Wednesday, September 13, 2023

1000> || এ- কেমন গ্যেরাকল ||

   1000> || এ- কেমন গ্যেরাকল ||

                 <---আদ্যনাথ--->

চাষের খেতে পেস্টিসাইড,

ফসলে জিনের পরিবর্তন।

সবজি,ফল হয় সুন্দর,মুক্ত রোগ,

নানান কেমিকেল প্রয়োগ।

প্রকৃতির সাথে নিত্য নুতন ছল,

এ- কেমন গ্যেরাকল।


আজকাল হচ্ছে জীনের পরিবর্তন,

সেজে আরো ভয়ংকর আচরণ।

কে শেখাবে কাকে, উন্নত বিজ্ঞান,

মানুষ একদিন হবে সব জান্তা অজ্ঞান।

নিজের স্বর্থে কতো অজুহাতের কল,

এ- কেমন গ্যেরাকল।


সত্যি এ-সকল অতি ভয়ঙ্কর,

সকলই মানুষ মারার কল,

লাঠি বা অস্ত্র দিয়ে মারা নয়

খাইয়েই নিঃশব্দে মানুষ মারা হয়।

এ-সকলি মানুষ মারার কল,

এ- কেমন গ্যেরাকল।


আর যে বাঁচবে সেও রবে বিকল।

এই- কি বিজ্ঞানের উন্নতির ফল?

এতো বোমা এত আবিষ্কার,

সকলি প্রকৃতির বিরুদ্ধচার,

চলছে নিঃশব্দে মানুষ মারার কল,

এ- কেমন গ্যেরাকল।


বিজ্ঞান মানেই কি প্রকৃতিকে ধ্বংসের কল,

এভাবেই হবে কি উন্নত বিজ্ঞানের ফল।

চারিদিকে বাড়ন্ত হাঁ- হাঁ কার,

কে করবে কার প্রতিকার!

নিত্য নুতন লোকশিক্ষার ফল।

এ- কেমন গ্যেরাকল।


যার আছে ভুঁড়ি ভুঁড়ি,

তার লুটের নানান জারি জুড়ি।

সকলেই ব্যস্ত কত কর্ম যজ্ঞ্য

উন্নত বিজ্ঞানের নির্বাক ভবিতব্য।

এ-কেমন উন্নত সভ্যতার  ফল,

এ- কেমন গ্যেরাকল।

   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

      13/09/2023;;10:12:20 pm

==========================



999>|| শুভ সকাল || + (1)

 999>|| শুভ সকাল ||

999/1>সান্ধ্য আড্ডায় আমার দুটি কথা

===============================

         999> || শুভ সকাল ||

                  <--আদ্যনাথ-->

সকালটি শুভ হোক সকল মনের ইচ্ছা

দিনটি কেমন যাবে সকলের অজানা।

দিনটি সুন্দর করতে সকলের কামনা

কেউচায় কেউপায় কেউপরোয়া করেনা।

দিনের শুভাশুভ নির্ভর কর্ম ফলের নিরিখে

কেউ মানে কেউ মানেনা ভ্রান্ত ধারণার কারনে।

ধারণা গুলি ব্যর্থ হয় উচিত শিক্ষার অভাবে,

শিক্ষার প্রসার হয় সমাজ ও পরিবারের প্রভাবে।

শিক্ষাই আলোর পথ দেখায় জীবন গঠনে,

শিক্ষার অভাবে জীবন ডুবে থাকে অন্ধকারে।

চাওয়া পাওয়া আর সুন্দর জীবন শিক্ষার অঙ্গ,

অ-শিক্ষা,কু-শিক্ষা জীবনকে করে লন্ডন-ভন্ড।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

     13/09/2023;::09:10:12

===========================


999/1>সান্ধ্য আড্ডায় আমার দুটি কথা:::---

আপনাদের ভালোলাগলে আনন্দ ভাগকরে নেব।

আর ভালো না লাগলে শুধু আমি একলাই চুপ করে থাকব।

আপনারা যেন হাসতে না ভোলেন!

রোজ হাসবেন,

কিছুক্ষন,

হাসবেন অট্টহাসি

যার যেমন খুশি।


|| স্মৃতি ভ্রম-সমাধান || 

                     <------আদ্যনাথ---->

স্মৃতি ভ্রম ও বার্ধক্য সঙ্কটের শেষের দিন, 

হয়তো হতেপারে ভয়ঙ্কর সেই দিন।

সঙ্কটের সমাধানে হতেহবে সচেতন,

ষাট,পঁয়ষট্টি ঊর্ধ্ব বয়সেই ভাবনা ও যতন।


অ্যালঝাইমার'স-সমাধান হতে হবে সাবধান,

সান্ধ্য আড্ডাতেই খোঁজ সমাধান। আত্মবিস্মৃতি থেকে বাঁচতে,জানতে হবে,

প্রাণ খুলে রোজ অট্টহাসি হাসতে হবে।


বৃদ্ধবয়সের সান্ধ্যআড্ডায় মনেজোর আনে।

সুখ দুঃখের কথার বিনিময়ে মস্তিষ্ক সচল থাকে।

আর এভাবেই হতে পারে রিস্ক শেয়ারিং বা ঝুঁকি বন্টন,

আর পঁয়ষট্টি,সত্তরের ঊর্ধ্বেও গড়ে উঠবে সুন্দর জীবন।


নিত্য নুতন খুলছে বৃদ্ধাশ্রম, হয়তো বিকল্প জীবন,

বৃদ্ধ বয়সে কেন ভোগ করে সেই অকর্মণ্য জীবন।

যে ভাবেই হোক করতে হবে ঝুঁকি বন্টন,

তবেই শরীর ও মস্তিষ্ক থাকবে সচেতন।


তাই তো সান্ধ্য আড্ডা অতি প্রয়োজন,

ঝেরেফেলতে হবে মনের সকল বেদন।

আছি একসাথে করবো নিজের যতন 

রোজ হাসবো কিছুক্ষন নিজের মতন।


মনে রাখবো বয়স এক সংখ্যা মাত্র,

বয়স বাড়বে নিজের মতন যত্র-তত্র।

যত্নে শরীর থাকবে সুস্থ সবল কর্মঠ প্রতিদিন,

সকলের সাথে যোগাযোগ রাখবো রোজদিন।


শেষ জীবনের নিষ্পত্তি, মীমাংসা বা সমাধান,

অনেক ভারী ভারী কথার আদান প্রদান।

কত তর্ক বিতর্ক যেন নিত্যদিনের রোজ নামচা,

জীবনটা নিজের বাঁচতে হবে নিজেকে তাইতো সান্ধ্য আড্ডা।


এই সান্ধ্য আড্ডাতেই খুঁজেপাই সমাধা,

সান্ধ্য আড্ডার হাসি ঠাট্টাতেই দূর হবে সব বাঁধা।

পঁয়ষট্টি,সত্তরেও খুঁজে নেওয়া নুতন উদ্যম,

ভালোভাবে বাঁচার জন্য সব বাঁধাকে করবো অতিক্রম।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

               21/08/2022

========================




Monday, September 11, 2023

998>|| ভ্রমন ও উপলব্ধি ||

    998>||  ভ্রমন ও উপলব্ধি ||

                 <---আদ্যনাথ--->

ঘুড়ে বেড়ালেই ভ্ৰমন হয় না,

উপলব্ধি না থাকলে ভ্রমণে আনন্দ হয় না।

প্রকৃতিকে ভালোবাসা ভ্রমণের চাবি কাঠি,

ভ্রমন জীবনে বেঁচে থাকার জিওনকাঠি।

প্রকৃতিরমাঝে মুক্ত বাতাসে স্বাস নেওয়া,

মনের সকল দুঃখ ও গ্লানি ভুলে যাওয়া।

একটু নুতন করে  নিজেকে ভাবতে শেখা,

নিজেকে নিজে বিশ্বাস করতে শেখা।


ঘরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে,

প্রকৃতিকে আদরে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে,

নীল আকাশের গভীরে ডুব দিয়ে,

মাটির গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে,

বাস্তব ও কল্পনার ফারাক মিটাবার আশা,

ভ্রমনের স্বপ্ন একান্ত মনের জিজ্ঞাসা।

স্বপ্ন গুলিকে খুঁজে বাস্তব করার দিশা,

এভাবেই গড়ে ওঠে ভ্রমনের নেশা।


ভ্ৰমন তো মনের দুয়ার খুলে,

প্রকৃতির মাঝে নিজেকে উজাড় করে,

মনের গোপন সকল দুঃখ বেদনাকে ভুলে,

নিজের অফুরন্ত মনবলে এগিয়ে চলা।

কোন পথই অজানা নয়,

করতে পারলে ভয়কে জয়।

বুঝতে পারলে প্রকৃতিও কথা কয়,

একাগ্র চিত্তে শান্ত মনে শুনতে হয়।


হোক সে যতোই দুর্গম, অসাধ্য পারাবার,

দৃঢ় চিত্তে থাকেনা ভয়, পথ হারাবার।

পথ নিজেই বলেদেয় তার ঠিকানা,

ভয়শূন্য হৃদয়ে  থাকেনা কোন অজানা।

পথ চলা রয়েগেলে বাকি,

জীবনেই বুঝি রয়ে যাবে ফাঁকি।

আত্ম বিশ্বাস ও বুকভরা ভালোবাসা,

পাথেয় হলেই মিটবে ভ্রমনের পিপাসা।


ভ্ৰমন বেঁচে থাকার এক অদ্ভুত কলা,

যে কলায় পূর্ন হয় আত্মবিশ্বাসের পেয়ালা।

ভয়শূন্য হৃদয়ে পূর্ন সাহসে এগিয়ে চলা,

এ-ভাবেই সম্ভব  ভ্রমনকে উপভোগ করা।

মানস ভ্রমনও এক ভ্ৰমন বিশেষ,

এ-হেন ভ্রমণেও জানার থাকেনা শেষ।

মানস ভ্রমণ সার্থক হয় তখন,

একান্ত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি হয় যখন।

     <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

      10/09/2023:: 02:15:12 am

=========================


Saturday, September 2, 2023

997>|| অজুহাত নয় ||+চাহিদা ||

        997>|| অজুহাত নয় ||

                 <---আদ্যনাথ--->

আমি নাই কোন  প---টিক্সে

এ-খোনো বেঁচে আছি ঠিক্সে,

খাই- দায়ী ঘুমাই আরামসে,

জ্বর মপি পুরোনো সেই হিক্সে।

ভুলে গেছি পুরনো সকল আদর্শ,

বোধহয় হয়নি এখনো বাদী অর্শ।

দোকান সাজালেই বুঝি এলো নব-বর্ষ

মিষ্টির পেটেক হাতে পেতেই মনে হর্ষ।

সারা বৎসর বুঝিনা বাংলা সন-তারিখ,

বিজ্ঞাপন ও মিষ্ট চিনিয়ে দেয় তারিখ।

হাসি ঠাট্টা চলছে চলুক সহজ মতন

ওই প---টিক্স ঝেড়ে ফেলতে যতন।

আমি ছাপোষা নিতান্ত ছন্নছাড়া

কোন দিনই ছিলোনা কোন তাড়া।

সকলেই ভুলেছে কাছে ছিল যারা

দিন ভর খুঁজি নিজের অজানা ছড়া।

শান্তি খোঁজার নেই কোন মনকামনা,

বারমাস খুঁজি নিজের মনের ভাবনা।

নাইকোন হা-হু-তাশ নাই কোন স্বপ্ন,

আছে নিজের মন- কল্পনার গল্প। 

ছন্নছাড়া উদাস মনে চেয়ে দেখি আকাশ,

ফেলে আসা দিন গুলিই যেন অবকাশ।

যারা ভুলেছে,হারিয়েছে,আসবেনা ফিরে,

কোন চিন্তাই ফেরেনা মনের গভীরে।

এবার জাল গুটোনোর পালা ,

মনের গভীরে খেলি ভাবনার খেলা।

নই বিদ্রোহী নই সবজান্তা অবুঝ ক্লান্ত, 

দুরন্ত,কোন দিনই ছিলামনা নিরীহ শান্ত।

আজও দৌড়ে বেড়াই অজানা পথে,

ক্লান্তি হীন বেদনারে ভুলি অজুহাতে।

নাই স্বপ্ন আছে নিশ্চিত পৌঁছবার দিশা,

পথ চলাইযে আমার চিরদিনের নেশা।

জানিনা শেষের সেদিন কেমন হবে,

খরস্রোতা নদী কখন সমুদ্রে মিলবে।

জানিনা শঙ্খচিল কতদূর উড়ে যাবে,

ভোরের শীতল হওয়া কতদূর বয়ে যাবে!

তবুও চলতে হবে, চলাই জীবনের স্পন্দন,

জীবনতো মাত্র ক্ষনিকের স্পন্দন।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

        03/09/2023::: 12:32:17

============================

         

      || চাহিদা ||


আমি এগিয়ে চলি মনের চাহিদায়,

পথ আমাকে খুঁজে নেয় তার আঙিনায়।

তাইতো পথকেই ভালোবাসি,

আর ভালোবাসি নিজেকেই বেশি।


আশা নয় চাই চেতনা জাগাতে,

ওরাও যে মানুষ সেইটুকু বোঝাতে।

নাআছে চাল না চুলো

কত আনন্দ মেখে ওই পথের ধুলো।


হারিয়ে যাই ওদের সাথে কাছে থেকে

কিদারুন প্রাণ শক্তি ওদের আছে,

আজও পথের পাশে ওরা বেঁচে আছে,

ওরা এই ক্ষণকে নিয়েই বেঁচে আছে।


ওরা ভবিষৎ নয় বর্তমানেই আছে

হয়তো চিরদিন থাকবে,

যদি একজনকেও পারি আলো দেখাতে,

এইটুকুই ভাবনা মনের একান্তে।


তাইতো পথ চলা অজানা পথে,

জানিনা কেন খুঁজি ওই শিশু টিকে,

প্রকৃতি করেনা কোন কার্পণ্য

আসলে আমাদের মনই সংকীর্ণ।


আসুক উত্তরের শীতল হওয়া

প্রাণ ভরে একটু শ্বাসনেওয়া

হয়তো নিজেকে খুঁজে পাওয়া

হয়তো কোন পথেই হারিয়ে যাওয়া।

      <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

           03/09/2023:: 9:02:12 

==========================





Monday, August 21, 2023

996>|| স্মৃতি ভ্রম-সমাধান ||

   996>|| স্মৃতি ভ্রম-সমাধান ||

                     <------আদ্যনাথ---->

স্মৃতি ভ্রম ও বার্ধক্য সঙ্কটের শেষের দিন, 

হয়তো হতেপারে ভয়ঙ্কর সেই দিন।

সঙ্কটের সমাধানে হতেহবে সচেতন,

ষাট,পঁয়ষট্টি ঊর্ধ্ব বয়সেই ভাবনা ও যতন।


অ্যালঝাইমার'স-সমাধান হতে হবে সাবধান,

সান্ধ্য আড্ডাতেই খোঁজ সমাধান। আত্মবিস্মৃতি থেকে বাঁচতে,জানতে হবে,

প্রাণ খুলে রোজ অট্টহাসি হাসতে হবে।


বৃদ্ধবয়সের সান্ধ্যআড্ডায় মনে জোর আনে।

সুখ দুঃখের কথার বিনিময়ে মস্তিষ্ক সচল থাকে।

আর এভাবেই হতে পারে রিস্ক শেয়ারিং বা ঝুঁকি বন্টন,

আর পঁয়ষট্টি,সত্তরের ঊর্ধ্বেও গড়ে উঠবে সুন্দর জীবন।


নিত্য নুতন খুলছে বৃদ্ধাশ্রম, হয়তো বিকল্প জীবন,

বৃদ্ধ বয়সে কেন ভোগ করে সেই অকর্মণ্য জীবন।

যে ভাবেই হোক করতে হবে ঝুঁকি বন্টন,

তবেই শরীর ও মস্তিষ্ক থাকবে সচেতন।


তাই তো সান্ধ্য আড্ডা অতি প্রয়োজন,

ঝেরেফেলতে হবে মনের সকল বেদন।

আছি একসাথে করবো নিজের যতন 

রোজ হাসবো কিছুক্ষন নিজের মতন।


মনে রাখবো বয়স এক সংখ্যা মাত্র,

বয়স বাড়বে নিজের মতন যত্র-তত্র।

যত্নে শরীর থাকবে সুস্থ সবল কর্মঠ প্রতিদিন,

সকলের সাথে যোগাযোগ রাখবো রোজদিন।


শেষ জীবনের নিষ্পত্তি, মীমাংসা বা সমাধান,

অনেক ভারী ভারী কথার আদান প্রদান।

কত তর্ক বিতর্ক যেন নিত্যদিনের রোজ নামচা,

জীবনটা নিজের বাঁচতে হবে নিজেকে তাইতো সান্ধ্য আড্ডা।


এই সান্ধ্য আড্ডাতেই খুঁজেপাই সমাধা,

সান্ধ্য আড্ডার হাসি ঠাট্টাতেই দূর হবে সব বাঁধা।

পঁয়ষট্টি,সত্তরেও খুঁজে নেওয়া নুতন উদ্যম,

ভালোভাবে বাঁচার জন্য সব বাঁধাকে করবো অতিক্রম।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

               21/08/2022

========================


Sunday, August 20, 2023

995> || মৃত্যু ||

        995> || মৃত্যু ||

                    <---আদ্যনাথ---->

জন্ম সৃষ্টির এক আনন্দ লীলা,

মৃত্যু প্রকৃতির এক অবসম্ভাবি খেলা।

মানবদেহ মরণশীল চিরসত্য,

আত্মা অবিনশ্বর নির্লিপ্ত সদাসত্য।


মৃত্যু বড়ই কঠিন,বেঁচে থাকাই সহজ হয়।

জীববিজ্ঞানে জীবনের সমাপ্তিই মৃত্যু হয়। 

জীবের জন্মের মুহূর্তেই মৃত্যুর সময় ও কারন নিধারিত হয়েযায়।


তাইতো জীব মাত্রেই বেঁচে থাকতে চায়।

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বাঁচার জন্য ব্যাকুল 

হয়।

মৃত সর্বদা পবিত্র সত্য,সুন্দর, নির্মল হয়,

তাই বুঝি মৃত শরীরকে সাদা কাপড়দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। 


