Friday, April 29, 2022

915> || বুনো ফুল ||

   915> || বুনো ফুল ||

                 <---আদ্যনাথ--->

বনের ঐযে বুনো ফুল গুলি,

কি অপূর্ব, বনেই সুন্দর ওগুলি।

মানুষ তো কতই আছে,

কে কাকে ডেকে নেয় কাছে।  

যার ছিল ভাবনা যাবে দূরে,

সেই বার বার আসে ঘুরে ফিরে।

সোজাপথে বুঝি পথ হারায়,

বাঁকা পথে আনন্দ খুঁজে পায়।

পথিক তুমি দাঁড়াও কিছু ক্ষণ,

মৌ-মাছি ব্যস্ত করতে মধু আহরণ।

ভ্রমরের গুণ গুণ পলাশের লাল

অন্তর মন গেয়ে চলে মিলনের গান।

ফুলের সুন্দরতা থাকে ততক্ষণ,

যৌবন আছে তার যতক্ষন ।

ফুল তো ঝরবেই সময়ের ডাকে

প্রেমলীলা চলে যৌবনের কোলে।

প্রেমিক প্রেমে মাতে যৌবনের ডাকে

কতো কিছু হারিয়ে যায় যৌবনের ঝরে।

 ভাবনার জাল বুনেচলে সুপ্ত মনে,

হারানো মন কি আর ফিরে আসে।

যৌবন তো ক্ষনিকের অলীক স্বপ্ন,

পাগল করার মোহময় রঙিন গল্প।

ফুরিয়ে যায় উড়ন্ত ফানুষের মতন,

ক্ষনিকের সৌন্দর্য্যে ভুলেজায় মন।

মন তো চায় উড়তে পাখনা ছাড়া

কিছু কথা ছিলো বলার ছন্নছাড়া।

আমি এক ভবঘুরে চিনিনা নিজেরে

ব্যাকুল মন যেতে চায় নিজেকে ছেড়ে।

তবুও আঁকড়ে ধরতে চাই তারে,

আসলে মৃত্যুকে দেখেছি বারে বারে।

   <----আদ্যনাথনাথ রায় চৌধুরী--->    

===========================

914>|| স্বখাত সলিল ||

   914>|| স্বখাত সলিল ||

              <--আদ্যনাথ-->

 লংঘেছি কতো নদী নালা শৃঙ্গ,

  এখন থেমেছি মোহনায়,

 পাইনি খুঁজে কোনদিন তল,

 স্মৃতির সেই আসমুদ্র হিমাচল।


মনেবলছিল চিরকাল,

অচল হবেনা বৃদ্ধ কাল,

মনবল এখনো আছে তুঙ্গে,

পরিবেশ বাঁধ সেধেছে নিয়তির সঙ্গে।


চিলের ডানা হয়েছে ভারী

ঠোঁট নখ গুলি অকেজো হয়েছে আজি

বাঁচার তীব্র লড়াইয়ে জীবন ধরেছে বাজি

বহু যাতনা তীব্র মনোবল ফিরে পেতে নুতন জীবন খানি।


মরণ রোগ বেঁধেছে বাসা দেহে

অনেক আশা বুঝি বিনাশ হয়ে গেছে।

খুঁজে মরি আকাশ পাতাল 

বুঝেও দুষি সময়ের কাল।


চলছে চলুক নদীর ধারা,

যতদিন পাবে জলের প্রবাহ ধরা।

বয়ে চলুক আপন গতিতে 

মনের আকাঙ্খা সঙ্গমে মিলিতে।


নহি অসহায়, কিন্তু ক্লান্ত সন্তপ্ত বিধ্বস্ত 

রাখিনি কোনদিন সময়ের হিসাব।

হেসে খেলে চলছে জীবন,

কে রাখে কার মনের হিসাব।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরীর-->

==========================


Thursday, April 28, 2022

913>|| হতে পারিনি বাগানের মালি ||

     913>|| হতে পারিনি বাগানের মালি  ||

                 <---আদ্যনাথ-->

নুতন ভাবনার পাল তোলে মন,

খোঁজে চারিদিক কেআছে আপন।

কত আশা কত ভালোবাসা

প্রভাতের রক্তিম কিরন মাখা।

বারান্দায় বসে দেখি পথিক কতো

ব্যস্ত যেন খরস্রোতা নদীর মতো।

অনেক স্বপ্ন ছিলো লুকানো মনে

এখনো বসে আছি জানালা খুলে।

ফুল যে বরো ভালো বাসি,

কিন্তু হতে পারিনি বাগানের মালি।

মনেহয় প্রকৃতি নিজেই প্রেমের ডালি,

আনন্দ পূর্ন হৃদয়ে মন এখনো খালি।

অনেক অপেক্ষার অবসান,

হলোনা মধুরেণু সমাপয়েত!

