Friday, July 28, 2023

991>|| জ্ঞান দুঃখের কারণ ||

         991>|| জ্ঞান দুঃখের কারণ ||

                       <---আদ্যনাথ---->

জ্ঞান দুঃখের কারণ,এক গভীর পিপাসা,

জ্ঞান এক দু:সাহসিক কর্মপ্রচেষ্টা।

জ্ঞানিজন সদাই দুঃখী জ্ঞানসাগরে ডুবে,

জ্ঞানতৃষ্ণার আবেগে খোঁজার ইচ্ছা জাগে।


সুখী মানুষ অলস, আনন্দে দিন কাটায়,

সুখ ছাড়া কিছুই চায়না এই দুনিয়ায়।

সুখের সামগ্রীতেই গড়ে তার সংসার,

করেনা কোন জ্ঞানের আলাপ বিচার।


দুঃখী মন সর্বদা কিছু খুঁজে বেড়ায়,

দুঃখই  জ্ঞানের আলোর পথ দেখায়।

দুঃখই জ্ঞানীকে দৌড় করায়,

সর্বদা নুতন কিছু খুঁজে বেড়ায়। 


জ্ঞানের তৃষ্ণাই জ্ঞানীকে দৌড় করায়,

জ্ঞানের খোঁজেই জ্ঞানী এগিয়ে যায়।

জ্ঞান যতই বারে জ্ঞানতৃষ্ণা ততই পেতে চায়,

জ্ঞান যেন এডভেঞ্চার কেবলই শিখর ছুঁতে চায়।


ফিলসোফার নিজ ঘরেই বিফল হয় বার বার।

তাঁর নিজের ঘরেই জমাট বাঁধে দুঃসহ অন্ধকার।

দার্শনিকের সংসারে দুঃখ বেদনাই  সার,

দার্শনিক সর্বদা খোঁজে বিশ্ব-সংসার।


দার্শনিক মন, মনকেই খুঁজেবাড়ায়,

সে জানেনা মন থাকে কোন ঠিকানায়।

দার্শনিক খোঁজেনা স্বার্থ-প্রেমের,

বিশ্ব সংসার তার চিন্তার আধার।


জ্ঞানীর চিন্তায় সভ্যতা যাযাবর,

সভ্যতা কোনকালেই হয়না স্থাবর।

দর্শন বলে সভ্যতা হেটে চলে বেড়ায়,

সময়ের অন্তরে স্থান পরিবর্তন ঘটায়।


প্লেটোর দর্শন প্লেটোনিজম,

প্লেটোর দর্শনে সৃষ্ট বায়বীয় প্রেম।

প্লেটোর প্রেমে নাই কোন যৌনতা,

সেই প্রেমে শরীরের থাকেনা যোগ্যতা।


বার্নার্ড শ এর চিন্তায় "প্রেম হইল একটি জলন্ত সিগারেট, যার শুরুতে আগুন এবং শেষ পরিণতি ছাই।