মৃত্যু নয় তেমন ভয়ঙ্কর চিন্তার,মৃত্যু নিষ্প্রাণ,

মৃত্যু এক জীবনের সমাপ্তি,সম্পূর্ণ অবসান।

মানুষ যখন বেঁচে থেকেও মরেজায় মনে ও চিন্তায়,

এ-হেন ভয়ানক মৃত্যুই মনকে ভীষণ ভাবায়।


জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক গভীর,

মৃত্যু না হলে জন্ম হয়না,প্রকৃতি নিয়ম,

আবার জন্ম না হলে মৃত্যু ও হয় না, 

এমনটাই জন্ম মৃত্যু চক্রের নিয়ম।


মৃতের থাকেনা কোন অহংকার, পাপ,  রাগ,হিংসা,দ্বেষ।

মৃত সদা সত্য,নির্মল, চিরশান্ত, অশেষ।

মৃত্যুর ওপারে কি আছে সেটা জান্তেই

চেষ্টায় অসাধ্য সাধন,

দেখেছি মৃত্যুকে, বুঝেছি মৃত্যুর রহস্যের কারণ।



সাধনা নয় সাধ্যে কেটেছে বহু বৎসর একান্তে,

জীবের মৃত্যু, ঘটেযায় তার অজান্তে।

জন্মের পূর্বাভাস থাকে দশ মাস আগে,

মৃত্যুর পূর্বাভাস থাকেনা এক পলক আগে।


মৃত্যু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ,

জন্ম অনির্দিষ্ট, মৃত্যু অবধারিত, নিশ্চিত নির্দিষ্ট।

তথাপি সেই মৃত্যুকে মেনে চলি অদৃষ্ট,

যদিও মৃত্যুর কারণ হয় অবশ্যই নির্দিষ্ট।


গরুঢ় পূরণে, মৃতের আত্মা, মৃত্যুর পর

১৩ দিন নিজের বাসস্থানেই ঘোরে।

শুদ্ধআত্মা শুভ ফল দানের নিমিত্তে ১৩ দিন নিজের বাসস্থানেই অবস্থান করে।


অশুদ্ধআত্মা বা পাপাত্মা মুক্তির নিমিত্তে ১৩ দিন হয়তো আরও কিছু কাল নিজের বাসস্থানেই ঘোরে, আর হাঁ-হাঁ-কার করে।

তাইতো মৃত্যু অবাঞ্ছিত বড়ই কঠিন,

বেঁচে থাকাই অনেক সহজ জীবন।


মানুষ চিরকাল জীবন নিয়ে গর্ব করে,

মৃত্যু বড়ই কঠিন, নিঃশব্দে এসে পারে।

প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা ভীষণ কঠিন  ব্যথা,

বোধহয় আর কিছুই হয় না এব্যাথার  অধিক ব্যাথা ।


কাছের মানুষের চিরবিদায়ের পরে,

হয়তো কোন মৃত্যু মানুষকে  বিপর্যস্ত করে তোলে। 

এক বিশাল শূন্যতা গ্রাস করে।

সেই শূন্যতার ভার বহন করা বড়ই কঠিন

হয়ে পরে।


 ভীরুরা মরার আগে মরে বার বার, সাহসীরা মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করে একবার ।

মৃত্যুই প্রত্যেকটি মানুষের একমাত্র গন্তব্য । কেউ কখনো মৃত্যু থেকে পালাতে পারেনি,

মৃত্যুই ভবিতব্য।



জীবন যেমন সত্য , মৃত্যুও তেমনি,

জীবনের পথে  মৃত্যুকে ভয়কি!

মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে হবে 

তবেই জীবন মনোরম ;মৃত্যু শান্তিদায়ক হবে। 


অবিশ্বাস এবং অযথা-সন্দেহের ভয়,

একটি সম্পর্কের মৃত্যু ঘটাতে যথেষ্ট হয়।

জীবনের সঙ্কটময় কাল তো শুধু,

জীবন- মৃত্যুর সন্ধিক্ষণের সময়টুকু।


শরীরের মৃত্যু হলেও আত্মার মৃত্যয় হয় না,

ঠিক তেমনি কিছু সম্পর্কের মৃত্যু হয় না।

তারা বেঁচে থাকে মনের গভীর অন্তরালে, আজীবন।

কর্মই মানুষকে করেদেয় অমর, স্বার্থক জীবন।


নশ্বর এই জীবনে কিছুই রয়না সাথে,

আমি আমি করে শরীর টাই থাকে সাথে।

শরীর ভিন্য কিছুই রয়না সর্বক্ষণ সাথে।

মৃত্যুতে শরীরটিও ছেড়ে যেতে হয় সকলকে ।


নিজের শরীরই নিজের আপন,

ভাই বলো বন্ধু বলো কেহই হয়না নিজের মতন।

তবুও মেনে নিয়ে চলতে হয় সকলকে আপন।

বিপদেই চেনা যায় কে পর কে আপন।


বিপদ না আসলে  সঠিক পথ চেনা কঠিন,

বাঁধা হীন জীবনে সত্যকে চেনা বড়ই কঠিন।

উজানে না বাইলে নাও দাড়ির মাঝির সাহস কোথায়।

ভাটির টানে সহজে বয়ে চলে নৌকায় ।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

            20/08/2023

========================

Tuesday, August 15, 2023

994>|| ব্যাথা ||

   

          994>|| ব্যাথা ||

              <---আদ্যনাথ--->

কিছু কথায় মনে লাগে ব্যাথা,

এআমার উপলব্ধি সত্য কথা।

ব্যাথা কেবলই ব্যাথা 

ব্যাথা নয় কোন রোগ।

ব্যাথা হলো মস্তিষ্কপ্রসূত এক বোধ।

ব্যাথা মাপার কোন যন্ত্রই সঠিকনা।

ব্যাথা এক ব্যক্তিগত বোধ বা যন্ত্রনা।


ব্যাথা মনে লাগুক কি শরীরে

ব্যাথা এক জটিল বিষয়

ব্যথা এক বেদনাদায়ক অনুভূতি

তীব্র বা ক্ষতিকর উদ্দীপনার উপলব্ধি।


ব্যথার সংজ্ঞা বর্ণনা করা কঠিন অতি,

ব্যথা এক অপ্রীতিকর অনুভূতি। 

ব্যাথা এক মানসিক অভিজ্ঞতা, 

ব্যাথা সম্ভাব্য টিস্যুর ক্ষতি স্পর্শকাতরতা।


ব্যাথা চিকিৎসাশাস্ত্রে রোগের উপসর্গ,

ব্যথা এক সমস্যা স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।

ব্যথার উপশম স্নায়ুর অবেদন অবস্থা,

স্নায়ু ও মনের, নিবারণ হয় অস্থিরতা।

     <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

                   15/08/2023

===========================


Sunday, August 13, 2023

993>|| জেনেও চেনা দায় ||

      993>|| জেনেও চেনা দায় ||

                    <---আদ্যনাথ--->

সেদিন থেকে আজ যৌবন করে পার,

 একসাথে দশ কম অর্ধশত বৎসর পার।

 জেনেছি কিন্তু চিনতে পারিনি তাকে,

 রেখেছি ভাঙাকাঁচের আলমারিতে।


প্রকৃতির ইশারায় প্রকৃতিরে রেখেছি দূরে,

থাকলেও ঘরে মন থেকে রেখেছি দূরে।

 সেজে সমুদ্র, জলের অভাব কোথায়,

বহু চেষ্টাতেও তেষ্টা মিটলো কোথায়?


সকলে বলে সুন্দর শান্ত দয়ার সাগর,

শুনেছি দেখেছি নিখুঁত কথার আগর।

দেখেছিলাম চঞ্চলতা কিদারুন শোভা

আজ কেন এমন তর প্রকৃতির সাজা।


দেখেছি অনেক বুঝিনি কিছুই সোজা,

বুঝেছি হারিয়ে গেছে ভাবনার বোঝা।

হারিয়ে গেছে স্বপ্নের রাজ মহল গুলি

খরস্রোতা নদীর পথে বালির বাঁধ গুলি।


তবুও আশা উজানে দাঁড় বেয়ে চলা,

জানিনা কোন পথে পাড়ের ঠিকানা।

কোনদিন খুঁজিনি প্রভৃতির কিনারা,

আজ মনেহয় জীবনটাই বিড়ম্বনা।


নিরলায় খালের পাড়ে একলা বসে, 

মাছরাঙা শিকারের তরে বৃক্ষ শাখে।

কত ভাবনা জাগে হারিয়ে যায় ক্লান্ত মনে,

চেনা অচেনা কিজে ফারাক বুঝিনি আগে।


জঙ্গলে ডোরাকাটা দেখে বাঘ চেনা যায়,

মানুষ চেনা যেমন তেমন স্ত্রীলোক চেনা দায়।

আকাশের মেঘ দেখে বোঝা যায় ঝড়ের গতি প্রকৃতি,

সংসারের বার বাড়ন্ত দেখে বোঝা যায়

স্ত্রীর প্রকৃতি।


পৃথিবীতে সহজ কাজ উপদেশ দেওয়া,

কঠিন কাজ অসহায়কে সাহায্য করা ।

উপদেশ তো সবাই দেয় অযাচিত ভাবে,

অসহায়ের সহায় কখন কে হয়ে থাকে।

     <-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>

                       13/08/2023

=============================



Saturday, August 5, 2023

992>|| সুখের সন্ধানে ||

      992>|| সুখের সন্ধানে ||

           <---আদ্যনাথ--->

যদি পারো, খুঁজে নেও সুখ,

অন্যের সুখের মাঝে,

যদি পারো, ভোগকরো আনন্দ,

অন্যের আনন্দের সাথে।


জীবন সুন্দর ক্ষনিকের তরে,

ভাবনা ও কর্ম অনেক।

প্রকৃতি সুন্দর সৃষ্টির তরে, 

সময় নির্ধারিত কর্ম অনেক।


অলস মুহূর্ত জীবনকে ভাবায়,

চাওয়া পাওয়ার মাঝে ফাঁক রয়ে যায়।

কর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম জীবের তরে,

জীবন ও কর্ম বাঁধা সময়ের ডোরে।


যদি পারো ভালোবাসো নিজেকে,

প্রকৃতি ও সকল জীবনকে।

তবেই খুঁজে পাবে আনন্দ 

সীমিত এই জীবনের মাঝে।


    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

               06/08/2023

==========================

Friday, July 28, 2023

991>|| জ্ঞান দুঃখের কারণ ||

         991>|| জ্ঞান দুঃখের কারণ ||

                       <---আদ্যনাথ---->

জ্ঞান দুঃখের কারণ,এক গভীর পিপাসা,

জ্ঞান এক দু:সাহসিক কর্মপ্রচেষ্টা।

জ্ঞানিজন সদাই দুঃখী জ্ঞানসাগরে ডুবে,

জ্ঞানতৃষ্ণার আবেগে খোঁজার ইচ্ছা জাগে।


সুখী মানুষ অলস, আনন্দে দিন কাটায়,

সুখ ছাড়া কিছুই চায়না এই দুনিয়ায়।

সুখের সামগ্রীতেই গড়ে তার সংসার,

করেনা কোন জ্ঞানের আলাপ বিচার।


দুঃখী মন সর্বদা কিছু খুঁজে বেড়ায়,

দুঃখই  জ্ঞানের আলোর পথ দেখায়।

দুঃখই জ্ঞানীকে দৌড় করায়,

সর্বদা নুতন কিছু খুঁজে বেড়ায়। 


জ্ঞানের তৃষ্ণাই জ্ঞানীকে দৌড় করায়,

জ্ঞানের খোঁজেই জ্ঞানী এগিয়ে যায়।

জ্ঞান যতই বারে জ্ঞানতৃষ্ণা ততই পেতে চায়,

জ্ঞান যেন এডভেঞ্চার কেবলই শিখর ছুঁতে চায়।


ফিলসোফার নিজ ঘরেই বিফল হয় বার বার।

তাঁর নিজের ঘরেই জমাট বাঁধে দুঃসহ অন্ধকার।

দার্শনিকের সংসারে দুঃখ বেদনাই  সার,

দার্শনিক সর্বদা খোঁজে বিশ্ব-সংসার।


দার্শনিক মন, মনকেই খুঁজেবাড়ায়,

সে জানেনা মন থাকে কোন ঠিকানায়।

দার্শনিক খোঁজেনা স্বার্থ-প্রেমের,

বিশ্ব সংসার তার চিন্তার আধার।


জ্ঞানীর চিন্তায় সভ্যতা যাযাবর,

সভ্যতা কোনকালেই হয়না স্থাবর।

দর্শন বলে সভ্যতা হেটে চলে বেড়ায়,

সময়ের অন্তরে স্থান পরিবর্তন ঘটায়।


প্লেটোর দর্শন প্লেটোনিজম,

প্লেটোর দর্শনে সৃষ্ট বায়বীয় প্রেম।

প্লেটোর প্রেমে নাই কোন যৌনতা,

সেই প্রেমে শরীরের থাকেনা যোগ্যতা।


বার্নার্ড শ এর চিন্তায় "প্রেম হইল একটি জলন্ত সিগারেট, যার শুরুতে আগুন এবং শেষ পরিণতি ছাই।

আমি বলি ভালোবাসার আবেগ ভঙ্গুর ক্ষণস্থায়ী, 

আর প্রেমের বেদনা জীবনভর হয় স্থায়ী।


দুঃখের মধ্যেও যে আনন্দ খুঁজে পায়

সেইতো প্রকৃত দার্শনিক দুঃখকে সামায়।

প্রকৃতি উদার সর্বত্র হেসে খেলে বেড়ায়,

প্রেমিক প্রকৃতির মাঝে দর্শন খুঁজে পায়।


আনন্দের মাঝে দর্শন হারিয়ে যায় অকারণ,

দুঃখকে জড়িয়ে খুঁজে পাওয়া গভীর দর্শণ।

আলো বাঁধা পেলেই সৃষ্টি হয় অন্ধকার,

আনন্দ হারিয়ে গেলেই হয় দর্শনের স্বাক্ষাৎকার।

      <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী ---->

                  28/07/2023

==========================


Thursday, July 20, 2023

990>|| ফুলের সৌরভ ||

     990>|| ফুলের সৌরভ ||

               <----আদ্যনাথ---->

মানুষের সকল সুখ ও দুঃখের সাথী 

ফুলের তুলনা ফুলই হয়,

ফুলের মতন সাথী কেউ নাই দুনিয়ায়,

ফুলের সৌরভ দুঃখী মনে সন্তান যোগায়,

আবার আনন্দের জৌলুশ বা জেল্লা বাড়ায়।


ঈশ্বর চরণে অর্পিত সর্বদা সুন্দর ফুল,

মৃতদেহ সাজাতে লাগে সুগন্ধি ফুল।

ঈশ্বরের শৃঙ্গারে,প্রেম প্রীতির আলিঙ্গনের আহ্বানে, 

রাজদ্বারে কিম্বা মন্দিরের শোভা বর্ধনে,

ফুলের সৌরভ সর্বত্র আনন্দদানে।


ফুলের সৌরভ সকল পশু পাখিকে মাতাল করে,

ফুলের সৌরভে মধুকর ফুলে ফুলে উরেচলে।

বসন্তের সৌন্দর্য নানান-রঙিন ফুলের হাসিতে,

প্রকৃতিও মেতে ওঠে সৌন্দর্যের মাধুরীতে।


প্রকৃতির আনন্দ বসন্তের আগমনে,

প্রকৃতির সৌন্দর্যে প্রাণীকুল আকৃষ্ট প্রেমের বন্ধনে।

বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের মন্ত্র বলে,

ফুলের সৌরভ প্রকৃতিকে মাতিয়ে তোলে।

    <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================

Tuesday, July 18, 2023

989>|| এটাই জীবন ||

          989>|| এটাই জীবন ||

                    <----আদ্যনাথ---->

এটাই জীবন শিশুর চঞ্চলতা যেমন,

যৌবনে তপ্ত উচ্ছল তরঙ্গের মতন।

পড়ন্ত যৌবনে বার্ধক্যের আগমনে,

অটুট থাকতে চায় যৌবনকে ধরে।


সময় বয়েচলে নদীর স্রোতের মতন

বয়সের প্রভাবে অন্নময় শরীরের যতন।

ফিরে আসেনা কোনক্ষন যে-গেছে চলে,

কিছু সুখ লাভ অতীতের স্বপ্নের ছলে।


ভবিষ্যৎ কেউ দেখেনি, অনিশ্চিত জানি,

বর্তমানই শ্রেষ্ঠ সময়, মেনেনেন জ্ঞানী।

ভাবনার জট খুলতে থাকে বৃদ্ধবয়সে,

চাওয়া পাওয়ার হয়না শেষ অন্তিম সময়ে।


রাগ,অনুরাগ,আনন্দ,হিংসা,অহংকার

সকলই মনের চেতনা অথবা বিকার।

যে সকল কিছুকে করে সহজে অগ্রাহ্য

সেই পায় জীবনের শ্রেষ্ঠ সুন্দর ভবিতব্য।


ক্রোধ আর অহংকারে নিজের সর্বনাশ,

এসকল একান্ত মনের জীর্ণতার প্রকাশ।

অহঙ্কারকে  বর্জন  মল বা বিষ্ঠার  মতন,

ক্রোধ সংবরণে  উচিত নিজেকে যতন


ক্রোধে তাপ বাড়ে পাপ,নিশ্চই কুলক্ষয়,

ক্রোধে সর্বনাশ হয় নানান অপচয়।

ক্রোধমুক্ত মানুষকে ভালোবাসে সকলে

প্রেমলীলায় বিস্মিত আনন্দিত সকলে


অষ্টাঙ্গ, বেদাঙ্গ,যজ্ঞ সকল মহাদান ধ্যান,

ক্ষমাময় অক্ৰোধী জনের সর্বত্র সম্মান।

কিছুকে গ্রহণ করতে হয় সহজে পছন্দ,

তবেই মিলবে অনাবিল তৃপ্তিময় আনন্দ।

    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================


Monday, July 17, 2023

988>|| ষড়রিপুর চক্রব্যূহ ||

      988>|| ষড়রিপুর চক্রব্যূহ ||

                      <------আদ্যনাথ---->

মানুষই শ্রেষ্ঠ জীব এই পৃথিবীর বুকে,

ষড়রিপু সেই মানুষকেই বশে রাখে।

ষড়রিপু ভিন্ন কোন শত্রুই নাই জগতে,

মানুষ অস্থির ষড়রিপুর মোহবশেতে।


কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, ও মাৎসর্য 

এই ছয় রিপু সর্বদাই মানুষের চরম শত্রু।

এই ছয় শত্রুর বাস মন আর হৃদয় মাঝে,

তাদের নিয়েই ঘর করা বিশ্বসংসার মাঝে।


ষড়রিপুকে যে করেছে বশ তার কোন 

শত্রুনাই জগতে।

পশু পাখি কীট পতঙ্গ সকলেই তুষ্ট তাঁর ভালবাসাতে।

ষড়রিপুর অদৃশ্য অমোঘ ছয় বন্ধনের কারনে,

মানুষ নিজেকে  নিজেই হারিয়ে ফেলে।


রিপুবন্ধনের আকর্ষণ থাকে যতক্ষন 

মানুষ পাপ কর্ম হতে মুক্ত হয়না ততক্ষণ।

ষষ্ঠ রিপুর ষষ্ঠ আকর্ষণের রঙিন স্বপ্ন,

মানুষ নানা অপকর্মে রয় গভীর মগ্ন।


আমরা প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিকে নিজের শত্রু বলে মনে করি,

তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করি তাকে হারানোর চেষ্টাও করি। 

কিন্তু আমরা আসল শত্রুকে চিনতে করি ভুল,

ষড়রিপুর চক্রব্যূহে পথ হারায়ে পাইনা কোন কুল।


শত্রু সর্বদা বিপথগামী  করার চেষ্টা করে

বিপথে চলার যন্ত্রনাও  দেয় বারে বারে। 

এই ছয় রিপু যন্ত্রনা দেয় বিপথগামী করে

এরা দুরে নয়  নিজের ঘরেই বাস করে।


এরা নিজের  হৃদয়ে  অবস্থান  করে, নিজের অজান্তেই নিজের সর্বনাশ করে। 

আমরা তাকে বশ করার চেষ্টাই করিনা,

এই রিপুকে চিনেও চিনতে পারিনা।


ছয় রিপু বিজিত মানুষের বহির্জগতে কোন শত্রু নেই,

এমনকি কোন  হিংস্র জন্তু পর্যন্ত নাই।

এই ছয় রিপু প্রথমে বিবেককে ধ্বংস করে।

বিবেক বর্জিত জন কামান্ধ হয়ে কামনার  আগুনে পুড়ে মরে।


তার পরেই শুরু ক্রোধের খেলা

ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংসের খেলা।

ক্রোধ সর্বনাশা,বোঝেনা কোন ক্ষমা ধর্ম,

ক্রোধের অস্ত্র দন্ড,ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।


★★( কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন

বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়। )


ক্রোধের পরেই লোভ দেখায় জারিজুরি, 

আসলে লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী।

লোভীর জীবনে সুখশান্তি পাওয়াই ভার। 

কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার,


মোহ নিশ্চিত মনুষ্য হৃদয়ের দুর্বলতা,

মোহের মুক্তি ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা।

মোহে আবিষ্ট জনের থাকেনা মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ,

সে জন ধুলায় লুন্ঠিত, মৃত, থাকেনা জীবনের বোধ।


মদ অতিশয় মিথ্যা অহঙ্কার,

নাম,জস সকলই মিথ্যা অহঙ্কার

মদের অহঙ্কার ত্যাগ করা কঠিন প্রয়াস,

মনেপ্রাণে হতে হবে ঈশ্বরে দাসানুদাস।


মাৎসর্য বড়ই ভয়ঙ্কর পরশ্রী কাতর,

কারুর ভালো সহ্য করতে না পারা।

এ ভাবেই মনকষ্টে অপরের অনিষ্ট করা,

নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ করা

==========================

★1. কাম - যৌন সঙ্গকামনা, রিরংসা, যৌনক্ষুধা। (Sex urge)

★2. ক্রোধ - রাগ, উত্তেজনার বশীভূত হওয়া। (Anger)

★3. লোভ - লালসা । (Cupidity)

★4. মোহ - মায়া, বিভ্রম । (Illusion)

★5. মদ - অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব। (Arrogance)

★6. মাৎসর্য - পরশ্রীকাতরতা, অন্যের ভালো দেখতে না (Envy)

======================

      ★----কাম----★


#কাম অর্থ রিরংসা, যৌনক্ষুধা। 


কাম বলতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই ইন্দ্রিয়সুখ, কামেচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়। কাম হল মানব জীবনের চারটি লক্ষ্যের একটি এবং এটিকে হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনের পর্যায়গুলিতে পূরণ করার জন্য প্রাথমিক প্রয়োজনগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।


চারটি পুরুষার্থ হল:

●ধর্ম: "(ধর্মীয় ও সামাজিক) নীতিবোধ, আধ্যাত্মিক ও আনুষ্ঠানিক কর্তব্যকর্ম।

●অর্থ: "(জাগতিক ও অর্থনৈতিক) প্রগতি।"

●কাম: "(পার্থিব) সুখ।"

●মোক্ষ: "(আধ্যাত্মিক) মুক্তি।"


======================

★--ক্রোধ--★


#ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংস---

 ক্রোধ সর্বনাশা,

ক্রোধ বোঝেনা কোন ক্ষমা,

ক্রোধের অস্ত্র দন্ড।

ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।

ক্ৰোধী বোঝেনা ক্ষমা কত সুন্দর।

বোঝেনা ধর্ম ও সত্য ততোধিক সুন্দর।

ক্ৰোধীর ক্রোধ প্রতিশোধেও হয়না পরিসমাপ্তি।

ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ বড়ই কঠিন,

ক্রোধ নিয়ন্ত্রনে ক্ষমা করার শক্তি অর্জন

একান্ত প্রয়োজন।


(কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন

বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়।)


============================

★--লোভ--★

#লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী । 

যে ব্যক্তির চরিত্র ঠিক নেই তার ব্যক্তিত্ব,  মর্যাদা , মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ পথের ধুলায় লুন্ঠিত সে জীবিত অবস্থায় মৃত ।

লোভী কখনও সুখ শান্তি পায়না ।

লোভকে বৈরাগ্য দ্বারা সংযত করা যায় বা আয়ত্বে রাখা যায়। 

তাই গীতায় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার।

====================

 ★---মোহ---★

#মোহ হচ্ছে হৃদয়ের দুর্বলতা ।

কোন কিছুর লাভ বা ক্ষতিতে হৃদয় যখন ভারাক্রান্ত হয় বা দুর্বল  হয় তখন তা মোহ সৃষ্টি করে । 

প্রকৃত পক্ষে কোন কিছু আমার নয় এবং কখনও আমার  ছিলো না। 

না আমি সঙ্গে এনেছি না আমি সঙ্গে নিয়ে যাব । 

চিরদিন কারও সঙ্গে আমার সম্পর্ক স্থায়ী হবেনা ।

এই তবে কেন অনিত্য বস্তুতে নিত্য সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা । 

তাই নিত্য সম্পর্ক একমাত্র ইষ্ট বিনে হতে পারে না ।

অতএব ভগবানের সঙ্গে নিত্য সম্পর্ক স্থাপন করে তাঁর প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হয়ে বিষয় সংসার  মোহমুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ।

================

★---মদ-----★


 #মদ হচ্ছে মিথ্যা অহংকার ।এই জড় শরীরের উপাধি মাত্র । আমি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি , চাষি, ব্রহ্মচারী , গৃহস্থ, সন্যাসি , ব্রাহ্মণ, ধননবান রুপবান ইত্যাদি । এগুলি সবিই মিথ্যা অহংকার ।কিন্তু আমিত এই শরীর নই আমি ভগবানের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ চিন্ময় আত্মা এবং ভগবানের নিত্যদাস । এটাই আমার প্রকৃত পরিচয় ।যখন কেউ ভগবানের দাসত্য স্বীকার করে তার আর মিথ্যা অহংকার থাকেনা ।

======================

★------মাৎসর্য-----★


  #মাৎসর্য হল অন্যের ভাল দেখতে  না পাওয়া বা পরশ্রী কাতরতা ।কেউ ভালো খেলে ভালো পড়লে সহ্য হয়না । তখন মনের ভীতরে একটা যন্ত্রনা অনুভব করে তার অনিষ্ট করার চেষ্টা করা । তাতে সে কোন ভাবেই  সুখী হয়না । নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা।অন্যকে গর্তে নামানোর আগে থেকে নিজেই গর্তে নামে।


"কাম কৃষ্ণ কর্মার্পণে      

ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে

লোভ সাধু সঙ্গে হরিকথা, 

মোহ ইষ্ট লাভ বিনে        

মদ কৃষ্ণ গুন গানে  

নিযুক্ত করিব যথাতথা ।।"

                                                                                                                ||| "হরিবোল-- হরিবোল" |||

     <-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-------->

*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-


Saturday, July 15, 2023

987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ ||+ 1

987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ  ||

987/1>|| সে থাকে অন্তরে ||

===========================

 987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ  ||

               <----আদ্যনাথ---->

একমাত্র মানুষের মধ্যেই আছে পাঁচটি  অমূল্য গুন ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ, 

মানুষ সেগুলি পায় বিনামূল্যে।

কিন্তু ব্যবহার করতে জানতে হয়।


যে বোঝে সেই খোঁজে,

যে খোঁজে সেই পায়

যে পায় সেই ধন্য হয়।


পেয়ে যায় সহজে,

স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কিন্তু

ব্যবহার করতে জানতে হয়।

নচেৎ সকলই বিফলে যায়, 

জীবনটাই ব্যর্থ হয়।


1>জ্ঞান::--জ্ঞান সবথেকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ।


2>ধৈর্য্য::--সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র।


3>বিশ্বাস::--শ্রেষ্ঠ নিরাপত্তা।


4>হাসি::--সবথেকে কার্যকরী টনিক।


5>সততা::--সবথেকে বড় গুণ।

      <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

  987/1>|| সে থাকে অন্তরে ||

              <---আদ্যনাথ----->

মানুষের অন্তরে  মানুষ বিরাজিছে 

খোঁজে যে জন সে-ই পায় তারে নিজে।

চাওয়া পাওয়ার পথে গেলে সহজে মেলে,

মনের ব্যাকুলতায় খুঁজেপাওয়া যায় তাঁরে।


জানি জানি মানুষই খুঁজে পায় তাঁরে,

সহজে পেয়েছে সে আমি জানি তাঁরে।

খুঁজতে হবে জানতে হবে আদর করে বুঝতে হবে,

একান্ত ভাবে খুঁজলেই পাওয়া যাবে তাঁরে।


কতো মানুষই তো খুঁজে পেয়েছে তাঁরে

একটু চেষ্টা করলেই নিশ্চই পাওয়া যাবে।

তাঁকে খোঁজা যে সহজ,সে থাকে রাখাল বেশে।

তাঁর নামটি লেখাআছে লতা পাতা বৃক্ষ শাখে,

দূরে নয় সেজে কাছেই আছে

নিজ অন্তরে খুঁজতে হবে নিজে।

যে বোঝে সেই ব্যাকুল হয়ে খোঁজে,

মন ব্যাকুল হলেই পাওয়া সহজ হবে।


তাকে ধরে রাখতে হবে নিজের অন্তরে,

তাঁকে পেলেই সকল চাওয়া পাওয়া হবে।

আসলে অটল-বিশ্বাস রাখতে হবে মনে,

বিস্বাস থাকলেই পাওয়া যাবে তাঁকে।


সেজে অন্তর মনেরই সখা,

মনকেই চড়ায় আনন্দ কাননে,

সুশোভিত মন রূপ নন্দনকানন,

সে সদাই থাকে অন্তরমাঝে।


তাঁকে খুঁজতে হয় একান্ত  নিজের মতন করে ব্যাকুল হয়ে,

যেমন শিশুর কান্নায়  মা দৌড়ে আসে

সবকাজ ফেলে রেখে।

<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================







986>|| ক্ষুদ্র জীবন ||

 


  986>|| ক্ষুদ্র জীবন ||

        <----আদ্যনাথ--->

জীবন যখন সত্য 

মৃত্যু ও নিশ্চিত সত্য।

সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্বেই কাটেযায় বেলা,

আসা যাওয়া সৃষ্টির অপরূপ খেলা।


আসা যাওয়ার চক্রব্যূহ বড়ই জটিল,

কার আয়ু কতক্ষন বোঝাই মুস্কিল।

জন্মিলে মরিতে হবে এটাই সত্য বটে

মৃত্যুই শেষ নয় আবার জন্মিতে হবে।


জীবন চক্র চলতে থাকে অনন্তকাল,

কালের ইচ্ছাতেই জন্ম মৃত্যুর কাল।

ঈশ্বরের ইচ্ছাতে ই চলে জাগতিক খেলা

সৃষ্টি আর ধ্বংস প্রকৃতির খেলা।


মৃত্যু আর ধ্বংসেই প্রোথিতহয় নুতন সৃষ্টির বীজ,

বিশ্বপ্রকৃতির উদার গর্ভেই লুক্কায়িত সৃষ্টির বীজ।

ক্ষণজীবী মানুষ প্রকৃতির হাতে পুতুল মাত্র,

প্রকৃতির অমোঘ শক্তির প্রকাশ দেখি সর্বত্র।



মহাকালের অদৃশ্য অন্তহীন চক্রব্যূহে

ঘূর্ণায়মান কালের চক্র সময়ের শাসনে বাঁধা।

অতিক্ষুদ্র ক্ষণজীবী মানুষের মনে অনেক আশা,

আশা, প্রত্যাশার স্বপ্ন আজ শুধুই বুকভরা  হতাশা।

যেখানেই দেখি প্রতিচ্ছবি আয়নায় কিংবা জলে,

আজ সকল কিছুই কেমন যেন ঘোলাটে লাগে।


চারিদিকে ক্ষুধা,তৃষ্ণা,মৃত্যুর ভয়,হানাদেয় বার বার,

তবুও চলতে হবে সম্মুখে প্রসারিত পথ, আলো-ছায়ার অন্ধকার।

জীবনের ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলো ভাবলেশহীন 

হয়ে পড়ে বারবার।

      <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

Tuesday, July 11, 2023

985> || বৈশাখের দুপুর বেলা ||

 985> || বৈশাখের দুপুর বেলা ||

               <---আদ্যনাথ---->

বৈশাখের ঠিক দুপুর বেলা

আমবাগানে জমতো খেলা।

কাল বৈশাখীর ঝড়ের বেলা,

আমকুড়োনোর দুপুর বেলা।


আনন্দের সেই বৈশাখীর দিনে,

হঠাৎ আসে কালবৈশাখী বৃষ্টি নিয়ে।

আমবাগানে সেই বৃষ্টিভেজা,

দিনভর গাছে গাছে ভীষণমজা।


ছুটির দিনে আমরাই বনের রাজা,

দিনভর আমের ডালকে বানিয়ে ঘোড়া।

আজও মনেপরে স্বপ্নে ঘেরা রাজা সাজা,

ছেলেবেলার সেই দিনগুলির মজা।


আমের ডালে ঝুলিয়ে দড়ির দোলনা,

দোল খাওয়া  সে এক মজার খেলনা।

রোজ দুপুরে আমগাছের স্নিগ্ধ ছায়ায়,

দোল খাওয়া আজও মনকে ভাবায়।


মনে ছিল আনন্দ  উদ্যম অফুরন্ত,

সে দিনের শিশুমনে ছিল সাহস একান্ত।

সকলে মিলে মনের সুখে আম কুরাই,

আসুক-না ঝড়-ঝঞ্ঝা থোড়াই ডরাই।  


বৈশাখের বিকেলে আকাশ পানে,

যখনই মেঘজমতো ঈশানকোনে,

বুঝতাম ঝড় আসবে ভীষণ বেগে,

তখনি ছুটে যেতাম আম বাগানে।


জানতাম ঝড় আসবে সাথেনিয়ে বৃষ্টি,

ঝড়ের দোলাতেই হবে আমের বৃষ্টি,

তখনি আম পড়তো উঠান ভরে।

আমরা আম কুরোতাম কোচর ভরে।


কাঁচা আমে নুন মাখিয়ে,

সাল পাতায় নিয়ে সাজিয়ে,

বৈশাখের দুপুর বেলা,

বাগানে বাগানেই চলতো খেলা।


মা রোজ রাগ করতেন আমাদের নিয়ে,

পিঠে পারতো মায়ের লাঠি ঘরে গিয়ে।

রাতের বেলা বাবা শুনলে আবার লাঠি

আজও যত্নে রাখা আছে সেই বেতের লাঠি।


কাঁচামিঠে আমের গন্ধে মাতাল

জিভের জল মানেনা সামাল।

সত্য বলি আমকুরোনো  ভীষণমজা,

সকলেই জানি আম ফলের রাজা


নানান স্বাদের নানান আম আর

কাঁচা মিঠের তুলনা ভার।

জ্যৈষ্ঠ এলেই ধরবে পাক

সে কথা না হয় বাকি থাক।


পাকা আমের মিঠে গন্ধে

প্রাণ ভরে খাও সকাল সন্ধে।

কতো রকম আছে আম

শুনলে বুঝি ছুটবে ঘাম।


আমকে বলে অমৃত ফল

বাংলার খ্যাতি আমের ফল।

আমপাকা অতি সুমিষ্ট,

সব দেবতাই আমে তুষ্ট।


     <---আদ্য নাথ রায় চৌধুরী---->

======================


984>|| কিছু মনের কথা || (1 to 5)

 


 984>|| কিছু মনের কথা || (1 to 5)


●1>|| মেনে নিতে হয় ||

●2> || জীবন কেমন---?||

●3> ||  মনের চাওয়া ||

●4>|| অটল বিস্ময় ||

●5>|| পথ চলা ||

  ======================                    

 1>|| মেনে নিতে হয় ||

                    <---আদ্যনাথ--->

ভালোবাসার  কিছু সম্পর্ক

যা ভালোবাসা নয়,

ভালোবাসতে  মন চায় না,

তথাপি একে অপরকে হারাতে চায় না।

এরই নাম কি বন্ধুত্ব! কি জানি!