ছিলো অনেক ভাবনার সুখ-স্বপ্ন

আজ হারিয়ে গেছে সকল গল্প।

মনেহয় ভাবনা গুলি ছিল অলীক,

তাই বুঝি ধরে রাখতে পারিনি ঠিক।

কতো ভাবনা কতো গল্প বলা,

তবুও অনেক কিছুই হয়নি বলা।

হতে পারিনি ফুলের মালি,

অঙ্কুরেই রয়েগেল ভাবনার কলি।

কীহবে প্রলাপ বকে একলা বসে,

সেকি আর ফিরবে যে চলে গেছে।

   <----আদ্যনাথনাথ রায় চৌধুরী--->    

====================

Wednesday, April 20, 2022

912>|| একটু হলেও ভাবি। ||

      912>|| একটু হলেও ভাবি।  ||

              <--আদ্যনাথ-->

হারিয়ে গেছে সবটুকু,

হারিয়ে গেছে সেই ভাবনা টুকু।

হারিয়ে গেছে অনেক কিছু,

হারিয়ে গেছে সবকিছু।

জানি ফিরে পাবনা আর কিছু,

হারানো স্বপ্নে মিশে গেছে সবকিছু।

আমার আমার করেই বার বার,

সত্তর পারকরেও মাঝি বাইছে দাঁড়।

আজ নাই নদীতে জল নাই খাল,

শুধুই বালুময় ধূ-ধু মরীচিকার ছল।

পাইনি কোন ডাঙ্গা পার,

চারিদিকে শুধুই হাহাকার।

আজ বুঝলাম স্বপ্নের জীবন তরী,

আশার হাঁহাঁকারে ভরেছে খালি।

তাইতো এখনো আছি,

আজও বসে আছি।

অনেক আদরে ধরে আছি,

সম্বল মাত্র ভাবনার দড়ি কাছি।


জানিনা কখন ছিঁড়ে যাবে,

পাল ছিঁড়ে ভেসে যাবে।

বিশালের মাঝে হারিয়ে যাবে,

হয়তো গভীরে তলিয়ে যাবে।

তবুও আশায় বুকেবেঁধে আছি,

আলগা না-হয়েজায় হাতের কাছি।

দিনের শেষে সূর্য্য গেল অস্তাচলে,

ভাবনা গুলো ভাবিয়ে চলে।

আকাশের তারা গোনার ছলে,

সন্ধ্যারপরে রাতের সন্ধকার নামে।

সবকিছুই আজ হারিয়ে গেছে,

মনের ব্যথাগুলো শুঁকিয়ে গেছে।

চোখের জল কখনযেন হারিয়ে গেছে,

নিজের লজ্জা লুকাই নিজের কাছে।

সকলেইতো আছে দূরে কাছে,

ভাবনা,কেউ যদি কিছু ভাবে।

বিশালের মাঝে হারিয়ে যাবে,

জানিনা কখন কাছি ছিঁড়ে যাবে।

         তবু এখনও আছি,

        একটু হলেও ভাবি।

   <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

===========================






911>|| সুন্দর জীবনের খোঁজে ||

   911>|| সুন্দর জীবনের খোঁজে ||

                 <--আদ্যনাথ-->

জীবনের পথ সর্বদা আলো ছায়া,

আর সেই পথেই এগিয়ে চলা,

সত্যকে খুঁজে পাওয়াই সার্থক জীবন,

 আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে চলাই জীবন।

জীবন শিক্ষা দেয় নিত্য নুতন,

নুতন কে করেনিতে হয় আপন।

এভাবেই গড়ে ওঠে সুন্দর জীবন।

আর জীবনকে সুন্দর করতে

কিছু হয় ঝেড়ে ফেলতে।

শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয় মেদ,

মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয় জেদ,

মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে হয় ভেদা-ভেদ।

      <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

============================





Tuesday, April 19, 2022

910>|| একদিন হঠাৎ ||

         910>|| একদিন হঠাৎ ||

                   <--আদ্যনাথ-->

সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে ইজিচেয়ারে বসে আছি একলা। চারিদিগের পরিবেশ বেশ শান্ত ও চুপ চাপ। মাঝে মাঝে মেট্রো ট্রেন ও লোকাল ট্রেন গুলি হর্ন বাজিয়ে নীরবতা ভঙ্গ করে দেয়।

বর্ষার সময় রেল লাইনে একটু ফাটল দেখা দেওয়ার সেই থেকে এখন মেট্রো ট্রেন গুলি খুব ধীরে যাতায়াত করছে।

বেশ শান্ত ও নিরিবিলি সন্ধ্যা।

আমার বাড়ির দক্ষিণ ও পূর্ব দিক বিস্তীর্ণ অঞ্চল তেমন লোকালয় না থাকার কারণে সারাবৎসর বেশ ঠান্ডা হওয়া পাওয়া যায়।  

সেই কারণে সন্ধ্যার পরে আমি ছাদে পায়চারী করতে ও আরাম কেদাড়ায় বসে একটু স্বস্তি পাই। বাড়িতে থাকলে সন্ধ্যা বেলা থেকে রাত্রি নয়টা পর্যন্ত আমার ছাদেই থাকতে ভালো লাগে।

আর শীতকালে সারাটা দুপুরেই ছাদে বসে হেটে সময় কাটাই।


প্রতিদিনের মতন সেদিনও সন্ধেবেলায় আমি ছাদে আরাম কেদাড়ায় বসে ছিলাম,

 ঝিলের ঠান্ডা দক্ষিণা হওয়ায় দুচোখ বুঝে আসছিল।

এমন সুন্দর ঠান্ডা হাওয়ায় বেশ একটু ঘুমের আবেশে  চুপ চাপ বসে আছি।

হঠাৎ একঝলক বেশ ঠান্ডা হওয়ায় শরীরটা একটু কেঁপে উঠতেই মনে হলো কেউজেন খানিকটা বরফ ছুড়ে মারলো,

চোখ খুলে গেল , আর তখনই মনেহল আমার সামনে কেউ যেন দাঁড়িয়ে, অবিকল আমার মতন দেখতে।

বেশ একটু ঘাবড়ে গিয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসে  আগন্তুককে জিজ্ঞাসা  করলামজ কে কে আপনি?

আগন্তুক একটু মুচকি হেসে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।

আমি ভাবছিলাম যেন আমি নিজে কোন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে।

কিন্তু আগন্তুক তো দাঁড়িয়ে আর আমি ইজিচেয়ারে বসে।

একটু আরাম করে বসে ছিলাম, হঠাৎ এমন ঘটনায় শিরদাঁড়া সোজা করে বসে দেখছিলাম আগন্তুককে। দেখছিলাম ওনার মুখে সুন্দর মিষ্টি হাসি।

আমি অবাক বিস্ময়ে আবার জিজ্ঞাসা করলাম কে, কে আপনি!

কিন্তু কোন উত্তর পেলাম না।

আর ঠিক তখনি রিও এসে বললো 'দাদু আমার সাইকেল টা বারকরে দেও,আমি সাইকেল চালাবো।'

 

আমার চমক ভেঙে যেতেই  আমার নাতির  সাইকেল টা বারকরে দিয়ে  ভাবতে লাগলাম ব্যাপারটা কি হল।

হঠাৎ করে লোকটা এলো কোথা থেকে আবার কোথায় চলে গেল!