আমি বলি ভালোবাসার আবেগ ভঙ্গুর ক্ষণস্থায়ী, 

আর প্রেমের বেদনা জীবনভর হয় স্থায়ী।


দুঃখের মধ্যেও যে আনন্দ খুঁজে পায়

সেইতো প্রকৃত দার্শনিক দুঃখকে সামায়।

প্রকৃতি উদার সর্বত্র হেসে খেলে বেড়ায়,

প্রেমিক প্রকৃতির মাঝে দর্শন খুঁজে পায়।


আনন্দের মাঝে দর্শন হারিয়ে যায় অকারণ,

দুঃখকে জড়িয়ে খুঁজে পাওয়া গভীর দর্শণ।

আলো বাঁধা পেলেই সৃষ্টি হয় অন্ধকার,

আনন্দ হারিয়ে গেলেই হয় দর্শনের স্বাক্ষাৎকার।

      <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী ---->

                  28/07/2023

==========================


Thursday, July 20, 2023

990>|| ফুলের সৌরভ ||

     990>|| ফুলের সৌরভ ||

               <----আদ্যনাথ---->

মানুষের সকল সুখ ও দুঃখের সাথী 

ফুলের তুলনা ফুলই হয়,

ফুলের মতন সাথী কেউ নাই দুনিয়ায়,

ফুলের সৌরভ দুঃখী মনে সন্তান যোগায়,

আবার আনন্দের জৌলুশ বা জেল্লা বাড়ায়।


ঈশ্বর চরণে অর্পিত সর্বদা সুন্দর ফুল,

মৃতদেহ সাজাতে লাগে সুগন্ধি ফুল।

ঈশ্বরের শৃঙ্গারে,প্রেম প্রীতির আলিঙ্গনের আহ্বানে, 

রাজদ্বারে কিম্বা মন্দিরের শোভা বর্ধনে,

ফুলের সৌরভ সর্বত্র আনন্দদানে।


ফুলের সৌরভ সকল পশু পাখিকে মাতাল করে,

ফুলের সৌরভে মধুকর ফুলে ফুলে উরেচলে।

বসন্তের সৌন্দর্য নানান-রঙিন ফুলের হাসিতে,

প্রকৃতিও মেতে ওঠে সৌন্দর্যের মাধুরীতে।


প্রকৃতির আনন্দ বসন্তের আগমনে,

প্রকৃতির সৌন্দর্যে প্রাণীকুল আকৃষ্ট প্রেমের বন্ধনে।

বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্যের মন্ত্র বলে,

ফুলের সৌরভ প্রকৃতিকে মাতিয়ে তোলে।

    <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================

Tuesday, July 18, 2023

989>|| এটাই জীবন ||

          989>|| এটাই জীবন ||

                    <----আদ্যনাথ---->

এটাই জীবন শিশুর চঞ্চলতা যেমন,

যৌবনে তপ্ত উচ্ছল তরঙ্গের মতন।

পড়ন্ত যৌবনে বার্ধক্যের আগমনে,

অটুট থাকতে চায় যৌবনকে ধরে।


সময় বয়েচলে নদীর স্রোতের মতন

বয়সের প্রভাবে অন্নময় শরীরের যতন।

ফিরে আসেনা কোনক্ষন যে-গেছে চলে,

কিছু সুখ লাভ অতীতের স্বপ্নের ছলে।


ভবিষ্যৎ কেউ দেখেনি, অনিশ্চিত জানি,

বর্তমানই শ্রেষ্ঠ সময়, মেনেনেন জ্ঞানী।

ভাবনার জট খুলতে থাকে বৃদ্ধবয়সে,

চাওয়া পাওয়ার হয়না শেষ অন্তিম সময়ে।


রাগ,অনুরাগ,আনন্দ,হিংসা,অহংকার

সকলই মনের চেতনা অথবা বিকার।

যে সকল কিছুকে করে সহজে অগ্রাহ্য

সেই পায় জীবনের শ্রেষ্ঠ সুন্দর ভবিতব্য।


ক্রোধ আর অহংকারে নিজের সর্বনাশ,

এসকল একান্ত মনের জীর্ণতার প্রকাশ।

অহঙ্কারকে  বর্জন  মল বা বিষ্ঠার  মতন,

ক্রোধ সংবরণে  উচিত নিজেকে যতন


ক্রোধে তাপ বাড়ে পাপ,নিশ্চই কুলক্ষয়,

ক্রোধে সর্বনাশ হয় নানান অপচয়।

ক্রোধমুক্ত মানুষকে ভালোবাসে সকলে

প্রেমলীলায় বিস্মিত আনন্দিত সকলে


অষ্টাঙ্গ, বেদাঙ্গ,যজ্ঞ সকল মহাদান ধ্যান,

ক্ষমাময় অক্ৰোধী জনের সর্বত্র সম্মান।

কিছুকে গ্রহণ করতে হয় সহজে পছন্দ,

তবেই মিলবে অনাবিল তৃপ্তিময় আনন্দ।

    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================


Monday, July 17, 2023

988>|| ষড়রিপুর চক্রব্যূহ ||

      988>|| ষড়রিপুর চক্রব্যূহ ||

                      <------আদ্যনাথ---->

মানুষই শ্রেষ্ঠ জীব এই পৃথিবীর বুকে,

ষড়রিপু সেই মানুষকেই বশে রাখে।

ষড়রিপু ভিন্ন কোন শত্রুই নাই জগতে,

মানুষ অস্থির ষড়রিপুর মোহবশেতে।


কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, ও মাৎসর্য 

এই ছয় রিপু সর্বদাই মানুষের চরম শত্রু।

এই ছয় শত্রুর বাস মন আর হৃদয় মাঝে,

তাদের নিয়েই ঘর করা বিশ্বসংসার মাঝে।


ষড়রিপুকে যে করেছে বশ তার কোন 

শত্রুনাই জগতে।

পশু পাখি কীট পতঙ্গ সকলেই তুষ্ট তাঁর ভালবাসাতে।

ষড়রিপুর অদৃশ্য অমোঘ ছয় বন্ধনের কারনে,

মানুষ নিজেকে  নিজেই হারিয়ে ফেলে।


রিপুবন্ধনের আকর্ষণ থাকে যতক্ষন 

মানুষ পাপ কর্ম হতে মুক্ত হয়না ততক্ষণ।

ষষ্ঠ রিপুর ষষ্ঠ আকর্ষণের রঙিন স্বপ্ন,

মানুষ নানা অপকর্মে রয় গভীর মগ্ন।


আমরা প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিকে নিজের শত্রু বলে মনে করি,

তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করি তাকে হারানোর চেষ্টাও করি। 

কিন্তু আমরা আসল শত্রুকে চিনতে করি ভুল,

ষড়রিপুর চক্রব্যূহে পথ হারায়ে পাইনা কোন কুল।


শত্রু সর্বদা বিপথগামী  করার চেষ্টা করে

বিপথে চলার যন্ত্রনাও  দেয় বারে বারে। 

এই ছয় রিপু যন্ত্রনা দেয় বিপথগামী করে

এরা দুরে নয়  নিজের ঘরেই বাস করে।


এরা নিজের  হৃদয়ে  অবস্থান  করে, নিজের অজান্তেই নিজের সর্বনাশ করে। 

আমরা তাকে বশ করার চেষ্টাই করিনা,

এই রিপুকে চিনেও চিনতে পারিনা।


ছয় রিপু বিজিত মানুষের বহির্জগতে কোন শত্রু নেই,

এমনকি কোন  হিংস্র জন্তু পর্যন্ত নাই।

এই ছয় রিপু প্রথমে বিবেককে ধ্বংস করে।

বিবেক বর্জিত জন কামান্ধ হয়ে কামনার  আগুনে পুড়ে মরে।


তার পরেই শুরু ক্রোধের খেলা

ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংসের খেলা।

ক্রোধ সর্বনাশা,বোঝেনা কোন ক্ষমা ধর্ম,

ক্রোধের অস্ত্র দন্ড,ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।


★★( কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন

বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়। )


ক্রোধের পরেই লোভ দেখায় জারিজুরি, 

আসলে লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী।

লোভীর জীবনে সুখশান্তি পাওয়াই ভার। 

কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার,


মোহ নিশ্চিত মনুষ্য হৃদয়ের দুর্বলতা,

মোহের মুক্তি ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা।

মোহে আবিষ্ট জনের থাকেনা মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ,

সে জন ধুলায় লুন্ঠিত, মৃত, থাকেনা জীবনের বোধ।


মদ অতিশয় মিথ্যা অহঙ্কার,

নাম,জস সকলই মিথ্যা অহঙ্কার

মদের অহঙ্কার ত্যাগ করা কঠিন প্রয়াস,

মনেপ্রাণে হতে হবে ঈশ্বরে দাসানুদাস।


মাৎসর্য বড়ই ভয়ঙ্কর পরশ্রী কাতর,

কারুর ভালো সহ্য করতে না পারা।

এ ভাবেই মনকষ্টে অপরের অনিষ্ট করা,

নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ করা

==========================

★1. কাম - যৌন সঙ্গকামনা, রিরংসা, যৌনক্ষুধা। (Sex urge)

★2. ক্রোধ - রাগ, উত্তেজনার বশীভূত হওয়া। (Anger)

★3. লোভ - লালসা । (Cupidity)

★4. মোহ - মায়া, বিভ্রম । (Illusion)

★5. মদ - অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব। (Arrogance)

★6. মাৎসর্য - পরশ্রীকাতরতা, অন্যের ভালো দেখতে না (Envy)

======================

      ★----কাম----★


#কাম অর্থ রিরংসা, যৌনক্ষুধা। 


কাম বলতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই ইন্দ্রিয়সুখ, কামেচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়। কাম হল মানব জীবনের চারটি লক্ষ্যের একটি এবং এটিকে হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনের পর্যায়গুলিতে পূরণ করার জন্য প্রাথমিক প্রয়োজনগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।


চারটি পুরুষার্থ হল:

●ধর্ম: "(ধর্মীয় ও সামাজিক) নীতিবোধ, আধ্যাত্মিক ও আনুষ্ঠানিক কর্তব্যকর্ম।

●অর্থ: "(জাগতিক ও অর্থনৈতিক) প্রগতি।"

●কাম: "(পার্থিব) সুখ।"

●মোক্ষ: "(আধ্যাত্মিক) মুক্তি।"


======================

★--ক্রোধ--★


#ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংস---

 ক্রোধ সর্বনাশা,

ক্রোধ বোঝেনা কোন ক্ষমা,

ক্রোধের অস্ত্র দন্ড।

ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।

ক্ৰোধী বোঝেনা ক্ষমা কত সুন্দর।

বোঝেনা ধর্ম ও সত্য ততোধিক সুন্দর।

ক্ৰোধীর ক্রোধ প্রতিশোধেও হয়না পরিসমাপ্তি।

ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ বড়ই কঠিন,

ক্রোধ নিয়ন্ত্রনে ক্ষমা করার শক্তি অর্জন

একান্ত প্রয়োজন।


(কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন

বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়।)


============================

★--লোভ--★

#লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী । 

যে ব্যক্তির চরিত্র ঠিক নেই তার ব্যক্তিত্ব,  মর্যাদা , মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ পথের ধুলায় লুন্ঠিত সে জীবিত অবস্থায় মৃত ।

লোভী কখনও সুখ শান্তি পায়না ।

লোভকে বৈরাগ্য দ্বারা সংযত করা যায় বা আয়ত্বে রাখা যায়। 

তাই গীতায় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার।

====================

 ★---মোহ---★

#মোহ হচ্ছে হৃদয়ের দুর্বলতা ।

কোন কিছুর লাভ বা ক্ষতিতে হৃদয় যখন ভারাক্রান্ত হয় বা দুর্বল  হয় তখন তা মোহ সৃষ্টি করে । 