কিছু জিনিষ কিছু না বুঝেও

সহজে মেনে নিতে হয়।

যেমন পুরোহিতের মন্ত্র

ও বউয়ের অনেক কথা।

দুটোই কিএছুই না বুঝলেও

স্বাদরে মেনে নিতে হয়।

যা বলবে তা একান্ত নম্র ভাবে

পালন  করে যেতে হয়।

একেই বলে সংসার।

যেখানে সং টাই সার,

বুঝতে না পারলে জীবন ভর

করতে হবে হাহাকার।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=====================

         


      2> || জীবন কেমন---?||

               <---আদ্যনাথ--->

জীবনকে যদি যুদ্ধ মনেকর,

তাহলে রক্তক্ষরণ হবেই।

জীবনকে যদি নদী মনে কর,

তাহলে সকলকে নিয়েই বইতে হবে।

জীবনকে যদি পাহাড় মনে কর,

তাহলে সকলের ভার বইতে হবে।

জীবনকে যদি পাপ মনে কর,

তাহলে পাপেই জীবন ভরে যাবে।

জীবনকে যদি দুঃখের আখড়া মনে কর,

তাহলে দুঃখের বোঝাই বইতে হবে।

জীবনকে যদি চন্দন গাছ মনে করো

তাহলে ঘর্ষণ মাত্র সুগন্ধ ছড়াবে।

জীবনকে যদি আনন্দ ময় মনেকর,

তাহলে সকলের সাথে আনন্দে দিন কাটাবে।

তাই জীবন ঠিক তেমন যেমনটি

তুমি ইচ্ছা কর।

ঈশ্বর কেবল তোমার ইচ্ছাশক্তিকে

বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করেন।

তাই তোমার ইচ্ছাতেই গড়ে উঠবে

তোমার জীবন।

কিছু করলেই অনুভন করাজায়।

জীবন যখন শুধুই নিজের জন্য

সেই জীবন পশু তুল্য।

জীবন যখন অপরের জন্য

সেই জীবনই হয় সমাজে ধন্য।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

   

=========================

            


        3> ||  মনের চাওয়া ||

                 <---আদ্যনাথ--->

জীবনের অনেক কিছুই ভুলবার নয়,

      তবুও ভুলে যেতে হয়।

মন যারে চায় ,সদা কি তারে পায়,

    মনের আবেগ মনেই লুকায়।


      যে আসে মনের ভুলে,

ক্ষনিকের ভালো লাগার কারনে,

তাকেই হয়তো মন বেশি পেতে চায়,

     চাওয়া পাওয়ার চাহিদায়।


মনের চাওয়া বিচিত্র অতি,

পেলেই খোঁজে লাভ ক্ষতি ।

নাপালেই ভাবনা হয় অতি,

অনেক কিছু হারালো বুঝি।


যাকে ভুলবার নয়,সেই বুঝি ভুলে যায়,

সময়ের প্রবাহে,নানান আরম্ভরে।

কখনো দাম্ভিকতার কারনে,

কখনো স্বার্থপরতার কারনে।


  মনকে কাঁদিয়ে কি লাভ,

  জাকে আদরে পাওয়া,

তাকেই নাহয় একটু আদর দিলাম,

ভালোবাসাকে হৃদয়ে রাখলাম।


আদরের সমাদর হয় ভালোবাসার টানে,

সেই টানটি ফুরিয়ে গেলে ভালোবাসা কাঁদে।

ভালোবাসা আদর উভয়ই হৃদয়ের ছোঁয়া,

এককে ছেড়ে অন্যকে যায়না পাওয়া।


ভালোবাসা নয়তো কেবল ছোঁয়া,

সে যে শান্ত হৃদয়ের স্বপ্ন দেখা।

কিছু স্পর্শে অতিশয় কাতর,

চাওয়া পাওয়ার উর্ধেই আদর।


 ক্ষণিক আদরের স্পর্শে,

হৃদয়ে পুলক জাগে নুতন হর্ষে।

 অবহেলায় ফিরায়ে দিলে তারে,

মন কাঁদে  আবার ফিরে পাবার তরে।


     সমাজ তো অনেক বলে,

নাপেয়ে হয়তো কেউ হিংসায় জ্বলে।

হয়তো ভালোবাসাকেই অশ্লীল ভাবে,

চায় না ভালোবাসাকে মর্যাদা দিতে।


ভালোবাসকে ভুলে জীবন কি বাঁচে?

ভালোবাসতেই মানুষ নুতন করে বাঁচে।

ভালোবাসা  সুন্দর হৃদয়ের আবেগ

 ভালোবাসতে দিতে হয় অনেক।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=======================

         

         4>|| অটল বিস্ময় ||

               <---আদ্যনাথ--->

কেউ আমাকে জানুক বা না চিনুক

      তাতে কি আসেজায়,

নিজের বিশ্বাস যদি অটল হয়

তবে সকল কিছুই পাওয়া যায়।


জানি নিজের মতন কেউনাই 

কেউ হয়না এই সংসারে।

তথাপি নিজের মতন পেতে চায়,

না পেলেই মন কাঁদে দুঃখ বেদনায়।


জানি জ্ঞানী আছেন বহুজন,

      নিকটে অথবা দূরে,

কাঁদলেই একটু আহা করে,

কেউ সুখ দেখলেই হিংসায় জ্বলে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=========================

          

     5>|| পথ চলা ||

            <---আদ্যনাথ---->


নিজেকে নিজে না চিনলে,

      কে দেখাবে পথ,

পথ চলতে রইবেনা কেউ সাথ,

সরল বা কঠিন যাই হোকনা সে পথ।


পথ তো কখনো কঠিন

কখনো মসৃণ,

সকলি নিজের চিন্তা ধারা

জীবন এগিয়ে চলার এক ধারা।


পথের চিন্তায় থেমে গেল 

হারাতে হবে অনেক,

এগিয়ে তো যেতেই হবে 

পথ চলা বাকি আছে যে অনেক।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=======================

983>|| unspoken ও কিছু কথা =(1--5)

  983>|| unspoken ও কিছু কথা =(1--5)


●1> || unspoken ||

●2> ||   মন কাঁদেনি ||

●3>|| শেষ ঠিকানা ||

●4>|| কি হবে আমার ||

●5>|| দেখেছি মৃত্যু ||

==========================

  1> || unspoken ||

            <----adyanath---->

I am staying with you, for my own sake,  but somewhen I am alarmed and worried myself thinking am I your burden in any way or a Person with very little essential work.


জীবনে কারুর বোঝা হতে চাইনি।

তথাপি বোধহয় বোঝাই হয়েই থাকছি। 

 চিন্তা, মায়া,ও একটু ভালবাসার টানে,

 জড়িয়ে নিলাম নিজেকে মোহ রূপ জালে।

 যে জাল ছিন্ন করা অসম্ভব জানি,

 শিশুর ভালোবাসাকে কেমনে ভুলি।


অনেক তো পেয়েছি, 

 যা-চেয়েছি সবটুকুই পেয়েছি।

জীবন তো দিয়েছে উজাড়করে,

অপূর্ন কিছু নাই ,সময় দিয়েছে মন ভরে।

 এখন শুদু অপেক্ষার দিন গোনা,

 মায়ার বাঁধনে বেঁধেছে এই মনখানা।


শিশুমন সদ্যফোটা ফুলের মতন,

শিশু মনকে করতে হয় আদর যতন।

মানব শিশু সত্যই ঈশ্বরের এক রূপ,

তার ভালোবাসা শ্রেষ্ঠ আনন্দ স্বরূপ।

শিশু মন এক তাল কাদামাটির মতন,

তাকে গড়ে তুলতে, করতে হয় যতন।


এই মন,শরীর চায়নি কারুর বোঝা হতে,

জানি চলে-তো যেতে হবে খালি হাতে।

কিকরে ভুলি পিছুটানের রুজ্জুকে,

অনেক না বলা কথা ভুলতে পারাকে।

মনযে বড়ই নিরালা ভাবনায় কাতর,

ব্যাকুল হৃদয়ে ভুলতেই হবে সকল আদর।

          <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

========================


    2> ||   মন কাঁদেনি ||

                     <---আদ্যনাথ--->

মায়ার সংসারে ভোগসর্বস্ব জীবন,

অলীক সুখের সন্ধানে ধায় সর্বক্ষণ।

বিষয়ভোগে উন্মত্ত চিত্ত,নিত্য ব্যাকুলায়,

কেবলি লালায়িত ভোগের লালসায়।


সত্য লক্ষ্যের প্রতি উদাসীন মন,

অতিশয় কণ্টক জর্জরিত জীবন।

জীবনসায়াহ্নে এসে ব্যাকুল জীবন,

বৃথাই বুঝি বয়েগেল জীবন যৌবন।


স্ত্রী সন্তান লাগি ভাবনা বৃদ্ধ কালে,

ঈশ্বরলাগি মন কাঁদেনি কোন কালে।

ঈশ্বর চিন্তায় কিঞ্চিৎ থাকতো যদি মন,

সত্যই ধন্য হতো এই অভাগার জীবন।


আজ শুনি এক মনে ঠাকুরের কথা,

যৌবনের ভাবনা ছিল ঈশ্বরচিন্তা বৃথা।

আজ মনে অনুভব করি ঠাকুরের কথা,

ঠাকুর বলেন

"লোকে মাগছেলের জন্য ঘটি ঘটি কাঁদে , কিন্তু ঈশ্বরের জন্য কে কাঁদে কখন

শ্রীশ্রীমা যেন সেই সুরটিই ধরিয়ে দিলেন !

জাগতিক জিনিষের প্রতি মোহান্ধ হয়ে 

আমরা ভগবানের পাদ-পদ্মসুধার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি !

তাই শৈশবে যদি কারো মধ্যে সেই ব্যাকুলতা দেখা যায় , সত্যিই ধন্য তার জীবন !

*মা খুব সুন্দর রুপক করে বলেছেন : 'শৈশবে যে তার অনাঘ্রাত ফুলের মত মনটি ঈশ্বরের পায়ে দিতে পারে সেই ধন্য* !'

মায়ার কারাগার রুপি সংসারে।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========+===============


    3>|| শেষ ঠিকানা ||

                   <--আদ্যনাথ--->

অজুহাত নয়,ইচ্ছা-মৃত্যুকে করি আহ্বান,

জানি নিষ্ফল, তবুও একান্ত আবেদন।

হয়তো সময়ের কারণে অশোভন,

তবুও নিজের ভাবনাকে করি যতন।


অনেক তো দেখলাম সুন্দরের ঠিকানা,

নিজেকেই খুঁজিনাই, দেখেছি দুনিয়া।

বুঝেছি, সুন্দর ভাবতে, ভালো থাকতে,

সাত দিনের জীবনের ভাবনা হয় ভাবতে।


কেন এতো রাগ, অনুরাগ,অহঙ্কার,

কিসের জন্য এতো চাহিদার পাহাড়?

জীবনতো স্রেফ সাত দিনের,

তাহলে এতো ফিকির কিসের?


দিন বদলাতে পারে যেকোনো মুহূর্তে,

দিনে,ঘন্টায়, সপ্তাহে হয়তো-বা মাসে,

মাস হলেও হতে পারে বৎসর,

বৎসর হতে পারে যুগের অন্তর।


যুগের পর যুগও বাঁচা যায়,

শরীরে না-হোক সকলের মনে।

কর্ম-ইতো ধর্ম বর্তমান কালে,

কর্ম করতে হয় অন্যের প্রয়জনে।


কে-কি বলবে, কি-ইবা ভাববে,

কিলাভ ওসকল ভাবনা ভেবে।

ভালোথাকা সুন্দর ভাবনার মনে,

আজকের দিনটিকেই রাখতে হবে মনে ।


ক্ষনিকের তরে আসা যাওয়া,

মোহ মায়ার অনেক ভাবনা,

সংসার ত্যাগীলেই কি হয় সাধনা,

সাধনা সে যে শুদ্ধ মনের ভাবনা।


সময়ে অসময়ে কেউযায় কেউ আসে, 

কেউ ভাবনার দুয়ারে আটকে থাকে।

যাওয়া আসা এক ডোরেই বাঁধা,

যেমন কৃষ্ণের বাঁশরীতে রাধা।


ভাবনা যদি সদাই থাকে সেই পদে,

যাওয়া আসা নিশ্চিত ভাবের পথে।

আমার মতন যদি হও নিতান্ত পথভ্রষ্ট,

বুঝবে অভাগার জীবন কিভাবে হয় নষ্ট।


বুঝিনাই কিছু দেখেছি অনেক কিছু,

ভাবনার দুয়ারে দৌড়েছি পিছু পিছু,

মনের আবেগের স্বপ্নে ছিলো ভাবনা,

কঠিন যতনেও খুঁজে পাইনি শেষ-ঠিকানা।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================

        

   4>|| কি হবে আমার ||

                  <---আদ্যনাথ--->

চূড়াশি লক্ষ জীবের, মানুষ বাদে কেউ করেনা হাহা কার।

বেদনার অনুভব আছে সবাকার 

মানুষের আছে লোভ আর অহংকার,

এক মাত্র মানুষই করে পয়সা রোজগার।

কিন্তু মানুষের পেটে ভরেনা কখনো আর।


পৃথিবীর এক মাত্র মানুষই মরে বার বার,

আমিও মানুষ,জানিনা কি হবে আমার।

কে-কি-ভাবে-কেন 

করবে আমার উদ্ধার।

ভাবনার জোয়ারে ভাসি বার বার,

কোথায় কুল কিনারা বুঝিনা এবার।

অথৈ সমুদ্রের মাঝে শুধুই নোনা জল,

পিপাসা মেটাতে নাই একফোঁটা জল।

ঈশ্বর,মহামানব কে উদ্ধারিবে আমায়

ভাবনার স্রোত গুলি মনকে নারায়,

তবুও বুক বান্ধি নিত্য নুতন আশায়,

চিন্তার পথগুলি কেবলি পথ হারায়।  <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

 ======================== 

                  

  5>|| দেখেছি মৃত্যু ||

                   <---আদ্যনাথ--->

দেখেছি জীবন, আনন্দঘন চিত্তে,

দেখেছি মৃত্যু, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।

সকলের শুভেচ্ছা ডাক্তারের আপ্রাণ চেষ্টায়,

যমদূত বাধ্য হল ফিরেজেতে শেষটায়।


মৃত্যুর সেই সন্ধিক্ষণের মুহূর্ত,

যমদূতের সেই অট্টহাসির মুহূর্ত।

বুঝিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার শর্ত,

নিজেই খুঁজে নিতে হয় নিজের সামর্থ।


বেঁচে থেকে দেখেছি তাবৎ

রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত জগৎ।

মৃত্যু পুরীর নিকষ কালো অন্ধকার,

তীব্রজ্বালা চিৎকার যন্ত্রনায় হাহাকার।


দিগন্ত অন্ধকারে যমপুরীর পাশা,

বিদেহী আত্মার মুক্তির আশা ।

যমদুয়ারে চিৎকার করে করা নাড়ে,

নিজেদের সকল অন্যায়ের স্বীকারোক্তি করে।


এখানে কে শোনে কার কথা,

যম-রাজের ইচ্ছাই যে এখানে শেষ কথা।

বেঁচে থাকতে যখন ছিল শুনবার কেউ,

অন্যায়ে বুক ফুলিয়ে যেন কেটে কেউ।


মৃত্যুতে, যম দুয়ারে, জ্ঞান চক্ষু খোলে,

জীবনে ন্যায়-অন্যায় কর্ম কে না বোঝে!

মৃত্যুর বীভৎস অন্ধকারে আর্তচিৎকার,

মনে করিয়ে দেয় স্বার্থকতা বেঁচে থাকার।


বুঝেও বুঝতেচাইনি কিছু, জীবনকালে,

অনুভবে জ্ঞান চক্ষু খুলেছে অন্তিমকালে।

মৃত্যুপুরীতে বুঝেছি জীবন সময়ের অধীন,

বুঝেছি মৃত্যুই সহজ বেঁচে থাকাই কঠিন।


জ্ঞানবুদ্ধি যাইহোক মৃত্যুই চিরসত্য,

বিশ্ব-সংসারে মানব জীবন চিরঅনিত্য।

জন্মের মুহূর্ত হতে অন্তিমের অপেক্ষা শুরু,

মৃত্যুরপরে পুনর্জন্মের অপেক্ষা শুরু।


চলার পথে সঙ্গি হয়তো অনেকে হবে

আবার অনেকেই হারিয়ে যাবে ।

কিন্তু অন্তিম যাত্রায় সাথি কেউ-ই হবেনা,

ভীত মনে প্রাণ খুলে আনন্দে বাঁচা যায় না।


খালিহাতেই আসা আর যাওয়া

জীবনখেয়া একাই বয়ে নিয়ে চলা।

মৃত্যুপুরীই বুঝি জীবনের শেষ ঠিকানা,

এখানে সকল অশরণ অশরীরী আত্মা।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================



Monday, July 10, 2023

982>|| শান্ত মনই শান্তির উৎস মূল ||

 982>|| শান্ত মনই শান্তির উৎস মূল  ||

                   <----আদ্যনাথ---->

নারীর রাগ আর অহংকার

সবকিছু ভেঙে করে চুরমার।

ভাঙ্গে নিজের ঘর,

ভাঙ্গে সন্তানের ঘর।

ভাঙ্গে ভালোবাসার সংসার,

ভাঙ্গে সকল চাওয়া পাওয়া দ্বার।


সবশেষে নিজে নিজেই করে হাহাকার,

জীবনের শেষদিনে কে সাতদেবে তাঁর?

এহেন ভাবনাতে মেটেনা উৎকন্ঠা,

কিভাবে কাটবে দিন সেটাই চিন্তা।

এক অহংকারে দক্ষের যজ্ঞ 

হয়েছে লন্ড-ভন্ড,

সেথায় মা গৌরীর জেদ রূপ অহংকার

করলেন নিজেই নিজের সর্বনাশ।


এক দম্ভে 'মা' বিভক্ত হলেন 51 খণ্ডে,

তথাপি প্রশমিত হয়নি তাঁর রাগ অহংকার এই ব্রহ্মাণ্ডে।

কালী রূপে করে চলেছেন অসুর সংহার,

তথাপি নাই কোন  চিন্তা নিজের সংসার।

শেষে দুর্গা রূপে ফিরিলেন ঘরে,

নিজেই দিলেন নিদার শান্ত মনে 

কার্য করো নীরবে একনিষ্ঠ মনে

ত্যাজিয়া রাগ,অহংকার,

আত্মসমর্পণ করো মাতৃ চরণে,

তবেই হইবে ইহজীবনের উদ্ধার।

। <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================


981>|| কিছু বলার ছিল ||

  982>|| কিছু বলার ছিল ||

           <--আদ্যনাথ-->

এইতো ক্ষণ,

কিছু বলার ছিল

বলতেচাই এই ক্ষণ।

কত যত্নে,কত চিন্তা,কত আদর দিয়ে

সাজিয়ে গুছিয়ে টব খানিরে

রেখে ছিলাম তারে গুছিয়ে।


যেতে হল দূরে কর্মের কারণে,

বহুদিন করিনি আদর তারে।

ভেবে ছিলাম প্রকৃতির হওয়া বাতাসে,

বেঁচে থাকবে আপন ক্ষমতা বলে।


হয়তো ছিল, পাইনি দেখা ফিরে এসে,

কেজেন তারে লয়ে গেছে তার গৃহে।

আমি আজও আছি অপেক্ষায়

একবার যদি সাক্ষাৎ মেলে।


একটু দেখার কিছু বলার ছিল

যদি তুমি শোন।

আমার দীর্ঘ প্রতীক্ষা আজ তিতিক্ষায়

পরিণত যেন।

আর কত দিতে হবে পরীক্ষা

আর কত দিন করবো অপেক্ষা?


