃত্যু এক জীবনের সমাপ্তি,সম্পূর্ণ অবসান।
মানুষ যখন বেঁচে থেকেও মরেজায় মনে ও চিন্তায়,
এ-হেন ভয়ানক মৃত্যুই মনকে ভীষণ ভাবায়।
জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক গভীর,
মৃত্যু না হলে জন্ম হয়না,প্রকৃতি নিয়ম,
আবার জন্ম না হলে মৃত্যু ও হয় না,
এমনটাই জন্ম মৃত্যু চক্রের নিয়ম।
মৃতের থাকেনা কোন অহংকার, পাপ, রাগ,হিংসা,দ্বেষ।
মৃত সদা সত্য,নির্মল, চিরশান্ত, অশেষ।
মৃত্যুর ওপারে কি আছে সেটা জান্তেই
চেষ্টায় অসাধ্য সাধন,
দেখেছি মৃত্যুকে, বুঝেছি মৃত্যুর রহস্যের কারণ।
সাধনা নয় সাধ্যে কেটেছে বহু বৎসর একান্তে,
জীবের মৃত্যু, ঘটেযায় তার অজান্তে।
জন্মের পূর্বাভাস থাকে দশ মাস আগে,
মৃত্যুর পূর্বাভাস থাকেনা এক পলক আগে।
মৃত্যু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ,
জন্ম অনির্দিষ্ট, মৃত্যু অবধারিত, নিশ্চিত নির্দিষ্ট।
তথাপি সেই মৃত্যুকে মেনে চলি অদৃষ্ট,
যদিও মৃত্যুর কারণ হয় অবশ্যই নির্দিষ্ট।
গরুঢ় পূরণে, মৃতের আত্মা, মৃত্যুর পর
১৩ দিন নিজের বাসস্থানেই ঘোরে।
শুদ্ধআত্মা শুভ ফল দানের নিমিত্তে ১৩ দিন নিজের বাসস্থানেই অবস্থান করে।
অশুদ্ধআত্মা বা পাপাত্মা মুক্তির নিমিত্তে ১৩ দিন হয়তো আরও কিছু কাল নিজের বাসস্থানেই ঘোরে, আর হাঁ-হাঁ-কার করে।
তাইতো মৃত্যু অবাঞ্ছিত বড়ই কঠিন,
বেঁচে থাকাই অনেক সহজ জীবন।
মানুষ চিরকাল জীবন নিয়ে গর্ব করে,
মৃত্যু বড়ই কঠিন, নিঃশব্দে এসে পারে।
প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা ভীষণ কঠিন ব্যথা,
বোধহয় আর কিছুই হয় না এব্যাথার অধিক ব্যাথা ।
কাছের মানুষের চিরবিদায়ের পরে,
হয়তো কোন মৃত্যু মানুষকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
এক বিশাল শূন্যতা গ্রাস করে।
সেই শূন্যতার ভার বহন করা বড়ই কঠিন
হয়ে পরে।
ভীরুরা মরার আগে মরে বার বার, সাহসীরা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করে একবার ।
মৃত্যুই প্রত্যেকটি মানুষের একমাত্র গন্তব্য । কেউ কখনো মৃত্যু থেকে পালাতে পারেনি,
মৃত্যুই ভবিতব্য।
জীবন যেমন সত্য , মৃত্যুও তেমনি,
জীবনের পথে মৃত্যুকে ভয়কি!
মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে হবে
তবেই জীবন মনোরম ;মৃত্যু শান্তিদায়ক হবে।
অবিশ্বাস এবং অযথা-সন্দেহের ভয়,
একটি সম্পর্কের মৃত্যু ঘটাতে যথেষ্ট হয়।
জীবনের সঙ্কটময় কাল তো শুধু,
জীবন- মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের সময়টুকু।
শরীরের মৃত্যু হলেও আত্মার মৃত্যয় হয় না,
ঠিক তেমনি কিছু সম্পর্কের মৃত্যু হয় না।
তারা বেঁচে থাকে মনের গভীর অন্তরালে, আজীবন।
কর্মই মানুষকে করেদেয় অমর, স্বার্থক জীবন।
নশ্বর এই জীবনে কিছুই রয়না সাথে,
আমি আমি করে শরীর টাই থাকে সাথে।
শরীর ভিন্য কিছুই রয়না সর্বক্ষণ সাথে।
মৃত্যুতে শরীরটিও ছেড়ে যেতে হয় সকলকে ।
নিজের শরীরই নিজের আপন,
ভাই বলো বন্ধু বলো কেহই হয়না নিজের মতন।
তবুও মেনে নিয়ে চলতে হয় সকলকে আপন।
বিপদেই চেনা যায় কে পর কে আপন।
বিপদ না আসলে সঠিক পথ চেনা কঠিন,
বাঁধা হীন জীবনে সত্যকে চেনা বড়ই কঠিন।
উজানে না বাইলে নাও দাড়ির মাঝির সাহস কোথায়।
ভাটির টানে সহজে বয়ে চলে নৌকায় ।
<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
20/08/2023
========================