প্রকৃত পক্ষে কোন কিছু আমার নয় এবং কখনও আমার  ছিলো না। 

না আমি সঙ্গে এনেছি না আমি সঙ্গে নিয়ে যাব । 

চিরদিন কারও সঙ্গে আমার সম্পর্ক স্থায়ী হবেনা ।

এই তবে কেন অনিত্য বস্তুতে নিত্য সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা । 

তাই নিত্য সম্পর্ক একমাত্র ইষ্ট বিনে হতে পারে না ।

অতএব ভগবানের সঙ্গে নিত্য সম্পর্ক স্থাপন করে তাঁর প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হয়ে বিষয় সংসার  মোহমুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ।

================

★---মদ-----★


 #মদ হচ্ছে মিথ্যা অহংকার ।এই জড় শরীরের উপাধি মাত্র । আমি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি , চাষি, ব্রহ্মচারী , গৃহস্থ, সন্যাসি , ব্রাহ্মণ, ধননবান রুপবান ইত্যাদি । এগুলি সবিই মিথ্যা অহংকার ।কিন্তু আমিত এই শরীর নই আমি ভগবানের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ চিন্ময় আত্মা এবং ভগবানের নিত্যদাস । এটাই আমার প্রকৃত পরিচয় ।যখন কেউ ভগবানের দাসত্য স্বীকার করে তার আর মিথ্যা অহংকার থাকেনা ।

======================

★------মাৎসর্য-----★


  #মাৎসর্য হল অন্যের ভাল দেখতে  না পাওয়া বা পরশ্রী কাতরতা ।কেউ ভালো খেলে ভালো পড়লে সহ্য হয়না । তখন মনের ভীতরে একটা যন্ত্রনা অনুভব করে তার অনিষ্ট করার চেষ্টা করা । তাতে সে কোন ভাবেই  সুখী হয়না । নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা।অন্যকে গর্তে নামানোর আগে থেকে নিজেই গর্তে নামে।


"কাম কৃষ্ণ কর্মার্পণে      

ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে

লোভ সাধু সঙ্গে হরিকথা, 

মোহ ইষ্ট লাভ বিনে        

মদ কৃষ্ণ গুন গানে  

নিযুক্ত করিব যথাতথা ।।"

                                                                                                                ||| "হরিবোল-- হরিবোল" |||

     <-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-------->

*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-


Saturday, July 15, 2023

987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ ||+ 1

987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ  ||

987/1>|| সে থাকে অন্তরে ||

===========================

 987>|| পাঁচ গুনেই মানুষ শ্রেষ্ঠ  ||

               <----আদ্যনাথ---->

একমাত্র মানুষের মধ্যেই আছে পাঁচটি  অমূল্য গুন ও শ্রেষ্ঠ সম্পদ, 

মানুষ সেগুলি পায় বিনামূল্যে।

কিন্তু ব্যবহার করতে জানতে হয়।


যে বোঝে সেই খোঁজে,

যে খোঁজে সেই পায়

যে পায় সেই ধন্য হয়।


পেয়ে যায় সহজে,

স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কিন্তু

ব্যবহার করতে জানতে হয়।

নচেৎ সকলই বিফলে যায়, 

জীবনটাই ব্যর্থ হয়।


1>জ্ঞান::--জ্ঞান সবথেকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ।


2>ধৈর্য্য::--সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র।


3>বিশ্বাস::--শ্রেষ্ঠ নিরাপত্তা।


4>হাসি::--সবথেকে কার্যকরী টনিক।


5>সততা::--সবথেকে বড় গুণ।

      <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

  987/1>|| সে থাকে অন্তরে ||

              <---আদ্যনাথ----->

মানুষের অন্তরে  মানুষ বিরাজিছে 

খোঁজে যে জন সে-ই পায় তারে নিজে।

চাওয়া পাওয়ার পথে গেলে সহজে মেলে,

মনের ব্যাকুলতায় খুঁজেপাওয়া যায় তাঁরে।


জানি জানি মানুষই খুঁজে পায় তাঁরে,

সহজে পেয়েছে সে আমি জানি তাঁরে।

খুঁজতে হবে জানতে হবে আদর করে বুঝতে হবে,

একান্ত ভাবে খুঁজলেই পাওয়া যাবে তাঁরে।


কতো মানুষই তো খুঁজে পেয়েছে তাঁরে

একটু চেষ্টা করলেই নিশ্চই পাওয়া যাবে।

তাঁকে খোঁজা যে সহজ,সে থাকে রাখাল বেশে।

তাঁর নামটি লেখাআছে লতা পাতা বৃক্ষ শাখে,

দূরে নয় সেজে কাছেই আছে

নিজ অন্তরে খুঁজতে হবে নিজে।

যে বোঝে সেই ব্যাকুল হয়ে খোঁজে,

মন ব্যাকুল হলেই পাওয়া সহজ হবে।


তাকে ধরে রাখতে হবে নিজের অন্তরে,

তাঁকে পেলেই সকল চাওয়া পাওয়া হবে।

আসলে অটল-বিশ্বাস রাখতে হবে মনে,

বিস্বাস থাকলেই পাওয়া যাবে তাঁকে।


সেজে অন্তর মনেরই সখা,

মনকেই চড়ায় আনন্দ কাননে,

সুশোভিত মন রূপ নন্দনকানন,

সে সদাই থাকে অন্তরমাঝে।


তাঁকে খুঁজতে হয় একান্ত  নিজের মতন করে ব্যাকুল হয়ে,

যেমন শিশুর কান্নায়  মা দৌড়ে আসে

সবকাজ ফেলে রেখে।

<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

==========================







986>|| ক্ষুদ্র জীবন ||

 