প্রতীক্ষারে মেনে নিতে চাই

তিতিক্ষা যে বড়োই কঠিন।

বড় বেদনা দায়ক,

চাওয়া কি অপেক্ষা নিছক?

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================


Thursday, July 6, 2023

980>|| বলেছিলে আসবে || | ভালবাসার ফসিল( +1)

   980>|| বলেছিলে আসবে ||

980/1>|| ভালবাসার ফসিল ||

==========================

980>|| বলেছিলে আসবে ||

                   <-----আদ্যনাথ--->

ভালোবাসি যাকে 

মনচায় কিছু দিতে তাকে।

বিনিময়ে চাইনা কিছু,

চাই শুধু পূর্ণিমার স্নিগদ্ধ জোৎস্নারমতন 

হাসি টুকু থাকুক তার ঠোঁটে।


বসে আছি পার্কের চেয়ারে,

গাছের নিচে,

খোলা আকাশের নিচে,

জানিনা কখন চাঁদ উঠলো

কখন সন্ধ্যে হয়ে গেল।


গাছে বাঁদর গুলি,

চুপকরে বসে বোধহয় আমায় দেখছে।

বাচ্চা বাঁদর গুলি,

কখনো মায়ের কোলে,

কখনো গাছের ডালে ডালে,

লাফিয়ে বেরাচ্ছে।


বাঁদর গুলি কি,

চাঁদের আলোর অপেক্ষা করছে?

ওরা কি মনের আনন্দে আছে

আমাকে দেখেই হাসছে?


ধোবার গাধাটা পুকুর পাড়ে

একলা দাড়িয়ে ডাকছে।

ও কি ডাকছে নাকি হাসছে,

বোঝাই মুশকিল লাগছে।


সেদিনওতো বলেছিল আসবে,

তবেকি সেদিন

গ্রহণ লেগেছিল চাঁদে,

সেই পূর্ণিমা রাতে?


গোলাপটা শুকিয়ে গেছে,

পাতাগুলি ঝড়ে পড়ছে,

সেকি আর কথা রাখবে?

সেতো বলেছিল আসবে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================


980/1>|| ভালবাসার ফসিল ||

                <-----আদ্যনাথ--->

তোমরা যে বলো সুন্দর

সুন্দরের শোভা কোথায়?

সুন্দরকে খুঁজি ঘড়ের বাইরে

হোটেলে কিংবা বারে।


সুন্দর বাইরের কিছুই নয়

সুন্দর থাকে মনের ভিতরে।

সুন্দরকে খুঁজে নিতে হয় ভালোবেসে নিজের করে,

সুন্দরকে উপভোগ করাতে হয় আদর করে।

সেতো সকলের সাধ্য নয়,

সুন্দরকে ভাগ করে নিতে হয়।

সুন্দরকে ছড়িয়ে দিতে,

হাত বাড়িয়ে দিতে হয়।


যৌবন তো সমর্থ, 

প্রতিবন্ধীদের জন্য একটু হাসি

অথবা একটি ফুল

এগিয়ে দিলে দোষ কোথায়,

তারাও তো  আনন্দ উপভোগ করতে চায়।

কিন্তু উপায় কোথায়।

প্রতিবন্ধকতা কি যৌবনের

উল্লাসের অন্তরায়।

জানিনা কার ভাবনা কোন ফসিলে আঁকা আছে।

ভালোবাসা বুঝি আজ সংকীর্ণতায় হারিয়ে গেছে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================



Sunday, July 2, 2023

979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা || (1 to 3)


979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা ||

979/2|| SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিকের আড্ডা  ||

979/3>|| রথের মেলা স্মরণে SV2 আড্ডা ||

=============================

979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা ||

       <----আদ্যনাথ----->

         03 জুলাই 2023-----to fb+w-app


আড্ডা আড্ডা আমাদের আড্ডা,

SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিক কয় জনের আড্ডা।

যে আড্ডা রোজ শুরু সন্ধ্যায় যখন,

আমরা দল বেঁধে বসে নিজের মতন।


আমাদের আড্ডা চলে দুই ভাগে

পুরুষ ও মেয়েদের পৃথক গোল টেবিলে।

টেবিল বিহীন চেয়ারেই আমরা খুশি,

সান্ধ্য আড্ডায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি।


চিন্তায় আমরা নিশ্চই টাইম মেশিন,

জানা অজানায় খুঁজে চলি প্রতিদিন।

যার যখন ইচ্ছা সে তখনই চলেজায়,

অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চিন্তায়।


আমরা অতীত ও ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন,

কিন্তু ভুলবোনা বর্তমান অধিক গুরত্বপূর্ণ।

অতীত তো অতীত আর আসবেনা ফিরে,

ভবিষ্যৎকে  কে দেখেছে প্রত্যক্ষ করে।


আমাদের কিছুসময় কাটে নানাচিন্তায়,

কতো ভাবনার স্রোত বয়ে চলে আড্ডায়।

বুঝি সকলেই পেতেচায় শ্রেষ্ঠ আসন,

যৌবনে তো ছিলো যে-যার নিজের মতন।


আজকের আড্ডায় রূপ-রস-গন্ধ নাই,

আছে মনের কথা বলার একটু ঠাই।

সান্ধ্য আড্ডাই যেন এক নেশার টান,

সন্ধ্যে হলেই যেন মন করে আনচান।


এসেই খোঁজ কে এলো আর কে নয়,

তার পরে অপেক্ষার কাটে কিছু সময়।

সকলে আসলে আনন্দ অনুভব হয়,

কারুর অসুস্থতার খবরে নানা চিন্তা হয়।


অনেকেই চলে গেছেন ইহ লোক ছেড়ে,

সময়ে কেউ কেউ চলেগেছেন দূরে।

মোবাইল আছে তাই দূরত্ব কিছু নয়,

ভালোবাসার টানে দুরও নিকট হয়ে যায়।


আমাদের আড্ডায় নাই স্বার্থগন্ধময় পরিচিত কাহিনি।

আমরা সকলকে বন্ধুর মতন করে চিনি।

এই সান্ধ্য আড্ডা যেন একটু প্রাণ পাওয়া,

কিছু কথা বলে মনে একটু হালকা হওয়া।


আমার অনুপস্থিতি জানিনা কাউকে কেমন ভাবায়,

আমি যতো দূরেই থাকি আমাদের আড্ডা

আমাকে ভাবায়।

সন্ধ্যা হলেই শরীরে না হলেও মন পৌঁছে যায় SV2এর আড্ডায়,

তাইতো আড্ডা ছাড়া দিনটিই বৃথা যায়।

   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=============================


979/2|| SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিকের আড্ডা  ||

          <---আদ্যনাথ---->

আড্ডা জমে হাসি গল্পের মজাতে,

কিছুদিন জমেছিল তাসের আড্ডাতে।

সেদিন হঠাৎশুরু চা-টাএর যোজনা,

দামবাবুর মনের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা।


তারপর  চা-টাএই মননিবেশ বেশি,

মনে হয় চা আর স্নাক্সেই সকলে খুশি।

এবার শুরু চা-এর নানা পরিকল্পনা,

এভাবেই হল আড্ডার পরিমার্জনা।


এবার চায়ের আড্ডা জমাবার চেষ্টা,

চললো ফোনে ফোনে ভিড় জমাবার চেষ্টা।

কার উপস্থিতিতে বেশি ভিড়ের ফর্দ,

এমনি করেই পাল্টে গেল আড্ডার শর্ত।


নীরব অহঙ্কার সুপ্ত মনের গভীরে,

কেউ হয়তো ভাবনার জাল বোনে।

সান্ধ্য আড্ডার রকমফের প্রকার,

আসলে বুঝি  আভিজাত্যের অহঙ্কার।


এ-ভাবেই বুঝি জমে বাঙালির আড্ডা

মুখে কিছু না পড়লে কারুর মুখ চলে না।

আমাদের আড্ডা কিছু কথার কচকচানি,

দুইতিন ঘন্টা কিছু কথার টানাটানি।


বাঙালির নানান  বিখ্যাত আড্ডা,

যে আড্ডা ছিল সাহিত্য চর্চার আড্ডা।

সেই আড্ডা লেখা ইতিহাসের পাতায়,

যা আজও আমাদের সমাজকে ভাবায়।


সেই আড্ডার নির্যাস কতো সাহিত্যের ভান্ডার,

যা করে চলেছে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও উদ্ধার।

সেই আড্ডা ছিল সাহিত্যের রত্নখনি,

সে আড্ডাই বাংলাসাহিত্যের প্রাণ জানি।



আমাদের সান্ধ্য আড্ডার মূল কুশীলব 

কেউ নয়,

সময়ের সাথে কেউকেউ দূরে চলে যায়।

আমাদের সান্ধ্য আড্ডা রোজ  বসে কিছু কথা বলা,

আমাদের আড্ডার মূল মনখুলে কথা বলা।


আমাদের আড্ডা সিনেমা থেকে  ক্রিকেট কিছুই যায়না বাকি,

এভাবেই চলছে আমাদের সান্ধ্য চায়ের আড্ডা খানি।

এ-ভাবেই হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে আমাদের সান্ধ্য আড্ডা।

একদিন হয়তো বিখ্যাত হবে আমাদের সান্ধ্য আড্ডা।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

03 জুলাই 2023 দুপুর 12:11:24.

===========================


   979/3>|| রথের মেলা স্মরণে SV2 আড্ডা ||

            <----আদ্যনাথ---->

আজ আমাদের SV2 সিনিয়র সিটিজেন আড্ডায় পেলাম গরমাগরম পাপরভাজা আর গরম গরম জিলিপি তাজা।

রথের সন্ধ্যায় এমন মুখরোচক ভাজা,

মনে প্রানে হয়ে উঠলাম ভীষণ তাজা।


মনে পড়ে গেল ছেলেবেলার রথ দেখা,

বাবার হাত ধরে সেই রথের মেলায়,

চার ভাই মিলে ভাগাভাগি করে 

দুটি পাঁপড়ের ভাগ করে খাওয়া,


শেষে সেই বাঁদরের পিঠে ভাগ করা।

পরে চুল ছেড়া ছেড়ি আর মারামারি,

শেষে কেঁদে কেটে মা এর অনুশাসনে 

সমস্যার সমাধান।

কুমড়ো ভাজা বা আলু ভাজা দিয়ে,

সেই গোল গোল আলু ভাজা নিয়ে।

তখনতো বাড়িতে পাঁপড়ভাজা হতনা,

সে সকল এখন অবান্তর ভাবনা।


পাঁপড় ভাজা আর জিলিপি

পুরোনো দিনের কথা লিপি।

আজ পেলাম  আদর করে,

তাইতো সেদিনের কথা মনেপরে।


এমনি করেই আমাদের আড্ডার শ্রীবৃদ্ধি হোক,

এমনি করেই আমাদের স্মৃতি বর্ধক হোক।

শ্যামবিহারের আমরা কজন,

যেন থাকতে পারি হয়ে স্বজন।


আপনার লোক, বন্ধু-বান্ধব-পরিজন,

রোজ সান্ধ্য আড্ডার আমরা কজন।

আজ রথের মেলার সান্ধ্যা আড্ডাটা,

মনে থাকবে বহুদিন এই সন্ধ্যাটা।


সকলকে জানাই আমার শুভেচ্ছা,

শ্রীবৃদ্ধি হোক সকলের আর ভালো 

থাকার ইচ্ছা।

এমনি করেই চলুক নানান মুখরোচক ভাজা।

তবেইতো সকলের মন হবে স্বতেজ তাজা।

       <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

===========================

 

Thursday, June 22, 2023

978>|| ফিরে দেখা ||

        978>|| ফিরে দেখা  ||

                <----আদ্যনাথ---->

মনেপরে সেই দুর্দান্ত দিনগুলির কথা,

 বেরিয়ে পড়তাম যেথা খুশি সেথা।

একলাই থাকতাম মধ্য প্রদেশ,ছত্রিশ গড়, বা ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে।

চাকরিটাই এমনি ছিল যে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে সমস্ত ভারত বর্ষের পাহাড় জঙ্গল,

কোন শহরে খুব কমই থাকতে পারতাম।

সেই চাকরি ছেড়ে যোগ দিলাম ভারত সরকারের খনি বিভাগে।

এবারেও সেই শেষে যোগ দিতে হল কয়লার খনি অঞ্চলে, নুতন নুতন প্রজেক্ট বিশাল বিশাল দৈত্যাকার সব মেশিন তাদের ইরেকশন, সিস্টেম আপডেট, পিরিচালনা, ও দেখাশোনা করার দায়িত্বে।

সকল কিছু ভালোই চলছিল।

ধানবাদের কুশমুন্ডার সেই ফায়ার প্রজেক্ট

যেখানে মাটির নিচে কয়লার খনিতে আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টন কয়লা। বাগমারা ব্লক 2 ও মহুদা অঞ্চলের বিশাল বিশাল প্রজেক্ট।

রানীগঞ্জের গভীর কয়লার খনি।

দশ তালা এগারো তালা গভীর খিনি।

চাকরির শেষ 25 / 30 বৎসর কলিয়াতেই কেটেছে।

তাইতো যখন যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পেরেছি কেউ ছিলনা নিষেধ করবার।

আর কোথাও ঘুরতে যাবার ইচ্ছা হিলেই বেরিয়ে পড়তাম।

বন্ধুরা সাথ দিলে ভালো একটু হৈচৈ হতো,

 নাহলে একলাই বেরিয়ে পড়তাম,

মনের আনন্দে পাহাড়ে জঙ্গলে প্রকৃতির কোলে।

আজ কিন্তু বন্ধু খুঁজি নিজের তাগিদে,

মন চায় সর্বদা নুতন জায়গা খুঁজে নিতে,

একটু নিরিবিলি লোকালয় থেকে দূরে

ঘুরে বেড়াতে চাই নিজের মতন করে।

সময়ের তালে তালে জানি বয়স বেড়েছে,

মন কিন্তু সেদিনের মতনই সবুজ আছে।

সন্তানরা সকলেই নিজেরা প্রতিষ্ঠিত,

ওরা সকলে অতিমাত্রায় সতর্ক ও চিন্তিত।

ওরা জানে ছুট পেলেই আমি পালিয়ে যেতে পারি সেই পাহাড় জঙ্গল বনে বাদারে, নিরিবিলি কোন অজানা স্থানে।

তাইতো ওরা সকলে বার বার একলা বারহতে বাঁধ সাধে।

আজ রবিবার বেরিয়ে ছিলাম সেদিনের স্কুল জীবনের বন্ধুদের খোঁজ নিতে,

ফিরে আসলাম মন ভারাক্রান্ত হয়ে কারণ

ওরা অনেকেই চলে গেছে পরোলোকের পারে।

দিলীপ নিজেই বললো গত দশ দিনে চলেগেছে আরও চার জন ইহলোক ছেড়ে।

যার যখন সময় হবে তথা ডাক আসবে তাকে তো চলে যেতেই হবে প্রকৃতির নিয়মে।

তবে বুঝলাম সকলেই কেমন যেন নীরবে

চলেযাচ্ছে একটু তাড়াতাড়ি সব বন্ধন

ছিন্ন করে।

যারা আছে তাঁরাও  কেমন যেন হাঁপাচ্ছে

মনেহয় মতন ঝিমোচ্ছে।

প্রাণ আছে শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে অসুধ খেয়ে ঘুমোচ্ছে।

শুদু আমাকে ছেড়ে সকলের খবর রাখে,

আমি তো সর্বদাই থাকি দূরে দূরে  কি করে আমার খবর পাবে।

তথাপি মনে হোল ওরা কেমন যেন হারিয়ে গেছে, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।

দুই এক জন একটু স্বতেজ আছে কিন্তু প্রাণ খুলে হাসতেই ভুলে গেছে।

বাজার স্টেশনে দেখলাম মানুষ সেই আগের মতন দৌড়চ্ছে।

বাজার করে হাতে সাগ, তরকারির ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে চলেছে।

ওদের থামবার উপায় নাই,মনেহয় ওরা থামলে পৃথিবীটাই থেমে যাবে।

বাসে, ট্রেনে সেই উপচে পড়া ভিড়,

পথে দোকান দারদের হাক ডাকে অস্থির।

তখন তো এত অটো, টোটো ছিলোনা,

ছিলো  সাইকেল-রিক্সা,হাতে টানা রিক্সা।

আজ দেখলাম অটো, টোটোর বার বাড়ন্ত 

পথচলাই যেন ভীষণ মুশকিল একান্ত।

ওদের চলার গতি দুরন্ত।

দিন পাল্টেছে বেড়েছে মানুষ ও যানবাহন,

সংকীর্ণপথ কারণ পথ তো বাড়েনি তেমন।


চিরদিন কারুর সমান যায় না

খারাপ সময়ই চিনিয়ে দেয় মানুষ।

তাইতো খারাপ সময় না আসলে 

কি করে চিনবো কে ভালো কে মুখোশ পড়া ভদ্র মানুষ।

জল ভড়লেই বুঝিয়ে দেয় কলসির ছিদ্র কোথায় , 

আর বিপদ এলে বুঝিয়ে দেয় আপন মানুষ কোথায়।    


বহুদিন পরে নিজের পাড়ায় একটু ঘুরে বেরিয়ে দেখে শুনে ফাঁপাচ্ছি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলাম পরিশ্রান্ত হয়ে।


       