নাকি সবটাই আমার মনের ভুল।

নাকি আচ্ছন্ন নিদ্রায় সন্ধেবেলায়  কোন স্বপ্ন দেখছিলাম।

সেদিনের পরথেকে রোজই ছাদে বসে অপেক্ষা করি সেই আগন্তুকের।

ভাবনাটা কেমন যেন মনে বসেগেছে, কিছুতেই ভুলতে পারছি না।

এমনি করে অপেক্ষায় কেটে গেল অনেক দিন।

কিন্তু তেমন কোন ঘটনাই আর ঘটলো না।

আমিও ভাবতে লাগলাম সেদিন ওটা নিতান্ত আমার মনের ভুল ছিল, আর সেই কারণেই ব্যাপারটা নিয়ে আর কোন ভাবনা চিন্তা করা বন্ধ করে ব্যাপারটা ভুলেই গিয়েছিলাম।

এর পরে কেটে গেল বহুদিন।

আমি বাড়িতে থাকলেই সন্ধ্যায় নিয়মকরে হাটতাম ছাদে।

বাড়ি থাকলেই হাটতাম এমন কথা বলার একটাই কারন যে আমি বেশিরভাগ দিন তেঘড়িয়ায় মেয়ের বাড়িতে থাকি।

মাঝে মাঝে বাড়িতে আসি। আর বাড়িতে আসলেই নিয়ম করে ছাদে হাটা হাটি করি।

এমনি করেই বেশ কিছুদিন পার হয়েছে।

আর সেদিনও আমি বসে আছি একলা, মাঝে মাঝে একটু পদায়চারী করছি, 

আবার বসছি। হাঁটছি আমার  মেয়ের কিনে দেওয়া ওয়াক ওয়াচ টা হাতে পরে।

রোজ মাপতে হয় কতটা হাটলাম।

মোবাইলের ব্লুটুথ যোগ করা আছে।

তাই মোবাইল থেকে দেখে নি কতটা হাটলাম কতো ক্যালোরি বার্ন হলো,

ইত্যাদি।

সেদিন বেশ আনমনা হয়েই পায়চারী করছি হঠাৎ পিঠে একঝলক  ঠান্ডা হওয়া অনুভব করতেই পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলাম  সেই সেদিনের মতন যেন আমি দাঁড়িয়ে আছি আমার সমনে আর মুখে সেই মুচকি হাসিটি ঠিক আছে।

আজ কিন্তু একটু বেশ ঘাবড়ে গিয়ে কিছু বলতে চেষ্টা করলাম কিন্তু মুখদিয়ে কোন আওয়াজই বার হলো না।

এবার মনে হচ্ছিলো কপালে একটু একটু ঘাম জমছিল, সঙ্গে কোন রুমাল ছিলোনা তাই হাতদিয়েই ঘাম মোছার চেষ্টা কোরতেই আগন্তুক বলে উঠলো " কি ঘাবড়ে যাচ্ছ কেন, কি নিজেকে চিনতে পারছো না? আমি তো তোমারই আত্মা। অশরীরী হয়ে আসলে বা অন্য কোন শরীরে ভর করে আসলে হয়তো ভয় পেতে, জানি তুমি ভয় পাওনা, অনেক অশরীরী আত্মার সাথে বহুবার তোমার কথা হয়েছে, সে তো বহু দিনের কথা, আজ আমি এসেছি তোমার কথা শুনতে নয় , তোমাকে কিছু বলতে।

আমি মনে মনে একটু সাহস জুগিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম , কি এমন কথা জানতে এমন ভাবে আমার সন্মুখে?

আমি কথা গুলি বলে ভাবতে লাগলাম সত্যিকি আমি কিছু বলতে পারলাম, নাকি শুধু মনে মনে ভাবলাম । কিছূই বুঝে উঠতে পারলাম না।

আগন্তুক সেই আগের মতন একটু মুচকি হেসে বললো "আজ তোমাকে কিছু বলতে হবে না। আজ তুমি শুধু শুনে যাও আর বলো তুমি কেন বার বার নিজের মৃত্যুর চিন্তা করো? মৃত্যুর কথা লেখ?

তুমিকি জানো,  মৃত্যুর পরে জীবের অশরীরী শরীরটিকে কতো কষ্ট সহ্য করতে হয়! 

মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে জায়না,

মৃত্যুর পরেও চলতে থাকে প্রকৃতির নানান বিবর্তন যাকে তোমরা বলো যমালয়ে যমের বিচার। মৃত্যুর পরে আবার নুতন জীবন না পাওয়া পর্যন্ত অশরীরী শরীরটিকে সইতে হয়  অবিরাম অবর্ণনীয় দুঃখ, কষ্ট, নানা প্রকার নির্যাতন।

যে কষ্টের কথা জানলে কোন মানুষই সুস্থ থাকতে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে সকলকে তো একদিন না একদিন মরতে 

হবেই।

জেনে রাখ বেঁচে থাকাই সুখের, আনন্দের,

যত ইচ্ছা সুখ ভোগ করে নেও জীবন থাকতে।

মৃত্যু পরে চলতে থাকে প্রকৃতির অসহনিয় ভীষণ কষ্ট দায়ক না না বিবর্তনের জ্বালা

যন্ত্রনা।

এক মাত্র শুদ্ধ আত্মার শুদ্ধ শরীরের মুক্তি হয়। তাকে আর জন্ম মৃত্যুর চক্র ভোগ করতে হয় না। তাকে আর কোন শরীরে ঠাঁই নিতে হয়না। সে মুক্ত।

শুদ্ধ আত্মার শুদ্ধ শক্তি প্রকৃতির শক্তির সাথে মিলে যায়।সেই শক্তির রূপান্তর হয়।

আর বাকি সকলকে আবার ভোগ করতে হয় নুতন যোনিতে নুতন শরীরে।"


এতক্ষন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম একদৃষ্টি তে চেয়ে।

এবার যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে গেল।

আমি সন্ধ্যার আকাশে তাকিয়ে রইলাম অবাক বিস্ময়ে।

এমন ঘটনার কারন বুজতে আমার সময় লাগলো না, বুঝতে পারলাম আমি যে

লিখেছিলাম আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু কথা।

আর সেই কারণেই এমন ঘটনা।

বুঝলাম এমনিকরেই চলে জীবনের খেলা।

বেঁচে থাকাটাই আনন্দের সুখের।

মৃত্যুই অন্ধকার বড় নৃশংস,ক্রূর, নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর কঠিন হাহা কার,

যেখানে নাই কোন প্রতিকার,

আছে শুধু ভয়ঙ্কর হাহা কার।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

===========================


 

909>|| মৃত্যুর জ্বালা ||

 


        909>|| মৃত্যুর জ্বালা ||

                         <---আদ্যনাথ--->

ভাবলাম এবার পেলাম মুক্তি,কিন্তু 

কোথায় মুক্তি ?

যমদূতেরা সবে মিলে করছে যুক্তি।

দিতেহবে  হিসাব প্রতি-দিন-ক্ষণের,

নিস্তার নাই যমরাজের শাসনে।

বুঝলাম এখনো অনেক আছে বাকি,

এবার কেমনে কাকে দেব ফাঁকি।


জড়িয়ে ছিলাম সংসার জালে,

হঠাৎ নিয়ে গেল মৃত্যু এসে।

যমদুতদের এতো টানা টানি,

চিত্রগুপ্ত বার বার দেখছে খাতা খানি।

এবার শুরু হবে যমরাজের বিচার,

মনে হয় যমালয় যেন বিচারের বাজার।


দেখছি যমালয় লোকে লোকারণ্য,

আর চারিদিকে শুধু লাশে পরিপূর্ণ।

পশু,পাখি,মানুষ সকলের হবে বিচার,

মৃত্যুর পরে সকলি যমরাজের অধিকার।

যমালয় বিচারাধীন অশরীরীদের হাট,

যমালয়ে সর্বত্র যমরাজের ঠাট বাট।


জীবনের অনেক স্বাদ রয়েগেছে অপূর্ণ।

সকল আশাই হয়েগেল চূর্ণ বিচূর্ণ।

বুঝতে পারিনি হঠাৎ কি করে কি হলো,

কিছু বোঝার আগেই যমদূত লিয়ে গেল।

চাহিদা মেটাতে সংসারের বেরা জালে,

রাখিনি খামতি তবুও মরেছি জ্বলে।


মনের গোপনে ছিল অনেক আশা,

চেয়েছিলাম একটু ভসলবাসা।

যা পেলে হয়তো হৃদয় পূর্নহোত,

থাকতোনা কোন ব্যাধি জ্বালা।

যা চাওয়া যায় সেটা পাওয়াই কঠিন,

আজ বুঝলাম জীবন নিয়তির অধীন।


মৃত্যুতে এতো জ্বালা,জ্বলে পুড়ে মড়া,

শরীর নাই তবুও কর্ম ফলের বিচার করা।

জীবন থাকতে বোঝা যায়না মৃত্যুর জ্বালা,

মৃত্যুর পরেও চলে যমরাজের খেলা।

তারপরে চিন্তা আবার কোথা হবে ঠাঁই!