  986>|| ক্ষুদ্র জীবন ||

        <----আদ্যনাথ--->

জীবন যখন সত্য 

মৃত্যু ও নিশ্চিত সত্য।

সত্য মিথ্যার দ্বন্দ্বেই কাটেযায় বেলা,

আসা যাওয়া সৃষ্টির অপরূপ খেলা।


আসা যাওয়ার চক্রব্যূহ বড়ই জটিল,

কার আয়ু কতক্ষন বোঝাই মুস্কিল।

জন্মিলে মরিতে হবে এটাই সত্য বটে

মৃত্যুই শেষ নয় আবার জন্মিতে হবে।


জীবন চক্র চলতে থাকে অনন্তকাল,

কালের ইচ্ছাতেই জন্ম মৃত্যুর কাল।

ঈশ্বরের ইচ্ছাতে ই চলে জাগতিক খেলা

সৃষ্টি আর ধ্বংস প্রকৃতির খেলা।


মৃত্যু আর ধ্বংসেই প্রোথিতহয় নুতন সৃষ্টির বীজ,

বিশ্বপ্রকৃতির উদার গর্ভেই লুক্কায়িত সৃষ্টির বীজ।

ক্ষণজীবী মানুষ প্রকৃতির হাতে পুতুল মাত্র,

প্রকৃতির অমোঘ শক্তির প্রকাশ দেখি সর্বত্র।



মহাকালের অদৃশ্য অন্তহীন চক্রব্যূহে

ঘূর্ণায়মান কালের চক্র সময়ের শাসনে বাঁধা।

অতিক্ষুদ্র ক্ষণজীবী মানুষের মনে অনেক আশা,

আশা, প্রত্যাশার স্বপ্ন আজ শুধুই বুকভরা  হতাশা।

যেখানেই দেখি প্রতিচ্ছবি আয়নায় কিংবা জলে,

আজ সকল কিছুই কেমন যেন ঘোলাটে লাগে।


চারিদিকে ক্ষুধা,তৃষ্ণা,মৃত্যুর ভয়,হানাদেয় বার বার,

তবুও চলতে হবে সম্মুখে প্রসারিত পথ, আলো-ছায়ার অন্ধকার।

জীবনের ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলো ভাবলেশহীন 

হয়ে পড়ে বারবার।

      <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================

Tuesday, July 11, 2023

985> || বৈশাখের দুপুর বেলা ||

 985> || বৈশাখের দুপুর বেলা ||

               <---আদ্যনাথ---->

বৈশাখের ঠিক দুপুর বেলা

আমবাগানে জমতো খেলা।

কাল বৈশাখীর ঝড়ের বেলা,

আমকুড়োনোর দুপুর বেলা।


আনন্দের সেই বৈশাখীর দিনে,

হঠাৎ আসে কালবৈশাখী বৃষ্টি নিয়ে।

আমবাগানে সেই বৃষ্টিভেজা,

দিনভর গাছে গাছে ভীষণমজা।


ছুটির দিনে আমরাই বনের রাজা,

দিনভর আমের ডালকে বানিয়ে ঘোড়া।

আজও মনেপরে স্বপ্নে ঘেরা রাজা সাজা,

ছেলেবেলার সেই দিনগুলির মজা।


আমের ডালে ঝুলিয়ে দড়ির দোলনা,

দোল খাওয়া  সে এক মজার খেলনা।

রোজ দুপুরে আমগাছের স্নিগ্ধ ছায়ায়,

দোল খাওয়া আজও মনকে ভাবায়।


মনে ছিল আনন্দ  উদ্যম অফুরন্ত,

সে দিনের শিশুমনে ছিল সাহস একান্ত।

সকলে মিলে মনের সুখে আম কুরাই,

আসুক-না ঝড়-ঝঞ্ঝা থোড়াই ডরাই।  


বৈশাখের বিকেলে আকাশ পানে,

যখনই মেঘজমতো ঈশানকোনে,

বুঝতাম ঝড় আসবে ভীষণ বেগে,

তখনি ছুটে যেতাম আম বাগানে।


জানতাম ঝড় আসবে সাথেনিয়ে বৃষ্টি,

ঝড়ের দোলাতেই হবে আমের বৃষ্টি,

তখনি আম পড়তো উঠান ভরে।

আমরা আম কুরোতাম কোচর ভরে।


কাঁচা আমে নুন মাখিয়ে,

সাল পাতায় নিয়ে সাজিয়ে,

বৈশাখের দুপুর বেলা,

বাগানে বাগানেই চলতো খেলা।


মা রোজ রাগ করতেন আমাদের নিয়ে,

পিঠে পারতো মায়ের লাঠি ঘরে গিয়ে।

রাতের বেলা বাবা শুনলে আবার লাঠি

আজও যত্নে রাখা আছে সেই বেতের লাঠি।


কাঁচামিঠে আমের গন্ধে মাতাল

জিভের জল মানেনা সামাল।

সত্য বলি আমকুরোনো  ভীষণমজা,

সকলেই জানি আম ফলের রাজা


নানান স্বাদের নানান আম আর

কাঁচা মিঠের তুলনা ভার।

জ্যৈষ্ঠ এলেই ধরবে পাক

সে কথা না হয় বাকি থাক।


পাকা আমের মিঠে গন্ধে

প্রাণ ভরে খাও সকাল সন্ধে।

কতো রকম আছে আম

শুনলে বুঝি ছুটবে ঘাম।


আমকে বলে অমৃত ফল

বাংলার খ্যাতি আমের ফল।

আমপাকা অতি সুমিষ্ট,

সব দেবতাই আমে তুষ্ট।


     <---আদ্য নাথ রায় চৌধুরী---->

======================


984>|| কিছু মনের কথা || (1 to 5)

 


 984>|| কিছু মনের কথা || (1 to 5)


●1>|| মেনে নিতে হয় ||

●2> || জীবন কেমন---?||

●3> ||  মনের চাওয়া ||

●4>|| অটল বিস্ময় ||

●5>|| পথ চলা ||

  ======================                    

 1>|| মেনে নিতে হয় ||

                    <---আদ্যনাথ--->

ভালোবাসার  কিছু সম্পর্ক

যা ভালোবাসা নয়,

ভালোবাসতে  মন চায় না,

তথাপি একে অপরকে হারাতে চায় না।

এরই নাম কি বন্ধুত্ব! কি জানি!


কিছু জিনিষ কিছু না বুঝেও

সহজে মেনে নিতে হয়।

যেমন পুরোহিতের মন্ত্র

ও বউয়ের অনেক কথা।

দুটোই কিএছুই না বুঝলেও

স্বাদরে মেনে নিতে হয়।

যা বলবে তা একান্ত নম্র ভাবে

পালন  করে যেতে হয়।

একেই বলে সংসার।

যেখানে সং টাই সার,

বুঝতে না পারলে জীবন ভর

করতে হবে হাহাকার।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=====================

         


      2> || জীবন কেমন---?||

               <---আদ্যনাথ--->

জীবনকে যদি যুদ্ধ মনেকর,

তাহলে রক্তক্ষরণ হবেই।

জীবনকে যদি নদী মনে কর,

তাহলে সকলকে নিয়েই বইতে হবে।

জীবনকে যদি পাহাড় মনে কর,

তাহলে সকলের ভার বইতে হবে।

জীবনকে যদি পাপ মনে কর,

তাহলে পাপেই জীবন ভরে যাবে।

জীবনকে যদি দুঃখের আখড়া মনে কর,

তাহলে দুঃখের বোঝাই বইতে হবে।

জীবনকে যদি চন্দন গাছ মনে করো

তাহলে ঘর্ষণ মাত্র সুগন্ধ ছড়াবে।

জীবনকে যদি আনন্দ ময় মনেকর,

তাহলে সকলের সাথে আনন্দে দিন কাটাবে।

তাই জীবন ঠিক তেমন যেমনটি

তুমি ইচ্ছা কর।

ঈশ্বর কেবল তোমার ইচ্ছাশক্তিকে

বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করেন।

তাই তোমার ইচ্ছাতেই গড়ে উঠবে

তোমার জীবন।

কিছু করলেই অনুভন করাজায়।

জীবন যখন শুধুই নিজের জন্য

সেই জীবন পশু তুল্য।

জীবন যখন অপরের জন্য

সেই জীবনই হয় সমাজে ধন্য।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

   

=========================

            