ক্লান্ত পথিক চলেছে ভাবনার বোঝা বয়ে,

ক্লান্ত বুঝি গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে।

ক্লান্তি মাখা শরীরে ঘামে সিক্ত বসন,

ক্লান্তির পথে খোঁজা একটু ছায়া তখন।

ক্লান্ত শরীরে ভাবনার বোঝাই ভারী,

ক্লান্ত মনে চিন্তার বোঝাই বেশি ভারী।


তবুও চলতেই হবে অনেক পথ বাকি,

এখনো আনেক কথাই বলা আছে বাকি।

আজ ওরা সকলেই বোধ হয় ক্লান্ত,

দিনের শেষে শ্রান্ত শরীরে মন অশান্ত,

কিছু বুঝে কিছু না বুঝে মনে মনে ক্লান্ত,

জানে শান্ত মনে চিন্তাই নিদান একান্ত।

ততক্ষণ যতক্ষন না আত্মসমর্পনে একান্ত,

নিজেকে নিজে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত।

ডুব দিয়ে নিজের মনের গভীরে, 

জট পাকানো ভাবনার গভীরে।

খুঁজে নিতে হবে নিজের শান্তি,

তবেই দূর হবে মনের সকল কান্তি।


 জীবন চলে জীবনের মতো,

জীবন সহজ নয়, জটিলও নয়।

কর্মই জীবনের পথ দেখায়,

অলস জীবন সর্বদা কঠিন হয়।


প্রতিদিন অনেক ভাবনাই ভাবি

জীবনকে  সহজ অথবা জটিল করি।

নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেকেই জড়াই,

তথাপি সর্বদা করে চলি নিজের বড়াই।

     || ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ||

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================


Wednesday, June 21, 2023

977>|| জগন্নাথ দর্শন ||

     977>|| জগন্নাথ দর্শন ||

                   <---আদ্যনাথ--->

       রথযাত্রায় দিব্য দর্শন,

       যুগের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ।

   হরিনাম সংকীর্তন সকলের মুখে,

   জগন্নাথ দর্শন সার্থক কলিযুগে।


  প্রভু আজ এলেন ঘরের বাহিরে,

  হাজার হাজার জনমানবের ভিড়ে।

   সুশোভিত রথযাত্রার প্রধান আকর্ষণ,

   জগন্নাথ দেবের মনমুগ্ধকর ভূষণ।

   

  যত দেখি প্রাণের প্রভুরে চোখ সরেনা,

  আরও কাছে পেতে চাই মন ভরেনা।

  প্রভু তিনজনে বসেন সদা হৃদকমলে,

  রথযাত্রায় প্রভুর দর্শনে মুগ্ধ সকলে।


  মানবের উদ্ধার কল্পে প্রভু সচেতন,

 কলিযুগে রথযাত্রায় প্রভুর আকর্ষণ।

 জাতি ধর্ম নির্বিশেষে দিতে সহজ দর্শন,

 প্রভুর অশেষকৃপা রথযাত্রায় নগরভ্রমণ।

        <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

============================


Saturday, June 17, 2023

976>|| জীবন যখন ক্লান্ত ||

       976>|| জীবন যখন ক্লান্ত  ||

                    <---আদ্যনাথ--->

এই জীবনটা বড়ই অদ্ভুত, হয়তো ক্লান্ত,

কেউ হঠাৎ হতে চায় অবধূত, শান্ত।

কেউ স্বপ্ন দেখেই মনে মনে ক্লান্ত,

কেউ ভাবনার বোঝা বয়ে ক্লান্ত।

কেউ কাজ করতে করতে ক্লান্ত,

কেউ আরাম করতে করতে ক্লান্ত।

কেউ ভালো থাকার উপায় খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত,

কেউ ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত।

 

কেউ ভালবাসা খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত,

কেউ বিচ্ছেদ বেদনায় ক্লান্ত।

কেউ অশান্ত মনের ভাবনাতে ক্লান্ত,

কেউ অস্থির মনের চিন্তায় ক্লান্ত।

কেউ প্রচন্ড তাপদাহে  ক্লান্ত,

কেউ সারাদিন এসিতে থেকে ক্লান্ত।

কেউ নিজের নাম কুড়োতেই ক্লান্ত,

কেউ নিজেই জানেনা কেন ক্লান্ত।


কেউ জানিনা কেন আমরা আজ ক্লান্ত,

কেউ বুঝিনা কিসের বোঝা বয়ে ক্লান্ত।

কেউ হয়তো ভাবনার খোঁজেই ক্লান্ত,

কেউ হয়তো বুঝেও চুপ থেকে ক্লান্ত।

কেউ হয়তো অনেক জেনেই ক্লান্ত,

কেউ হয়তো কিছু না বুঝেই ক্লান্ত।

কেউ হয়তো আকাশ কুসুম চিন্তায় ক্লান্ত,

কেউ হয়তো স্বপ্নরের আবেশে ক্লান্ত।


সকল ক্লান্তির একদিন হবে অবসান,

শেষের তরীর অপেক্ষায় শান্ত সেই শ্মশান।

যেথায় মিটবে সকল বেদনা মান অপমান

সেদিন খাকবেনা কোন আদান প্রদান।

থাকবেনা লেন দেন,আর রাগ হিংসা দ্বেষ,

সবশেষে অপেক্ষা কেবল নিরাবরন বেশ।

এসেছি খালিহাত যেতেহবে খালিহাত

মাঝে আমার আমার করেই কেটেবে দিন রাত।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================

Friday, June 16, 2023

975>|| ব্যস্ত জীবন ||

975>|| ব্যস্ত জীবন ||

            <---আদ্যনাথ--->

ক্লান্ত আমি ক্লান্ত তুম 

ক্লান্ত প্রকৃতি,

সৃষ্টির মাঝে কৃষ্টিকে জিইয়ে রাখতে,

ক্লান্ত ব্যস্ত সকল সৃষ্টি।


সৃষ্টি সুখের আল্লাদে

সকলে মাতোয়ারা প্রকৃতির ফাঁদে,

মনের তুষ্টি হয় না বুঝি অল্পতে 

সদা ব্যস্ত মনের লালসা পুরাতে।


ক্লান্ত হয়ে শ্রান্ত শেষে,

ঘুরে মরা সময়ের ফাঁদে।

কোনটা ছেড়ে কোনটায় লাভ,

আরও পাবার আশায় সজাগ।


চাওয়া পাওয়ার শেষ যে কোথায়,

ঘুরে মরা হেথায় হোথায়,

চাওয়া পাওয়া তুচ্ছ ব্যাপার

আসল খোঁজা নিজে কোথায়।


সমস্যাতেই জীবন ব্যতিব্যস্ত

খুঁজতেই জীবন অবিনস্ত,

জানা আছে সমস্যার যেমন আছে

সকল সমস্যার সমাধানও আছে।


সমস্যার সমাধান খুঁজতেই 

বেঁচেথাকা সুখ খুঁজে পাওয়া,

সমস্যা নাথকলে প্রেরণা কোথায়!

প্রেরণাই আশার আলো দেখায়।


আশাইতো পথ খুঁজে নেয়

আলোর দিশা খুঁজে দেয়,

এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে

নিত্য নুতন স্বপ্নে মন রাঙিয়ে চলে।


যৌবনের পরেই জীবন ঢলেপড়ে

ক্লান্তি বুঝি অবসাদে ভরে,

চাওয়া পাওয়ার শেষ যে কোথায়,

খুঁজতেই পৌঁছে যাওয়া শেষ সীমানায়।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================


Sunday, June 11, 2023

974>|| দুইদিনের জীবন || 974/A>|| আসা আর যাওয়া ||

 974>|| দুইদিনের জীবন ||

974/A>|| আসা আর যাওয়া ||

========================

974>|| দুইদিনের জীবন ||

      <----আদ্যনাথ---->

এসেছি দুইদিনের তরে,

কি হবে আচার বিচার করে।

অন্নময়কোষের এই ক্ষুদ্র জীবন,

বাঁচার স্বার্থেই নিত্য অন্ন গ্রহণ।


এইযে এতসুন্দর এই পৃথিবী,

চমৎকার যাকিছু দেখছি,

কেউ হাসছে কেউ কাঁদছে,

প্রকৃতির খেলায় সবাই মেতে আছে।


সকলই হারিয়ে যাবে দিন দুই পরে,

জানিনা কে যাবে কবে কি করে!

আজকের সুখ দুঃখ থাকবেনা কাল

সকল কিছুই গ্রাস করবে ওই মহাকাল।

     

মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বাঁচার লড়াই,

দিন প্রতিদিন সর্বদা নিজের বড়াই।

ভালো আর মন্দের কে করে বিচার

সকল নষ্টের মূল নিশ্চিত অহঙ্কার।


সকল প্রাণী কুল আর স্থাবর অস্থাবর,

সকল কিছুই নশ্বর এই দুনিয়ায়।

তবুও রাগ,দুঃখ,অহংকার মনে মনে,

কিছুই রইবেনা খানিক সময় পরে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================


    974/A>|| আসা আর যাওয়া ||

                   <----আদ্যনাথ---->

দুদিনের তরে আসা কিছু কর্ম করা,

হঠাৎ বুঝি সকলকে কাঁদিয়ে যাওয়া।

নিজে কেঁদে আসা সকলকে হাসিয়ে,

হঠাৎ চলে যাওয়া সকলকে কাঁদিয়ে।


স্বর্গলোক,মর্তলোক সবই এইখানে,

কর্মঅনুসার জন্ম বোধহয় পরের জনমে।

প্রকৃতির লীলা খেলা ভাবনার অতীত,

একলা মনের নিরলস ভাবনা খানিক।


কর্মের জন্যই কর্ম করা উচিত হয়,

নিস্বার্থপরতা,প্রেম,সততা,সত্য,

এগুলো শুধুই নীতিকথা নয়,

এগুলি আমাদের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হয়।


অহঙ্কার ভুলতে পারা কঠিন ত্যাগ বড়,

সকলকে আপন করা মহৎ গুণ বড়।

কেন করি কারুর উচিৎ অনুচিত বিচার,

নিজগুনে করলে ক্ষমা শ্রেষ্ঠ বিচার।


বাঁচার জন্য কিছু কর্ম করতেই হয়,

বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতেই হয়।

নিস্বার্থ কর্মেই অধিক লাভ হয় বটে,

মৃত্যু দাঁড়িয়ে সম্মুখে অটল মনরথে।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================


Wednesday, June 7, 2023

973>|| চা-এর মজা মাটির ভারে ||

  973> || চা-এর মজা মাটির ভারে ||

                <----আদ্যনাথ--->

চায়ের আসল মজা পোড়া মাটির ভারে,

মাটির ভারে চা-এর স্বাদ বহুগুণ বাড়ে।

প্লাস্টিকের চায়ের কাপ বিষাক্ত জানি,

মোম দেওয়া কাগজের কাপেও বিষাক্ত অতি।


আমারা সকলে আর সুধী জন, 

আজ হতেই করুণ কঠোর পন,

চা-পান অবশ্যই করবো পোড়ামাটির ভারে

নচেৎ স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলে খেলা হবে।


মোম দেওয়া চায়ের কাপ করবো বর্জন

প্লাস্টিকের কাপহতে সতর্ক সর্বজন।

আর স্বাস্থ্য নিয়ে করবোনা অবহেলা,

পোড়ামাটির ভারেই চা পান  এইবেলা।


চীনামাটি  বা পোরসেলিন উৎকৃষ্ট জানি

প্লাস্টিক ও কাগজের কাপ স্বাথের হানি।

আজ হতেই করুন সুন্দর থাকার পন,

অবশ্যই সুন্দর রাখতে হবে শরীর ও মন।


মাটির ভাঁড়ে চা পানের ভাবনা,

অতি সুন্দর মনের পরিকল্পনা,

চায়ে পোড়া মাটির মিষ্টি সুবাস,

চা পানে নুতন মেজাজের আশ্বাস।


মাটির ভাঁড়ে চায়ের বাড়ে পুষ্টিগুণ,

নানান খনিজ, ফসফরাস, আয়রন,

আর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মিশ্রণ,

ভাঁড়ে চা সুস্বাদু হবার আসল কারণ।


চা খুবই উপকারী মাটির ভাঁড়ে,

চা পানেই ক্লান্তি দূর করে,

মাটির ভারে চা, জল,দুধ

পেটের নানা সমস্যা করে দূর।


চা-য়ে পোড়ামাটির সেই সুবাস,

চুমুকে চুমুকে আনন্দের আশ্বাস।

বারোমাস দিন চা পানের নাওয়াজ,

এমন চা পানেই আনে খুশির মেজাজ,

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================।

Wednesday, May 24, 2023

972>|| স্মৃতি রোমন্থন || +| ঘটক বাবুর স্মরণ সভা ||

 972>|| স্মৃতি রোমন্থন || + || "৺অমরনাথ ঘটক বাবুর স্মরণ সভা ||

            21/05/2023

চলেগেলেন আমাদের মনের মানুষ,

অমরনাথ ঘটক বাবু ঈশ্বরের দুনিয়ায়।


(হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন

গত শুক্রবার 19/05/2023 রাত্রি 11টায়। )


দিন  ফুরিয়ে গেলেও স্মৃতি রয়ে যায়।

এমনি করেই দিন গুলি ফুরিয়ে যায়,

দিনে দিনে আমাদের সান্ধ্য আড্ডায় সংখ্যা কম হয়ে যায়।


যার অনুপস্থিতি মনকে ভাবায়,

সে যে আপনজন তাই মনকে কাঁদায়।

এমনি ভাবনার দোলায় দিন বয়ে যায়,

ক্ষনিকের আসা যাওয়া ভবের দুনিয়ায়।


যে এসেছে তাকে যেতেই হবে,

আসে হাসিয়ে যায় যে কাঁদিয়ে।

আজ ভারাক্রান্ত মনে মানতেই হবে ভবের রীতি নীতি,

ঘটক বাবুর জন্য রইলো হৃদয়ের একান্ত শ্রদ্ধা ও প্রীতি।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

              21/05/2023

===========================


সত্যি বলছি এতো অল্প সময়ের পরিচয় ঘটক বাবুর সাথে,তবুও ওনাকে ভুলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

ঘটক বাবুর সেই মিষ্টি মধুর হাসি, এমন সুন্দর ব্যবহার কোনদিন ভুলতে পারবোনা।

তাইতো আমাকে ভীষণ ভাবায়।

প্রতিদিনের ছবি গুলি সজাগ আছে মনের মনীকোঠায়।

হৃদয়ের ঠিক মাঝখানটায়।

==================================


           || স্মরণ সভা ||


 || ৺অমরনাথ ঘটক বাবুর অন্তিম যাত্রার তারিখ::--

শুত্রুবার 19/05/2023::রাত্রি 11 টা।

                            

নমস্কার------,

উপস্থিত সকলকে জানাই আমার আন্তরিক  প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আর "৺অমরনাথ ঘটক বাবু"র

বিদেহী আত্মার শান্তি ও সদ্‌গতি কামনা করি।

আজ আমরা সকলেই গভীর ভাবে শোকাহত,

কাছের মানুষ ঘটক বাবুর স্মৃতিচারণে মর্মাহত।

তিনি আমাদের প্রিয় ও সুন্দর মনের মানুষ ছিলেন ।          

  স্মৃতি অর্থেই অতীত,

   কিন্তু তাঁর স্মৃতি অমলিন আছে 

   আমাদের হৃদয়ের মাঝে।

   যেমনটি ছিলেন তেমনটি  আছে।


আজ উনি স্মৃতি---,

স্মৃতিই ছবি,হৃদয় মাঝে স্মৃতির ছবি,

হয়তো ছবিই অনেক কথা বলবে,

এই স্মৃতিই আমাদের পথ দেখাবে।

তাইতো আজ এই স্মৃতিচারণ,

স্মৃতিরছবি স্মৃতিচারণের উৎকৃষ্ট মাধ্যম,

ছবি অনেক ভাবায়, কখনো কাঁদায়।

ভালো স্মৃতি গুলি আনন্দ দেয়,

হৃদয়ের মাঝে সুন্দর স্থান করে নেয়।  


 কত কথা হতো ওনার সাথে,

 আজ উনি নেই আমাদের মাঝে,

একথা ভাবতেই  কষ্ট হয় বুকের মাঝে,

রোজ আসতেন আড্ডায় সুন্দর শুভ্রসাজে।  

সেই মিষ্টি মধুর হাসির বাহার,

অপূর্ব  সুন্দর মিষ্টি ব্যবহার,

সেই কথাই মনে পরে বার বার,

ওনার অবর্তমানে আমাদের আড্ডাটাই অন্ধকার।        


ওনার ভাবনা আজও ভাবায়,

প্রতিদিনের ছবি গুলি সজাগ আছে মনের মনীকোঠায়,

সে গুলি কিছুই ভুলবার নয়,

সেই আনন্দের দিনগুলিও ভুলবার নয়।

এইতো সেদিনও ছিলেন,আমাদের সান্ধ্য আড্ডায়।

উনি গিয়েছিলেন মনসাদ্বীপের আশ্রমে,

রামকৃষ্ণ মিশন,কপিল মুনির আশ্রমে।

পরে আমাদের কাছে করেছিলেন বর্ননা,

ওনার মুখে সেই সাগরদ্বীপের বর্ননা।

অদ্ভুত সুন্দর ছিলো ওনার বাচনিক দক্ষতা।

ওনার মুখে মনসা দ্বীপের অপূর্ব বর্ননা, 

এই জীবনে কোনদিন ভুলবোনা।


আমরাও সেদিন সন্ধ্যায়,

 ঘুরে বেড়ালাম সাগর পারে,

কতো কিছুই দেখালেন

   আদর করে ওনার চোখে।           

উনি আমাকে বলেছিলেন আঁটপুর যাবেন

ওখানকার রামকৃষ্ণ মঠ দেখবেন,

আমার থেকে ঠিকানা নিয়েছিলেন।  


আমি বলেছিলাম--      

হাওড়া থেকে তারকেশ্বর, গোঘাট অথবা আরামবাগ লোকালে চেপে এক ঘন্টার পথ হরিপাল স্টেশন । সেখান থেকে  ভাড়া গাড়ি বা ট্রেকারে মাত্র 20 কি.মি. পথ। সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় আঁটপুর রামকৃষ্ণ মঠ।

ঠাকুর বোধহয় সেদিন শুনেছিলেন, 

ওনার মনের আগ্রহ ও ইচ্ছার কথা।

ঠাকুর নিশ্চই ছিলেন ওনার পাশে,

তাই বুঝি ডেকে নিলেন নিজের কাছে। 


উনি আজ চলেগেছেন,

চলেগেছেন অসীমের ঠিকানায়।

এই পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে,

চলে গেছেন শ্রী রামকৃষ্ণ লোকে,

ঠাকুরের পাদপদ্মতলে,

শতদল পদ্মেরমাঝে,

স্থান পেয়েছেন ঠাকুরের হৃদকমলে,

আমরা আজও ভুলিনি ওনাকে।        


মৃত্যু চিরন্তন অবিচল সত্য,সুন্দর, নির্মল, চিরশান্ত অতি শুভ্র,

মৃতের নাই কোন অহংকার, পাপ,রাগ, হিংসা,দ্বেষ, ভয়।

তাইবুঝি মৃত শরীরকে সাদা কাপড়ে 

আবৃত রাখতে হয়।


মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়,

কোনো কিছুই চিরদিন স্থায়ী নয়।

সময়ে সবই হারিয়ে যায়,

যে এসেছে তাকে যেতেই হবে নিশ্চয়। 


 স্মৃতিচারণে ভালো স্মৃতি হয়ে থাকার চেষ্টায় 

কিছু ভালো করার ইচ্ছায়,

মনের কথা কিছু লিখলাম এখানে,

আজকের এই সভাতে।

বেদনাহত হৃদয়ে আমাদের 

৺অমরনাথ ঘটক বাবুর স্মৃতিচারণ সভাতে।           


সময় আসে যায় নিজের নিয়মে,

বন্ধুর স্মৃতি চিরদিন রয়ে যায় বন্ধুর মনে।

সুন্দর স্মৃতি মনে আনন্দ দেয়।

তাইবুঝি---,

মানুষের থেকে তাঁর স্মৃতি সুন্দর হয়,

স্মৃতি থেকে যায় চিরদিন,---মানুষ নয়।

স্মৃতি মনে রাখা সহজ,

ভুলে যাওয়া অনেক কঠিন।    


কিছু স্মৃতি জীবনের পাথেয় হয়ে রয়ে যায়।

স্মৃতিচারণে চেনা জানার থেকে, 

গুণের স্মৃতিচারণেই পথ দেখায়।

সুন্দরের স্মৃতিচারণ যত হয়,

ততই ভালো স্মৃতিতে পরিণত হয় ।       


স্মৃতি কখনো সুন্দর মধুর 

আবার কখনো তিক্ততায় ভরা। 

কতো স্মৃতিতে ভরে আছে আমাদের 

সজাগ মস্তিষ্ক,

কোন স্মৃতি চিরদিন মনে রাখতে হয়,

কোন স্মৃতি সময়ে ভুলে যেতে হয়.