        3> ||  মনের চাওয়া ||

                 <---আদ্যনাথ--->

জীবনের অনেক কিছুই ভুলবার নয়,

      তবুও ভুলে যেতে হয়।

মন যারে চায় ,সদা কি তারে পায়,

    মনের আবেগ মনেই লুকায়।


      যে আসে মনের ভুলে,

ক্ষনিকের ভালো লাগার কারনে,

তাকেই হয়তো মন বেশি পেতে চায়,

     চাওয়া পাওয়ার চাহিদায়।


মনের চাওয়া বিচিত্র অতি,

পেলেই খোঁজে লাভ ক্ষতি ।

নাপালেই ভাবনা হয় অতি,

অনেক কিছু হারালো বুঝি।


যাকে ভুলবার নয়,সেই বুঝি ভুলে যায়,

সময়ের প্রবাহে,নানান আরম্ভরে।

কখনো দাম্ভিকতার কারনে,

কখনো স্বার্থপরতার কারনে।


  মনকে কাঁদিয়ে কি লাভ,

  জাকে আদরে পাওয়া,

তাকেই নাহয় একটু আদর দিলাম,

ভালোবাসাকে হৃদয়ে রাখলাম।


আদরের সমাদর হয় ভালোবাসার টানে,

সেই টানটি ফুরিয়ে গেলে ভালোবাসা কাঁদে।

ভালোবাসা আদর উভয়ই হৃদয়ের ছোঁয়া,

এককে ছেড়ে অন্যকে যায়না পাওয়া।


ভালোবাসা নয়তো কেবল ছোঁয়া,

সে যে শান্ত হৃদয়ের স্বপ্ন দেখা।

কিছু স্পর্শে অতিশয় কাতর,

চাওয়া পাওয়ার উর্ধেই আদর।


 ক্ষণিক আদরের স্পর্শে,

হৃদয়ে পুলক জাগে নুতন হর্ষে।

 অবহেলায় ফিরায়ে দিলে তারে,

মন কাঁদে  আবার ফিরে পাবার তরে।


     সমাজ তো অনেক বলে,

নাপেয়ে হয়তো কেউ হিংসায় জ্বলে।

হয়তো ভালোবাসাকেই অশ্লীল ভাবে,

চায় না ভালোবাসাকে মর্যাদা দিতে।


ভালোবাসকে ভুলে জীবন কি বাঁচে?

ভালোবাসতেই মানুষ নুতন করে বাঁচে।

ভালোবাসা  সুন্দর হৃদয়ের আবেগ

 ভালোবাসতে দিতে হয় অনেক।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=======================

         

         4>|| অটল বিস্ময় ||

               <---আদ্যনাথ--->

কেউ আমাকে জানুক বা না চিনুক

      তাতে কি আসেজায়,

নিজের বিশ্বাস যদি অটল হয়

তবে সকল কিছুই পাওয়া যায়।


জানি নিজের মতন কেউনাই 

কেউ হয়না এই সংসারে।

তথাপি নিজের মতন পেতে চায়,

না পেলেই মন কাঁদে দুঃখ বেদনায়।


জানি জ্ঞানী আছেন বহুজন,

      নিকটে অথবা দূরে,

কাঁদলেই একটু আহা করে,

কেউ সুখ দেখলেই হিংসায় জ্বলে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================

=========================

          

     5>|| পথ চলা ||

            <---আদ্যনাথ---->


নিজেকে নিজে না চিনলে,

      কে দেখাবে পথ,

পথ চলতে রইবেনা কেউ সাথ,

সরল বা কঠিন যাই হোকনা সে পথ।


পথ তো কখনো কঠিন

কখনো মসৃণ,

সকলি নিজের চিন্তা ধারা

জীবন এগিয়ে চলার এক ধারা।


পথের চিন্তায় থেমে গেল 

হারাতে হবে অনেক,

এগিয়ে তো যেতেই হবে 

পথ চলা বাকি আছে যে অনেক।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=======================

983>|| unspoken ও কিছু কথা =(1--5)

  983>|| unspoken ও কিছু কথা =(1--5)


●1> || unspoken ||

●2> ||   মন কাঁদেনি ||

●3>|| শেষ ঠিকানা ||

●4>|| কি হবে আমার ||

●5>|| দেখেছি মৃত্যু ||

==========================

  1> || unspoken ||

            <----adyanath---->

I am staying with you, for my own sake,  but somewhen I am alarmed and worried myself thinking am I your burden in any way or a Person with very little essential work.


জীবনে কারুর বোঝা হতে চাইনি।

তথাপি বোধহয় বোঝাই হয়েই থাকছি। 

 চিন্তা, মায়া,ও একটু ভালবাসার টানে,

 জড়িয়ে নিলাম নিজেকে মোহ রূপ জালে।

 যে জাল ছিন্ন করা অসম্ভব জানি,

 শিশুর ভালোবাসাকে কেমনে ভুলি।


অনেক তো পেয়েছি, 

 যা-চেয়েছি সবটুকুই পেয়েছি।

জীবন তো দিয়েছে উজাড়করে,

অপূর্ন কিছু নাই ,সময় দিয়েছে মন ভরে।

 এখন শুদু অপেক্ষার দিন গোনা,

 মায়ার বাঁধনে বেঁধেছে এই মনখানা।


শিশুমন সদ্যফোটা ফুলের মতন,

শিশু মনকে করতে হয় আদর যতন।

মানব শিশু সত্যই ঈশ্বরের এক রূপ,

তার ভালোবাসা শ্রেষ্ঠ আনন্দ স্বরূপ।

শিশু মন এক তাল কাদামাটির মতন,

তাকে গড়ে তুলতে, করতে হয় যতন।


এই মন,শরীর চায়নি কারুর বোঝা হতে,

জানি চলে-তো যেতে হবে খালি হাতে।

কিকরে ভুলি পিছুটানের রুজ্জুকে,

অনেক না বলা কথা ভুলতে পারাকে।

মনযে বড়ই নিরালা ভাবনায় কাতর,

ব্যাকুল হৃদয়ে ভুলতেই হবে সকল আদর।

          <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

========================


    2> ||   মন কাঁদেনি ||

                     <---আদ্যনাথ--->

মায়ার সংসারে ভোগসর্বস্ব জীবন,

অলীক সুখের সন্ধানে ধায় সর্বক্ষণ।

বিষয়ভোগে উন্মত্ত চিত্ত,নিত্য ব্যাকুলায়,

কেবলি লালায়িত ভোগের লালসায়।


সত্য লক্ষ্যের প্রতি উদাসীন মন,

অতিশয় কণ্টক জর্জরিত জীবন।

জীবনসায়াহ্নে এসে ব্যাকুল জীবন,

বৃথাই বুঝি বয়েগেল জীবন যৌবন।


স্ত্রী সন্তান লাগি ভাবনা বৃদ্ধ কালে,

ঈশ্বরলাগি মন কাঁদেনি কোন কালে।

ঈশ্বর চিন্তায় কিঞ্চিৎ থাকতো যদি মন,

সত্যই ধন্য হতো এই অভাগার জীবন।


আজ শুনি এক মনে ঠাকুরের কথা,

যৌবনের ভাবনা ছিল ঈশ্বরচিন্তা বৃথা।

আজ মনে অনুভব করি ঠাকুরের কথা,

ঠাকুর বলেন

"লোকে মাগছেলের জন্য ঘটি ঘটি কাঁদে , কিন্তু ঈশ্বরের জন্য কে কাঁদে কখন

শ্রীশ্রীমা যেন সেই সুরটিই ধরিয়ে দিলেন !

জাগতিক জিনিষের প্রতি মোহান্ধ হয়ে 

আমরা ভগবানের পাদ-পদ্মসুধার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি !

তাই শৈশবে যদি কারো মধ্যে সেই ব্যাকুলতা দেখা যায় , সত্যিই ধন্য তার জীবন !

*মা খুব সুন্দর রুপক করে বলেছেন : 'শৈশবে যে তার অনাঘ্রাত ফুলের মত মনটি ঈশ্বরের পায়ে দিতে পারে সেই ধন্য* !'

মায়ার কারাগার রুপি সংসারে।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========+===============


    3>|| শেষ ঠিকানা ||

                   <--আদ্যনাথ--->

অজুহাত নয়,ইচ্ছা-মৃত্যুকে করি আহ্বান,

জানি নিষ্ফল, তবুও একান্ত আবেদন।

হয়তো সময়ের কারণে অশোভন,

তবুও নিজের ভাবনাকে করি যতন।


অনেক তো দেখলাম সুন্দরের ঠিকানা,

নিজেকেই খুঁজিনাই, দেখেছি দুনিয়া।

বুঝেছি, সুন্দর ভাবতে, ভালো থাকতে,

সাত দিনের জীবনের ভাবনা হয় ভাবতে।


কেন এতো রাগ, অনুরাগ,অহঙ্কার,

কিসের জন্য এতো চাহিদার পাহাড়?

জীবনতো স্রেফ সাত দিনের,

তাহলে এতো ফিকির কিসের?


দিন বদলাতে পারে যেকোনো মুহূর্তে,

দিনে,ঘন্টায়, সপ্তাহে হয়তো-বা মাসে,

মাস হলেও হতে পারে বৎসর,

বৎসর হতে পারে যুগের অন্তর।


যুগের পর যুগও বাঁচা যায়,

শরীরে না-হোক সকলের মনে।

কর্ম-ইতো ধর্ম বর্তমান কালে,

কর্ম করতে হয় অন্যের প্রয়জনে।


কে-কি বলবে, কি-ইবা ভাববে,

কিলাভ ওসকল ভাবনা ভেবে।

ভালোথাকা সুন্দর ভাবনার মনে,

আজকের দিনটিকেই রাখতে হবে মনে ।


ক্ষনিকের তরে আসা যাওয়া,

মোহ মায়ার অনেক ভাবনা,

সংসার ত্যাগীলেই কি হয় সাধনা,

সাধনা সে যে শুদ্ধ মনের ভাবনা।


সময়ে অসময়ে কেউযায় কেউ আসে, 

কেউ ভাবনার দুয়ারে আটকে থাকে।

যাওয়া আসা এক ডোরেই বাঁধা,

যেমন কৃষ্ণের বাঁশরীতে রাধা।


ভাবনা যদি সদাই থাকে সেই পদে,

যাওয়া আসা নিশ্চিত ভাবের পথে।

আমার মতন যদি হও নিতান্ত পথভ্রষ্ট,

বুঝবে অভাগার জীবন কিভাবে হয় নষ্ট।


বুঝিনাই কিছু দেখেছি অনেক কিছু,

ভাবনার দুয়ারে দৌড়েছি পিছু পিছু,

মনের আবেগের স্বপ্নে ছিলো ভাবনা,

কঠিন যতনেও খুঁজে পাইনি শেষ-ঠিকানা।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================

        

   4>|| কি হবে আমার ||

                  <---আদ্যনাথ--->

চূড়াশি লক্ষ জীবের, মানুষ বাদে কেউ করেনা হাহা কার।

বেদনার অনুভব আছে সবাকার 

মানুষের আছে লোভ আর অহংকার,

এক মাত্র মানুষই করে পয়সা রোজগার।

কিন্তু মানুষের পেটে ভরেনা কখনো আর।


পৃথিবীর এক মাত্র মানুষই মরে বার বার,

আমিও মানুষ,জানিনা কি হবে আমার।

কে-কি-ভাবে-কেন 

করবে আমার উদ্ধার।

ভাবনার জোয়ারে ভাসি বার বার,

কোথায় কুল কিনারা বুঝিনা এবার।

অথৈ সমুদ্রের মাঝে শুধুই নোনা জল,

পিপাসা মেটাতে নাই একফোঁটা জল।

ঈশ্বর,মহামানব কে উদ্ধারিবে আমায়

ভাবনার স্রোত গুলি মনকে নারায়,

তবুও বুক বান্ধি নিত্য নুতন আশায়,

চিন্তার পথগুলি কেবলি পথ হারায়।  <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

 ======================== 

                  

  5>|| দেখেছি মৃত্যু ||

                   <---আদ্যনাথ--->

দেখেছি জীবন, আনন্দঘন চিত্তে,

দেখেছি মৃত্যু, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।

সকলের শুভেচ্ছা ডাক্তারের আপ্রাণ চেষ্টায়,

যমদূত বাধ্য হল ফিরেজেতে শেষটায়।


মৃত্যুর সেই সন্ধিক্ষণের মুহূর্ত,

যমদূতের সেই অট্টহাসির মুহূর্ত।

বুঝিয়ে দিয়েছে বেঁচে থাকার শর্ত,

নিজেই খুঁজে নিতে হয় নিজের সামর্থ।


বেঁচে থেকে দেখেছি তাবৎ

রঙিন আলোয় উদ্ভাসিত জগৎ।

মৃত্যু পুরীর নিকষ কালো অন্ধকার,

তীব্রজ্বালা চিৎকার যন্ত্রনায় হাহাকার।


দিগন্ত অন্ধকারে যমপুরীর পাশা,

বিদেহী আত্মার মুক্তির আশা ।

যমদুয়ারে চিৎকার করে করা নাড়ে,

নিজেদের সকল অন্যায়ের স্বীকারোক্তি করে।


এখানে কে শোনে কার কথা,

যম-রাজের ইচ্ছাই যে এখানে শেষ কথা।

বেঁচে থাকতে যখন ছিল শুনবার কেউ,

অন্যায়ে বুক ফুলিয়ে যেন কেটে কেউ।


মৃত্যুতে, যম দুয়ারে, জ্ঞান চক্ষু খোলে,

জীবনে ন্যায়-অন্যায় কর্ম কে না বোঝে!

মৃত্যুর বীভৎস অন্ধকারে আর্তচিৎকার,

মনে করিয়ে দেয় স্বার্থকতা বেঁচে থাকার।


বুঝেও বুঝতেচাইনি কিছু, জীবনকালে,

অনুভবে জ্ঞান চক্ষু খুলেছে অন্তিমকালে।

মৃত্যুপুরীতে বুঝেছি জীবন সময়ের অধীন,

বুঝেছি মৃত্যুই সহজ বেঁচে থাকাই কঠিন।


জ্ঞানবুদ্ধি যাইহোক মৃত্যুই চিরসত্য,

বিশ্ব-সংসারে মানব জীবন চিরঅনিত্য।

জন্মের মুহূর্ত হতে অন্তিমের অপেক্ষা শুরু,

মৃত্যুরপরে পুনর্জন্মের অপেক্ষা শুরু।


চলার পথে সঙ্গি হয়তো অনেকে হবে

আবার অনেকেই হারিয়ে যাবে ।

কিন্তু অন্তিম যাত্রায় সাথি কেউ-ই হবেনা,

ভীত মনে প্রাণ খুলে আনন্দে বাঁচা যায় না।


খালিহাতেই আসা আর যাওয়া

জীবনখেয়া একাই বয়ে নিয়ে চলা।

মৃত্যুপুরীই বুঝি জীবনের শেষ ঠিকানা,

এখানে সকল অশরণ অশরীরী আত্মা।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================



Monday, July 10, 2023

982>|| শান্ত মনই শান্তির উৎস মূল ||

 982>|| শান্ত মনই শান্তির উৎস মূল  ||

                   <----আদ্যনাথ---->

নারীর রাগ আর অহংকার

সবকিছু ভেঙে করে চুরমার।

ভাঙ্গে নিজের ঘর,

ভাঙ্গে সন্তানের ঘর।

ভাঙ্গে ভালোবাসার সংসার,

ভাঙ্গে সকল চাওয়া পাওয়া দ্বার।


সবশেষে নিজে নিজেই করে হাহাকার,

জীবনের শেষদিনে কে সাতদেবে তাঁর?