তবে সব স্মৃতি ভুলতে চাইলেও   

ভোলা সহজ নয়।        


আমরাও ভুলবোনা  ঘটক বাবুর স্মৃতি, 

ভুলতে পারবো না।

ভুলতে পারবোনা সেই মিষ্টি হাসি মাখা মুখ,

প্রতি দিন আমাদের বিকেলের সান্ধ্য আড্ডায়,

ভাগ করে নিতাম সকল সুখ দুঃখ, কথায় কথায়।

তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত।

তাঁর বিদেহী আত্মার চির শান্তি কামনা করি।     

তাঁর পরিবার পরিজন ও শুভানুধ্যয়ীদের

জানাই গভীর সমবেদনা।    

        <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

                    26/05/2023.

                     SV2----6/2A

=====================

 Amarnat Ghatak 

Died on dt ::--শুক্রবার 19/05/2023 রাত্রি 11pm

========================

  || ঘটক বাবুর স্বরণে ||

              <--আদ্যনাথ-->

যে গেছে অমৃতের পথে,

চির সত্য, অমৃতের খোঁজে,

বিদেহী আত্মা ঈশ্বরের স্নেহে,

সুন্দর মনোরম এই প্রকৃতির মাঝে।


অলক্ষ্যে আমাদের সকলের হৃদয় মাঝে,

চির সুন্দরের রূপ রস গন্ধের খোঁজে,

মন আছে জার সেইতো হৃদয় খোঁজে,

দ্বাদশ-দল-পদ্ম অনাহত চক্র মাঝে। 


ক্ষমা প্রার্থনা, দুঃখে দুফোটা চোখের জল।

ও সকলই ভালবাসার তাৎক্ষণিক ফল,

আসল তো হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের বিচ্ছেদ,

তার প্রকাশ কি সম্ভব শোক সভার মারফৎ!


জানিনা বুঝিনা আমার ক্ষুদ্র চেতনায়,

সকল যেন গুলিয়ে যাচ্ছে এহেন ভাবনায়।

তবুও ভুলতে পারবোনা ঘটক বাবুকে।

উনি আছেন আমার হৃদয়ের 

মনীকোঠাতে।


তবুও দুফোটা অশ্রু ঝরে গেল নীরবে,

বলে গেল অনেক কথা একান্ত নীরবে।

চোখ তো আত্মারই প্রতিচ্ছবি সত্য

ফুটিয়ে তোলে প্রানের সবটুকু তথ্য।


চোখ অনেক কথাই বলে ফেলে

নীরবে একান্ত নীরবতা রক্ষা করে

কখনো মনের ভাবনার থেকেও বেশি 

বলে,

হৃদয়ের ভাষা চোখ অনুভব করে।


মন ভারাক্রান্ত আপন জনকে হারিয়ে,

স্মৃতি গুলি আছে হৃদয়ে জড়িয়ে।

নমে প্রাণে সেই ভাবনার আদর করি,

ওনার বিদেহীআত্মার শান্তি কামনাকরি।

     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

              02/06/2023 

===========================




Sunday, May 14, 2023

971>|| ভূত ও মায়া ||

 

    971>|| ভূত ও মায়া ||


ভূত ও মায়া কোনটিকেই

চোখে দেখা যায় না,

ভূত এক কাল্পনিক ছায়া মাত্র,

মায়া মনের আন্তরিক ভালোবাসা মাত্র।


ভূত, মনের বিকারে ভয়ের কারণ, 

মায়া, মনের এক গভীর আবরণ।

ভ্রান্ত ধারণা যে ভূত ভরকরে,ঘাড়ে

চড়ে বসে,

সত্য কথা মায়ার বন্ধন অষ্টেপৃষ্ঠে ঘিড়ে রাখে।


কোন অজানা ভয়ে অন্ধকারে মনের ভ্রান্ত কল্পনাই ভূতের ছায়া।

কোন কিছুর উপর অতিরিক্ত টান বা ভালবাসাই হচ্ছে মায়া l

ভূতের কল্পনা ভীরু  মানুষের মনেই থাকে,

মায়া আর ভালোবাসার টানেই মানুষ বেঁচে থাকে।


ভূত যাকে ধরে সে যদি বুঝতে পারে,

ভূত তখনই পালায়।

মায়াচ্ছন্ন মানুষ যদি বুঝতে পারে

তাকে মায়ায় ঘিরে রেখেছে,

তা হলে মায়া তার নিকট থেকে তখনই পালায়।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================


Tuesday, April 25, 2023

970> || সুখ ||

            970> || সুখ ||

       <-----আদ্যনাথ--->

সুখ এক মরীচিকা ভাবনা কঠিন,

যার নাগাল পাওয়া বড়ই কঠিন।

যতই ভাবি, ভাবনার পরাগ মাখি,

চিদাকাশে আকুল হয়ে মনকে খুঁজি।

সুখ নামে সুখ পাখি থাকেরে খাঁচায়,

নাগালের বাইরে থেকে মনকে নাচায়।


ধরতে গেলে ধরা দেয়না,

ছুঁতে গেলেও ছোঁয়া যায়না,

অচিন সে পাখি কথাও কয়না,

জানতে গেলে জানান দেয়না।

খুঁজতে গেলে কেবলি ভাবায়,

অলীক স্বপ্নে কখনো মনকে কাঁদায়।



কেমন তরো রঙিন পাখি, 

কোন রঙে তারে মনে রাখি,

কোন ভাবনায় তারে মনে ভাবি,

কোন কাজলে তাকে নজরে রাখি!

দেশ বিদেশ ঘুড়লাম কতো মনের সাথে,

ভাবনা গুলো উড়ে বেড়ায় স্বপ্নের সাথে।


অচিন পাখির অচিন দেশ,

মনের সুখ কি তারই বেশ,

পশমে ঢাকা শীতল বেশ,হ

স্বপ্নে গড়া অচিন সে দেশ।

নাজানিরে কোথায় গেলে পাবো তাকে,

বুঝেও বুঝিনা কোন ভাবনার কোনফাঁকে।


আমার ভাবনা ভাবি আমি,

তোমার ভাবনায় ভাব তুমি,

কোন ভাবনায় ভাবলে খুশি,

কে জানে কে হবে কেমনে সুখী।

অচিন পাখির দেশটি কোথায় খুঁজি,

কোন ভানা তারে কেমন করে বুঝি।


কেউ বলে জাপটে ধরো মনের জোরে,

এই বুঝি পালিয়ে যায় যে ফুড়ুৎ করে।

যতই ভাবি ধরবো তারে আপন করে,

ধরতে গেলেই পালায় বুঝি ফাঁকি দিয়ে।

সুখ নামে সুখ পাখি থাকেরে খাঁচায়,

নাগালের বাইরে থেকে মনকে নাচায়।


সবাই খোঁজে, ঘুরে মরে, সুখের তরে,

সুখ নামে সেই অচিন পাখি ধরতে নারে।

ধরবো ধরবো করেই পাগল প্রায়,

স্বপ্ন দেখায় আর  মনকে ভাবায়।

সুখ নামে সুখ পাখি থাকেরে খাঁচায়,

নাগালের বাইরে থেকে মনকে নাচায়।


মনকে নাচায়, মনকে ভাবায়,স্বপ্ন দেখায়,

সুখ নামে সুখপাখি থাকে কোনখাঁচায়?

স্বপ্নে ভাবায়, মন যে খুঁজেই বেড়ায়,

ধরবো ধরবো করে নাগাল না পায়।

সুখ নামে সুখ পাখি স্বপ্ন দেখায়,

সুখ নামে সুখ পাখি মনকে নাচায়।

  <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

969/A || দেহদান || ও 969/B|| মৃত্যু ||

      

     969/A> || দেহদান ||ও  969/B>|| মৃত্যু ||


     969/A>|| দেহদান ||

          <---আদ্যনাথ--->

মৃত্যুই  শেষ কথা নয়,

মৃত্যুর পরেও অনেক সইতে হয়।

মৃত্যু তো কেবল দেহের বদল,

সময়ে,প্রকৃতির নিয়মে,একটু বদল।


বর্তমান জীবন অতীতের কর্ম ফল,

ভবিষ্যৎ জীবন বর্তমানের কর্মফল।

আত্মা কোন প্রকার সৃস্টবস্তু নয়,

আত্মা অমর,অচ্ছেদ্য,অজেয় অবিনশ্বর। 


গুরুত্বপূর্ণ নয় বেঁচেথাকার দিন গোনা,

জীবন তো শুধুই কিছু মুহূর্তের যোজনা।

গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীতে কাটানো মুহূর্তগুলো,

যে সময় গুলো একান্ত নিজের ছিলো।


জীবনের প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল,

মৃত্যুর পূর্বপর্য্ন্ত কতোমন ছোঁয়া হল।

যত মন ছোঁয়া ততোই অভিজ্ঞতা সঞ্চয়,

আর এভাবেই ভালোবাসা পেতে হয়।


ভালোবাসা সঞ্চয় হয়

পাপ-পুণ্যের বিচার হয়,

এভাবেই জীবনের পথ মসৃণ ও সুন্দর হয়,

জীবন কেবল নিজের জন্য নয়।


মরণোত্তর দেহদান মহৎ প্রচেষ্টা তবুও ভাবায়,

দেহদান প্রচেষ্টা মহৎ কিন্তু স্পষ্ট নয়।

দেহদান চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে ,

দেহদানের অঙ্গীকার সম্পুর্ন পরার্থে।


সত্যই এই দেহদান ভারী অদ্ভুত। 

বেঁচেথাকতে দেহদানের অঙ্গীকার করতে হয়,

যাঁরদেহ তিনি নিজে দান করতে পারে না,

মহৎ হলেও দাতার কোন নামই থাকেনা।


তথাপি দেহদানের হয় না কোন তুলনা,

অঙ্গদানেই মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকা।

অঙ্গদান বা দেহদান সকলের শ্রেষ্ঠ দান,

এহেন দানই মহত্বের বিচারে উৎকৃষ্ট দান।

     <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================


           969/B>|| মৃত্যু ||

               <---আদ্যনাথ--->

শ্বাস-প্রশ্বাসেই চাবি কাঠি জীবন ও মৃত্যু,

অন থাকলে জীবন, অফ হলেই মৃত্যু।

ইহলোক এবং পরলোকের সমাধান,

পার্থক্য শুধু শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবধান।


শ্বাস-প্রশ্বাস চললেই  জীবন আছে

ইহলোকের পরিচয়ের শরীর আছে।

শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে গেলেই জীবন শেষ,

পরিচিত শরীরটিরও রইবেনা কোন অবশেষ।


যতক্ষন থাকে শ্বাস ততক্ষণই আশ,

পঞ্চভূতের টানাটানি ফুরাইলে শ্বাস।

কতলোভ কতআশা প্রেম ভালোবাসা,

মৃত্যুতে সব হারিয়ে অসীমের পথে চলা।


মৃত্যু অপেক্ষা সুন্দর কিছুই নাই ভুবনে,

জন্মিলেই মৃত্যু নিশ্চয়,  চীরসত্য জগতে।

জগতে বেঁচে থাকা, যত সহজ আনন্দের,

পৃথিবীতে মৃত্যু ততোধিক দুঃখ ও কষ্টের।


তাইতো মৃত্যুই  শেষ কথা নয়,

মৃত্যুর পরেও অনেক পথ চলতে হয়।

মৃত্যুতো অভিনয়ের পট-পরিবর্তন,

মৃত্যুতো বার্তা কেবল নুতনের আগমন।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

========================


"মৃত্যু অপেক্ষা সুন্দর কিছুই নাই ভুবনে"

 অনেকেই এমন কথা মানতে নাও পারেন।


তবুও আমি বলবো 

মৃত্যুই একমাত্র চীর সত্য ও সুন্দর,

মৃত্যুর পথটি নিতান্ত সোজা,

আর যতদিন বেঁচে থাকা

পুরোটাই শান্তি-অশান্তি কর্তব্যের বোঝা।


জন্ম মৃত্যু এক ভ্রম মাত্র।

একে অপরের পরিপূরক,

জন্মিলে মরিতে হইবে,

মরিলেই জন্ম হইবে।


মৃত্যু ভয়ে ভীত যে জন,

মৃত্যুর আগেই বার বার মরে সেজন।

মৃত্যু এক প্রকৃতির শৃঙ্খলা মাত্র,

পুরাতনের স্থানে নুতনের আগমন মাত্র।

   <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

===========================




Sunday, March 5, 2023

968>|| ফানুস ||

 968>|| ফানুস ||

                 <--অস্যনাথ--->

সুন্দর হালকা শিতের সকাল

কুয়াশা নয় প্রদুশনের সকাল।

শুনতে পাই  ফুলেদের ক্রোন্দন

বৃক্ষ লতাগুলির নীরব আবেদন।


প্রদুশনের এমন জোয়ার

নদীর তুফান এলো আবার।

তিনে মিলে সাত কাহন

ভাগ্যবান এদের বাহন।

কত ভাবনা জাগে মনে

স্বপ্ন গুলীও আতঙ্কে জাগে।

প্রস্ফুটিত ফুলের গন্ধে সেদিনও

মাতিয়ে দিত দিগন্ত,

আতশবাজির এমন মেলায়

আমি অনাহুত ক্লান্ত।

রাত্রি জাগরণে কিংবা

গভীর ঘুমে,

স্বপ্ন গুলী দেয় হানা ভয়ঙ্কর।


সুন্দরতা চোখের নেশা, 

মনের ভালবাসা,

মনে লুকায়ে অনেক আশা।

শীতের সকালের মেঘ

আকাশে মাখনেরমত মসৃণ আবেশ,

সুন্দর চেতন চিন্তন অশেষ।


কেন যেন মন আকুলায়

বাড়ে বাড়ে দেখেছি ভয়ঙ্কর

তাই বুঝি জাগে চেতনা,

দিবা স্বপ্নের করুন রুক্ষ ভাবনা।


বিধির বিধান বড়োই ক্রুর,

ভাবনা গুলি করে চূর্ণ বিচূর্ণ,

মন উরেবেড়ায়  উদাসী হওয়ায়,

চেতনা প্রদীপের পেবল হওয়ায়।


নম চায় একটু শুভ চিন্তনের সঙ্গ,

যেন সন্ধ্যায় উড়ন্ত পতঙ্গ।

চঞ্চলতা ছুঁতে চায় আকাশ তরঙ্গ

ভাবনা গুলি যেন সন্ধ্যার পতঙ্গ।


অনেক নাপাওয়ার হতাশায় অন্ধ

পেয়েছি কালো নিশুতি রাতের গন্ধ।

সকল হারিয়ে যাবার বেদনায় স্তব্ধ

অশ্রু ভরা চোখ বোধ হয় অন্ধ।


মনেহয় চিতে চেতন যেন কবন্ধ,

আমার বিধি যেন চির অন্ধ।

বোধ হয় আর জাগবেনা চেতনা

ঈশ্বরেরও শুনবেনা বেদনা।


বুঝি মেতেছি আমরা ধ্বংশের খেলায়,

বিকলাঙ্গ আমাদের চেতনা।

গণধর্ষণ যেন আজ আমাদের প্রতিভা

প্রদূষণ, গণধর্ষণ,বীরত্বের ভাবনা।

দিনেও পথ চলতে হয় আতঙ্কে,

ওদেরবীরত্ব যেন আইন ভঙ্গে।

আমরা সভ্য জগতের মানুষ

মিটিং মিছিলে

দৈনিক ভাষণে উড়াই ফানুস।

আমরা শ্রেষ্ঠ মানুষ,

নিজেরটুকু বুঝে নিতেই হুশ।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================


                   

          