এহেন ভাবনাতে মেটেনা উৎকন্ঠা,

কিভাবে কাটবে দিন সেটাই চিন্তা।

এক অহংকারে দক্ষের যজ্ঞ 

হয়েছে লন্ড-ভন্ড,

সেথায় মা গৌরীর জেদ রূপ অহংকার

করলেন নিজেই নিজের সর্বনাশ।


এক দম্ভে 'মা' বিভক্ত হলেন 51 খণ্ডে,

তথাপি প্রশমিত হয়নি তাঁর রাগ অহংকার এই ব্রহ্মাণ্ডে।

কালী রূপে করে চলেছেন অসুর সংহার,

তথাপি নাই কোন  চিন্তা নিজের সংসার।

শেষে দুর্গা রূপে ফিরিলেন ঘরে,

নিজেই দিলেন নিদার শান্ত মনে 

কার্য করো নীরবে একনিষ্ঠ মনে

ত্যাজিয়া রাগ,অহংকার,

আত্মসমর্পণ করো মাতৃ চরণে,

তবেই হইবে ইহজীবনের উদ্ধার।

। <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================


981>|| কিছু বলার ছিল ||

  982>|| কিছু বলার ছিল ||

           <--আদ্যনাথ-->

এইতো ক্ষণ,

কিছু বলার ছিল

বলতেচাই এই ক্ষণ।

কত যত্নে,কত চিন্তা,কত আদর দিয়ে

সাজিয়ে গুছিয়ে টব খানিরে

রেখে ছিলাম তারে গুছিয়ে।


যেতে হল দূরে কর্মের কারণে,

বহুদিন করিনি আদর তারে।

ভেবে ছিলাম প্রকৃতির হওয়া বাতাসে,

বেঁচে থাকবে আপন ক্ষমতা বলে।


হয়তো ছিল, পাইনি দেখা ফিরে এসে,

কেজেন তারে লয়ে গেছে তার গৃহে।

আমি আজও আছি অপেক্ষায়

একবার যদি সাক্ষাৎ মেলে।


একটু দেখার কিছু বলার ছিল

যদি তুমি শোন।

আমার দীর্ঘ প্রতীক্ষা আজ তিতিক্ষায়

পরিণত যেন।

আর কত দিতে হবে পরীক্ষা

আর কত দিন করবো অপেক্ষা?


প্রতীক্ষারে মেনে নিতে চাই

তিতিক্ষা যে বড়োই কঠিন।

বড় বেদনা দায়ক,

চাওয়া কি অপেক্ষা নিছক?

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================


Thursday, July 6, 2023

980>|| বলেছিলে আসবে || | ভালবাসার ফসিল( +1)

   980>|| বলেছিলে আসবে ||

980/1>|| ভালবাসার ফসিল ||

==========================

980>|| বলেছিলে আসবে ||

                   <-----আদ্যনাথ--->

ভালোবাসি যাকে 

মনচায় কিছু দিতে তাকে।

বিনিময়ে চাইনা কিছু,

চাই শুধু পূর্ণিমার স্নিগদ্ধ জোৎস্নারমতন 

হাসি টুকু থাকুক তার ঠোঁটে।


বসে আছি পার্কের চেয়ারে,

গাছের নিচে,

খোলা আকাশের নিচে,

জানিনা কখন চাঁদ উঠলো

কখন সন্ধ্যে হয়ে গেল।


গাছে বাঁদর গুলি,

চুপকরে বসে বোধহয় আমায় দেখছে।

বাচ্চা বাঁদর গুলি,

কখনো মায়ের কোলে,

কখনো গাছের ডালে ডালে,

লাফিয়ে বেরাচ্ছে।


বাঁদর গুলি কি,

চাঁদের আলোর অপেক্ষা করছে?

ওরা কি মনের আনন্দে আছে

আমাকে দেখেই হাসছে?


ধোবার গাধাটা পুকুর পাড়ে

একলা দাড়িয়ে ডাকছে।

ও কি ডাকছে নাকি হাসছে,

বোঝাই মুশকিল লাগছে।


সেদিনওতো বলেছিল আসবে,

তবেকি সেদিন

গ্রহণ লেগেছিল চাঁদে,

সেই পূর্ণিমা রাতে?


গোলাপটা শুকিয়ে গেছে,

পাতাগুলি ঝড়ে পড়ছে,

সেকি আর কথা রাখবে?

সেতো বলেছিল আসবে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================


980/1>|| ভালবাসার ফসিল ||

                <-----আদ্যনাথ--->

তোমরা যে বলো সুন্দর

সুন্দরের শোভা কোথায়?

সুন্দরকে খুঁজি ঘড়ের বাইরে

হোটেলে কিংবা বারে।


সুন্দর বাইরের কিছুই নয়

সুন্দর থাকে মনের ভিতরে।

সুন্দরকে খুঁজে নিতে হয় ভালোবেসে নিজের করে,

সুন্দরকে উপভোগ করাতে হয় আদর করে।

সেতো সকলের সাধ্য নয়,

সুন্দরকে ভাগ করে নিতে হয়।

সুন্দরকে ছড়িয়ে দিতে,

হাত বাড়িয়ে দিতে হয়।


যৌবন তো সমর্থ, 

প্রতিবন্ধীদের জন্য একটু হাসি

অথবা একটি ফুল

এগিয়ে দিলে দোষ কোথায়,

তারাও তো  আনন্দ উপভোগ করতে চায়।

কিন্তু উপায় কোথায়।

প্রতিবন্ধকতা কি যৌবনের

উল্লাসের অন্তরায়।

জানিনা কার ভাবনা কোন ফসিলে আঁকা আছে।

ভালোবাসা বুঝি আজ সংকীর্ণতায় হারিয়ে গেছে।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->   

=========================



Sunday, July 2, 2023

979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা || (1 to 3)


979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা ||

979/2|| SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিকের আড্ডা  ||

979/3>|| রথের মেলা স্মরণে SV2 আড্ডা ||

=============================

979/1>|| আমাদের SV2এর সান্ধ্য আড্ডা ||

       <----আদ্যনাথ----->

         03 জুলাই 2023-----to fb+w-app


আড্ডা আড্ডা আমাদের আড্ডা,

SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিক কয় জনের আড্ডা।

যে আড্ডা রোজ শুরু সন্ধ্যায় যখন,

আমরা দল বেঁধে বসে নিজের মতন।


আমাদের আড্ডা চলে দুই ভাগে

পুরুষ ও মেয়েদের পৃথক গোল টেবিলে।

টেবিল বিহীন চেয়ারেই আমরা খুশি,

সান্ধ্য আড্ডায় মেয়েদের সংখ্যা বেশি।


চিন্তায় আমরা নিশ্চই টাইম মেশিন,

জানা অজানায় খুঁজে চলি প্রতিদিন।

যার যখন ইচ্ছা সে তখনই চলেজায়,

অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের চিন্তায়।


আমরা অতীত ও ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন,

কিন্তু ভুলবোনা বর্তমান অধিক গুরত্বপূর্ণ।

অতীত তো অতীত আর আসবেনা ফিরে,

ভবিষ্যৎকে  কে দেখেছে প্রত্যক্ষ করে।


আমাদের কিছুসময় কাটে নানাচিন্তায়,

কতো ভাবনার স্রোত বয়ে চলে আড্ডায়।

বুঝি সকলেই পেতেচায় শ্রেষ্ঠ আসন,

যৌবনে তো ছিলো যে-যার নিজের মতন।


আজকের আড্ডায় রূপ-রস-গন্ধ নাই,

আছে মনের কথা বলার একটু ঠাই।

সান্ধ্য আড্ডাই যেন এক নেশার টান,

সন্ধ্যে হলেই যেন মন করে আনচান।


এসেই খোঁজ কে এলো আর কে নয়,

তার পরে অপেক্ষার কাটে কিছু সময়।

সকলে আসলে আনন্দ অনুভব হয়,

কারুর অসুস্থতার খবরে নানা চিন্তা হয়।


অনেকেই চলে গেছেন ইহ লোক ছেড়ে,

সময়ে কেউ কেউ চলেগেছেন দূরে।

মোবাইল আছে তাই দূরত্ব কিছু নয়,

ভালোবাসার টানে দুরও নিকট হয়ে যায়।


আমাদের আড্ডায় নাই স্বার্থগন্ধময় পরিচিত কাহিনি।

আমরা সকলকে বন্ধুর মতন করে চিনি।

এই সান্ধ্য আড্ডা যেন একটু প্রাণ পাওয়া,

কিছু কথা বলে মনে একটু হালকা হওয়া।


আমার অনুপস্থিতি জানিনা কাউকে কেমন ভাবায়,

আমি যতো দূরেই থাকি আমাদের আড্ডা

আমাকে ভাবায়।

সন্ধ্যা হলেই শরীরে না হলেও মন পৌঁছে যায় SV2এর আড্ডায়,

তাইতো আড্ডা ছাড়া দিনটিই বৃথা যায়।

   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=============================


979/2|| SV2 জ্যেষ্ঠ নাগরিকের আড্ডা  ||

          <---আদ্যনাথ---->

আড্ডা জমে হাসি গল্পের মজাতে,

কিছুদিন জমেছিল তাসের আড্ডাতে।

সেদিন হঠাৎশুরু চা-টাএর যোজনা,

দামবাবুর মনের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা।


তারপর  চা-টাএই মননিবেশ বেশি,

মনে হয় চা আর স্নাক্সেই সকলে খুশি।

এবার শুরু চা-এর নানা পরিকল্পনা,

এভাবেই হল আড্ডার পরিমার্জনা।


এবার চায়ের আড্ডা জমাবার চেষ্টা,

চললো ফোনে ফোনে ভিড় জমাবার চেষ্টা।

কার উপস্থিতিতে বেশি ভিড়ের ফর্দ,

এমনি করেই পাল্টে গেল আড্ডার শর্ত।


নীরব অহঙ্কার সুপ্ত মনের গভীরে,

কেউ হয়তো ভাবনার জাল বোনে।

সান্ধ্য আড্ডার রকমফের প্রকার,

আসলে বুঝি  আভিজাত্যের অহঙ্কার।


এ-ভাবেই বুঝি জমে বাঙালির আড্ডা

মুখে কিছু না পড়লে কারুর মুখ চলে না।

আমাদের আড্ডা কিছু কথার কচকচানি,

দুইতিন ঘন্টা কিছু কথার টানাটানি।


বাঙালির নানান  বিখ্যাত আড্ডা,

যে আড্ডা ছিল সাহিত্য চর্চার আড্ডা।

সেই আড্ডা লেখা ইতিহাসের পাতায়,

যা আজও আমাদের সমাজকে ভাবায়।


সেই আড্ডার নির্যাস কতো সাহিত্যের ভান্ডার,

যা করে চলেছে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও উদ্ধার।

সেই আড্ডা ছিল সাহিত্যের রত্নখনি,

সে আড্ডাই বাংলাসাহিত্যের প্রাণ জানি।



আমাদের সান্ধ্য আড্ডার মূল কুশীলব 

কেউ নয়,

সময়ের সাথে কেউকেউ দূরে চলে যায়।

আমাদের সান্ধ্য আড্ডা রোজ  বসে কিছু কথা বলা,

আমাদের আড্ডার মূল মনখুলে কথা বলা।


আমাদের আড্ডা সিনেমা থেকে  ক্রিকেট কিছুই যায়না বাকি,

এভাবেই চলছে আমাদের সান্ধ্য চায়ের আড্ডা খানি।

এ-ভাবেই হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে আমাদের সান্ধ্য আড্ডা।

একদিন হয়তো বিখ্যাত হবে আমাদের সান্ধ্য আড্ডা।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

03 জুলাই 2023 দুপুর 12:11:24.

===========================


   979/3>|| রথের মেলা স্মরণে SV2 আড্ডা ||

            <----আদ্যনাথ---->

আজ আমাদের SV2 সিনিয়র সিটিজেন আড্ডায় পেলাম গরমাগরম পাপরভাজা আর গরম গরম জিলিপি তাজা।

রথের সন্ধ্যায় এমন মুখরোচক ভাজা,

মনে প্রানে হয়ে উঠলাম ভীষণ তাজা।


মনে পড়ে গেল ছেলেবেলার রথ দেখা,

বাবার হাত ধরে সেই রথের মেলায়,

চার ভাই মিলে ভাগাভাগি করে 

দুটি পাঁপড়ের ভাগ করে খাওয়া,


শেষে সেই বাঁদরের পিঠে ভাগ করা।

পরে চুল ছেড়া ছেড়ি আর মারামারি,

শেষে কেঁদে কেটে মা এর অনুশাসনে 

সমস্যার সমাধান।

কুমড়ো ভাজা বা আলু ভাজা দিয়ে,

সেই গোল গোল আলু ভাজা নিয়ে।

তখনতো বাড়িতে পাঁপড়ভাজা হতনা,

সে সকল এখন অবান্তর ভাবনা।


পাঁপড় ভাজা আর জিলিপি

পুরোনো দিনের কথা লিপি।

আজ পেলাম  আদর করে,

তাইতো সেদিনের কথা মনেপরে।


এমনি করেই আমাদের আড্ডার শ্রীবৃদ্ধি হোক,

এমনি করেই আমাদের স্মৃতি বর্ধক হোক।

শ্যামবিহারের আমরা কজন,

যেন থাকতে পারি হয়ে স্বজন।


আপনার লোক, বন্ধু-বান্ধব-পরিজন,

রোজ সান্ধ্য আড্ডার আমরা কজন।

আজ রথের মেলার সান্ধ্যা আড্ডাটা,

মনে থাকবে বহুদিন এই সন্ধ্যাটা।


সকলকে জানাই আমার শুভেচ্ছা,

শ্রীবৃদ্ধি হোক সকলের আর ভালো 

থাকার ইচ্ছা।

এমনি করেই চলুক নানান মুখরোচক ভাজা।

তবেইতো সকলের মন হবে স্বতেজ তাজা।

       <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->

===========================