Saturday, March 4, 2023

967>|| মনে যদি থাকে সংসয় ||

 967>|| মনে যদি থাকে সংসয় ||

               <---আদ্যনাথ--->

মনে যদি থাকে সংসয়

জীবনে দুঃখ নিশ্চয়।

মনের সংশয় যদি না হয় দূর

সফলতা রবে বহু দূর।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু

তর্কে বহু দূর।

বিদ্যা, শিক্ষা, জ্ঞান, গরিমা,

ভক্তি বিশ্বাস ও নম্রতার অধিকার।


দূতত্ব নিশ্চিত হয় পথের

কভু হয় না বন্ধুত্বের।

মানুষের মন ও মস্তিষ্ক বড়োই জটিল,

অন্ত হীন ভাবনা ও সৃষ্টির অপূর্ব মিল।


বিশ্বাস বিহনে না হয় বন্ধু

না রয় আত্মীয়,

না পায়  জীবনের পাথেয়।

<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=================

Friday, March 3, 2023

966>|| ওরা নয় মূক, থাকে চুপ ||

 966>|| ওরা নয় মূক, থাকে চুপ ||

                     <---আদ্যনাথ---->

  ওই যে দেখো ওদের--

ওরা সদাই থাকে চুপ, কিন্তু নয় মূক,

সমাজ দেখে, লজ্জা হীন উলঙ্গ বুক।

বন্যায় ভাসে, বৃষ্টিতে ভেজে,

শীতের তীব্রতা সয় সহজে।

শহরে এলে পেটের দায়ে ভিক্ষা করে,

রোজ ধর্ষিত হয়, তবুও ভিক্ষা করে।

ওরা নয় মূক, তবুও থাকে চুপ,


দুঃখী মা শহরে, শিশু কন্যা কোলে,

একটু দুধের আশে ঘোরে দ্বারে দ্বারে,

ব্যর্থ মনরথে ফিরতে হয় তারে।

দিনান্তে কোন মতে জোটে

ভিক্ষা করা সবটুকু দিয়ে,

প্যাকেটে গোলা দুধ।

মা বুঝছে শহরে বাঁচা কঠিন,

তাই ফিরে যায় গ্রামে ক্লান্তহীন।

প্রত্যন্ত গ্রামে ঘোরে দুয়ারে দুয়ারে,

এখানে মানুষের এখনো প্রাণ আছে,

তাইবুঝি দুবেলা পেটের ক্ষুধা মেটে,

শিশুর দুধের জন্য লাগেনা মূল্য দিতে।

আছে দারিদ্রতা, ফেরায় না অভুক্ত জনে

যেটুকু আছে ওরা ভাগ করে দিতে জানে।

ওরা নয় মূক, তবুও থাকে চুপ।


আজ তোমরা কেন চুপ

সময়ে তো দেখাও খুব,

তবে এবার এখন কেন চুপ।

ভয় কি, ওঠো, জাগো, এগিয়ে চলো,

ঐযে চারিদিকে হাঁ হাঁ কার কতো,

কত দুঃখী জনের জোটেনা পেটের অন্য

ওরা চায় অন্য,বস্ত্র,স্বাস্থ্য,শিক্ষা, ও কর্ম।

ওরা যায় মিটিং মিছিলে,

ঘর সংসার সব ভুলে,

একবেলা খাবারের লোভে।

দিনে-দিনে বাড়ন্ত শিক্ষিত বেকার,

কে দেবে ওদের কাজের জোগাড়।

কর্মহীন বেকার যুবক বিভ্রান্ত অতি,

আড্ডা আর মিছিল ছাড়া নাই গতি।

আর ঐযে রবিঠাকুর বলে গেছেন

" রাজার হস্ত করে সমস্ত

কাঙালের ধন চুরি"।

ওরা নয় মূক, তবুও থাকে চুপ।


ধর্ম নিয়ে চলেছে কত টানা টানি

এখন সিসিএ, এন আর সি, নিয়ে হানা হানি।

বেকার দের চাকুরী কোথায়,

গরীবের পেটে খাবার কোথায়।

কৃষক পায়না ফসলের মূল্য

ফোরেরা লুটছে ফসলের মুনাফা।

মানুষের চলেছে বাঁচার লড়াই,

বেঁচে থাকার জন্য লড়াই,

দুমুঠো ভাতের জন্য লড়াই,

জীবনের জন্য লড়াই,

বেঁচে থাকার লড়াই,

চলছে চলবে এ লড়াই।

জন্ম থেকে হয়েছে শুরু,

হয়তো মৃত্যুতে হবে শেষ।

এ লড়াই বেঁচে থাকার লড়াই।

সুখ স্বপ্ন দেখার লড়াই,

স্বপ্ন গুলিও বুঝি লড়াই।

একটু ঘুমের জন্যও জোটেনা মাটি,

ফুটপাথে মাঠে পুলিশের লাঠি।

স্টেশনে বাসস্টান্ডে আইনের বাঁধা

ঝড়ে বর্ষায় রাত ভর জলে ভেজা।

এভাবেই বেড়ে চলে অসহায়ের স্তুপ,

ওরা নয় মূক, তবুও থাকে চুপ।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================


965>|| অভাগার ভাগার ||

 965>|| অভাগার ভাগার ||

             <---আদ্যনাথ--->

কেযেন বললো ভালো আছো

ভালো মানে,-- কি কি ভালো,

সব বলছি,

মন, সেটা এখন বদ্ধ ঘরে,

আকাশ খুঁজে হাঁপিয়ে মরে।

কি জানি এই গরমে

কে কতোটা হাঁপাচ্ছে।

শরীর, সেটা তো পথেই ঘোরে,

খুঁজে পাবার মতন কিছু পাবে ভেবে।

হাত পা সেগুলো ভালোই আছে,

শুধু একটা দাঁত তুলতে হয়েছে, 

তাই খাওয়াটা একটু কষ্টের হচ্ছে।

আর বাকি হৃদয়।

তার খোঁজ আর রাখিনা,

চিন্তা গুলোই সব খেয়ে নিচ্ছে।

তা নিচ্ছে নিক ওটা দিয়ে আর কি হবে ভেবে।

এমনি করেই বাকি জীবন যাবে ড্রেনের জলে বয়ে।

কারন গঙ্গার জল,

সেওতো ড্রেনের জলের সমান।

তাই অভাগার ভাগারই শ্রেয়।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================

Thursday, March 2, 2023

964>|| স্বাধীন কে কবে ||

 964>||  স্বাধীন কে কবে ||

             <----আদ্যনাথ----->


স্বাধীন স্বাধীন বলে চেঁচালেই হবে?

স্বাধীন ছিলাম কবে?

শিশু কাল বাবা মায়ের শাসনের বেড়ি,

স্কুলে শিক্ষকের কঠিন ছড়ি।

ক্লাবে গেলে দাদাদের দাদাগিরি,

চাকুরী জীবনে উপরআলার কড়াকড়ি।

বৃদ্ধ বয়সে এখন সকলের নজরদারি।

ভাবি বসে, আজ সেই 26 সে জানুয়ারি।


স্বাধীন হয়ে উড়বো আকাশে,

পারিনি ডানার অভাবে।

পাখিরা স্বাধীন উড়ে চলে যেথা চায় মন,

বনের পশুরা স্বাধীন, বনে থাকে যখন।

মন চায় উড়েজেতে নীল আকাশে,

সমুদ্র পারহতে পাহাড় ডিঙিয়ে।

মন চায় ছুটে বেড়াতে যখন যেখানে

সাতরঙা রামধনু ওঠে যেখানে।


মনের ইচ্ছা মনেই রয়েজায় গোপন,

শিশু কালে কত স্বপ্ন ছিল তখন।

স্বাধীন হয়ে ছুটব স্বপ্নের দেশ যেখানে,

সাত সমুদ্দুরের পারে তেপান্তরে।

স্বপ্ন পুরীর রাজকুমারী আছে যেখানে,

খুঁজে আনব মুক্ত গভীর সমুদ্র তলে।

শঙ্খ চিলের বাসায় যাব উড়ে,

দেখবো রামধনু হয় কোন রঙ দিয়ে।


পক্ষীরাজে চড়ে ছুটব যখন,

মা যদি ডাকেন পেছনে তখন।

বলবো মাকে  বীরের মতন,

একটু সবুর করো মাগো,

ছুটব আমি বীরের মতন।

চাঁদের বুড়ির খবর নিয়ে,

এক্ষুনি আমি আসবো ফিরে।

ভয় কেন করছো মাগো,

তোমার ছেলে ঘোড়ায় চড়ে,

একলাই বিশ্ববিজয় করতে পারে।


সেইদিন আর আসল কোথায়,

স্বপ্ন গুলি বন্ধি রইলো চিলে কোঠায়।

শিশু কাল হতে স্বপ্নের বোঝা বয়ে,

স্বাধীনতার পতাকা গুলি রেখেছি যতনে।

আজ একলা বসে স্বপ্নের মালা জপি,

কিচেয়েছি কিপেয়েছি বৃথাই হিসাব করি।

দিন যায় রাত যায় স্বপ্ন গুলি ঘুম ভাঙায়,

সকালের সূর্য্য রোদ দেয় আঙিনায়।


শিশু কাল গেল,যৌবন গেল,

এখন বৃদ্ধ বয়সে আর কিআছে কপালে।

স্বাধীনতা গুলি আসবে আর যাবে,

বৎসরে একদিন মনে মনে হবে,

স্বাধীনতা, আজ স্বাধীনতার পতাকা উঠবে।

গান্ধী জী, নেতা জী কে মনে পরবে,

যারা যুদ্ধে মরেছে তাদের আর কে ভাববে।

সকলে একবার  "জনগন" গানটি গাইবে।

★<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->★

    26/ 01/2020 সকাল 08:00: 18.

°===========================


        

963>|| সেবা, ভক্তি ||

 963>||  সেবা, ভক্তি ||

        <----©--আদ্য নাথ--->

মানুষের ধর্ম সেবা,

ভক্তি, তার মনের আবেগ,

প্রেম মনের এক অনুভূতি,

বিশ্বাস, ভক্তি ও প্রেমের ভিত্তি ও শক্তি,

বিশ্বাস ছাড়া জীবন অর্থহীন,

ভক্তি হীন, জীবনে থাকেনা যথার্থ গতি।

সেবা ও ভক্তির নামে অন্ধবিশ্বাস,

সংসারে দুঃখ যাতনার বন্ধন পাশ।

সরল শুদ্ধ মনে প্রকৃতিকে ভালোবাসলে

বাড়ে জীবনের গতি, জাগে নুতন আশ।


সোনার গোবিন্দকে সিংহাসনে শুইয়ে,

মসৃন কম্বলে মুড়ে ভক্তিতে স্বস্তি মেলে।

এমন ভাব,ভক্তিভাবের উত্তম চিন্তা মনে।

কিন্তু কত অসহায় দরিদ্র পথে  শুয়ে,

শীতকে অনুভব করে ভয়ঙ্কর ভাবে,

তাদের এরিয়ে যাই দেখেও না দেখে।

সিংহাসনের গোবিন্দই পথে পথে ঘোরেণ,

এমন চিন্তা আসেনা কেন মনে।

শিব রূপে জীব সেবা জানি সকলে,

এমন চিন্তা থাকে শুধু মনে গোপনে।


অসহায় দরিদ্র ক্ষুধার্থ কে ভুলে,

মহা ভোগ লাগাই মৃন্ময়ী ঈশ্বরে।

নিজের 'মা'এর প্রয়োজন সামান্য সেবা,

ব্যস্ত জীবনে 'মা' কে আদর করে কেবা।

মুখে সদাই বুলি কতনা সেবা ভক্তি,

আছে কেবল মনগড়া কিছু যুক্তি।

রাত দিন হাতে জপমালার থলি,

সামান্য ত্রুটি হলেই কু কথা বলি।

নারী রূপে মায়ের পূঁজা ঢাক ঢোল বাজিয়ে,

পথে ঘাটে 'মা' 'বোনদের' দেখি অশ্লিল নজরে।


এ-কেমন সেবা,কেমন ভক্তি,

তর্ক নয়, বলদেখি এ- কেমন যুক্তি।

মনের ভক্তিকি কেবলি  লালসার চুক্তি,

সেবা হয়তো সুপ্ত অহংকার মাত্র ভক্তি।

ঢাক ঢোল বাজিয়ে পূজার আয়োজন,

খিচুড়ি ভোগ,অবারিতদ্বার বস্ত্র বিতরণ।

সেখানে যদি থাকে অহংকারের প্রদর্শন,

সেবার নামে সে হয় না কি কেবল প্রহসন?

প্রয়োজন তো একটু সচেতনতার,

সাথে দরকার মনভাব প্রকৃত সেবার।

★<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->★

    28/ 01/2020 সকাল 09:15: 18.

==========================


               

Wednesday, March 1, 2023

962>|| 1971 এর মার্চমাস ||

 962>|| 1971 এর মার্চমাস ||

           <---আদ্যনাথ-->

দেখেছি যুদ্ধ ওই নদীর ওপারে,

ছিলাম সশস্ত্র লুকিয়ে ঘরে ঘরে।

দেখেছি অসহায় মানুষের হাহাকার,

শুনেছি শিশুদের চিৎকার,

মা হারিয়ে শিশুকে,

শিশু পায়নি খুজে মাকে।

ওরা মেরেছে অসহায় মানুষ গুলিকে,

ঘরে ঢুকে মানুষের সাথে মিশে।

মানুষের হাতেও ছিল বন্ধুক 

খাওয়া ভুলে পাহারা ছিল রাত দিন।

যখন চালালো বন্ধুক, দিশেহারা,

গুলি করতে গিয়ে পড়লো ধরা।

দরিদ্র সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনি,

দেশ রক্ষার নামে ওদের বেইমানি।


1971 এর মার্চ মাস

বাতাসে বারুদের গন্ধের আশ্বাস।

পালাতে পারেনি ওরা,

অত্যাচারের জবাব দিল মুক্তি যোদ্ধারা।

শিশুগুলি একলা, বাবা,মা হারিয়ে,

ঘরে বসে কাঁদে।

শিশুরা ফৌজ দেখলেই আতকে ওঠে,

ক্রমশ মুক্তিযোদ্ধা বাড়তে  থাকে।

একে একে সেক্টর গুলির ফৌজ

বাধ্য হয়েছিল আত্মসর্পনে।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর

স্বাধীম হল বাংলাদেশে।


শেখ মুজিব ও ইয়াহিয়া খানের

আলোচনা হল ব্যর্থ

1971 সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত,

পাকিস্তানি সৈন্যরা মেতেউঠল

বাঙালি হত্যাযজ্ঞে।

বাংলাদেশ মনেরাখবে সেই 

সেই মর্মান্তিক হত্যাকান্ড।


পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সৈন্য এবং আধা সামরিক বাহিনীর বাঙালি সৈন্য তাৎক্ষণিকভাবে জনগণের 

মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।

ফলে পশ্চিম পাকিস্তানের ফৌজ

বাধ্য হয়েছিল আত্মসর্পনে।

শিউরে উঠতে হয় ভাবনায় ভেবে,

সেদিনের সেই দিনগুলির স্বাক্ষী থেকে।

 <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=======================

       

        

961>|| চিন্তা শক্তি ||( 1--2)

 961/1>|| চিন্তা শক্তি ||   1/2

961/2।। আমরা হারিয়ে গেছি ।।   2/2


========================

961/1>|| চিন্তা শক্তি ||   1/2

                <--আদ্যনাথ--->

চিন্তা শক্তি অসীমে ধায়,

শব্দ তরঙ্গের দ্রুত ধায় ,

একাগ্র মনে স্থির চেতনায়,

সূক্ষ্ম চিন্তার কম্পন বলয়।

সদা সকলের শুভ কামনা করতে হয়।

যার জন্য শুভ চিন্তা করবো,

চিন্তায় যদি গভীরতা থাকে,

তার নিশ্চিত শুভ হবে।

সাথে নিজেরও শুভ হবে।

আবার কারুর অশুভ বা অকল্যাণ

চিন্তায়,

নিজেরও অশুভ বা অকল্যাণ হয়।

এমনি বিধির বিধান কার্য কর হয়।

     <--©-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

=====================

961/2।। আমরা হারিয়ে গেছি ।।   2/2

                <---আদ্যনাথ--->

আমরা কেমন যেন হারিয়ে গেছি ,

সকলেই আজ ব্যস্ত হয়েগেছি।

ব্যস্ত আমরা নিজের মতন 

নিজেকে গুছিয়ে নিতে।

ভুলে গেছি সমাজকেও  আমাদের

কিছু  হবে-যে দিতে।

শুধু গুড মর্নিং,গুড নাইট বলেই

সম্পর্ক মেটাতে চাই।

এই গুড মর্নিংগুড নাইট, 

একি সম্পর্ক জিইয়ে রাখতে,

নাকি দূরে থাকতে?

নাকি লোক দেখানো পাশ কাটিয়ে যেতে?

এর  কারণটি কি যে আসল,

শুধু সেই টুকু বুঝতে,

আমি হতভাগা, ভেবেই পাগল।

★<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->★

======================


 

960> || রক্ষণশীল ||

 960>  ||  রক্ষণশীল ||

                 <---আদ্যনাথ--->

প্রকৃতির লীলা ছলে,

জ্বরা, ব্যাধি, যখন বার্ধক্য কে ঘিরে ধরে,

বার্ধক্য তখন যৌবনকে কাছে পেতে চায়।

হঠাৎ যদি যৌবন বার্ধক্য কে দয়া করে,

বার্ধক্য হয়তো বিচার বোধ হারিয়ে ফেলে।

সমাজে নিন্দার ভয়,

হয়তো বিবেক কিছু কয়।

নয়তো পাশ্চাত্য শিক্ষায়,

পশুদের ন্যায়,

পশুরা বার্ধক্য কে এড়িয়ে চলে।

মুস্কিল তো বার্ধক্যকে বোঝা ভাবলে,

সমাজের বোঝা বিবেচিত হলে,

যৌবনের গলগ্রহ হলে।

বয়ঃবৃদ্ধ কেউ কিছু পায়,

কেউ কিছুই পায় না।

যে পায়না সে তো বেঘরে মরে,

যে পায় সে আরো চায়,

নাপেলেই গোল পাকায়।

এই চাওয়া পাওয়া,এক গোলক ধাঁধা,

তুষ্ট কেউ নয়।

যে রক্ষণশীল, সেতো বুদ্ধিমান

সে বজায় রাখে তার সম্মান।


আজ  মায়েরা  শিশুদের,

শিশুকালে শিখিয়ে দেয়,

গুড টাচ ও ব্যাড টাচ।

যৌবন বড়ই সতর্ক,

নিজেকে সামলাতেই সদা ব্যস্ত।

পাশ্চাত্যের আগ্রাসনে,

মোরগও চায় ময়ুরের মতন পেখম তুলতে।

সেকি ময়ুরের দোষ নাকি মোরগের।

সুন্দরকে কে না চায়,

মুস্কিল যখন ক্ষমতা ভুলে যায়।

   <---অস্যনাথ রায় চৌধুরী-->