স্বর্গ,মর্ত,নাকি নরকেই পাবো ঠাঁই?

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

======================

Monday, April 18, 2022

907>|| অন্তিম যাত্রা ||

 907>|| অন্তিম যাত্রা ||

                       <---আদ্যনাথ--->

সকলের মুখে একই বোল,

বোল-হরি-হরি-বোল,

ঐ একটি নামের বোল,

বোল-হরি-হরি-বোল-হরি-বোল।

এতগুলো বছর মেটাতে পেটের জ্বালা, 

নানান চাহিদায় হয়েছি ফালা ফালা।

আজ হঠাৎ যমরাজ ও তার চেলা,

এনেছে আমায় মেটাতে তাঁদের পালা।

করছে হম্বি তম্ভী ভয়ঙ্কর যমদূত সকল,

জানলাম বুঝলাম যমালয়ের গেঁরাকল।

এখানে চলেনা ঘুষ পৃথিবীর মতন,

যমালয়ে চলে যমরাজের শাসন।  

অনেক চাহিদা অনেক আশা ছিলো,

দুঃখ গুলি একান্ত ব্যক্তিগত ছিলো।

তাইতো আজ লাগে বড় ভালো,

মৃত্যু তেই সকল সত্য উপলব্ধি হল।

মৃত্যই চিরন্তন চির সত্য,

মৃত্যুই পুনর্জন্মের একান্ত শর্ত।

মানুষের অসম্ভব অসাধ্য কিছুই নয়,

একমাত্র মৃত্যুকে উপেক্ষা করাই সম্ভব নয়।

চারজনের কাঁধে চড়ে শ্মশান যাত্রা,

হরি বোল বলে বাড়ায় উল্লাসের মাত্রা।

অন্তিমে আগুনেই শুরু ঐহিক যাত্রা,

সাঙ্গ হোল আমার অন্তিম যাত্রা ।

     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

======================

906>|| মৃত্যু শয্যা ||

           906>|| মৃত্যু শয্যা ||

                        <--আদ্যনাথ-->

মনেহয় যেন আছি গভীর ঘুমে,

বাঁশের মাচায় শায়িত আঙ্গনে।

আপাদমস্তক ঢেকে রাখা আছে,

যত্নে এক ফালি সাদা কাপড়ে।

উপরে সাজানো সাদা ফুল ও মালা,

ফুলওঅগরুর গন্ধে মোহময় সন্ধ্যাবেলা।

নিকটেই ছিলাম বসে অনড়,

যে শরীরে ছিলাম এতোগুলি বছর।

ফুল ও মালায় সাজিয়ে রেখেছে যত্নে,

এতো আদর যত্ন দেখিনাই আগে।

ঐযে স্ত্রী,সন্তানেরা এখনো কাঁদছে,

কতো মানুষ অঙ্গনে জড়ো হয়েছে।

ভালোকরে বেঁধে নিচ্ছে লাশটা,

বাঁশের মাচার সাথে চারি পাশটা।

কিজানি চলছে এ কেমন খেলা,

ঘরে যেন আজ বসেছে মেলা।


এতো মানুষের এমন ভালোবাসা,

আগে দেখিনি,পাইনি কখনো।

মনে এই টুকুই-তো ছিল আশা,

আজ সকলেই আছে কাছে,

শরীরটা ছেড়ে আমি একলা দূরে বসে।

কত কাজ ছিল,

আজ হঠাৎ সব থেমে গেল।

কেউ কেউ তারাদিলো,

আর দেরি না করে জলদী করো।

তাই এবার চারজনে মিলে,

বোল-হরি-বলে,নিল কাঁধে  তুলে,

বোল-হরি,হরি-বোল-বলে,

সকলেরই বোধহয় দুঃখী মন,

হয়তো কারুর অশ্রুপূর্ণ নয়ন।

সকলের মুখে একই বোল,

বলো-হরি-হরি-বোল।


বুঝলাম এই চির বিদায়ের বোল,

সব চাওয়া পাওয়া,বেদনার শেষ বোল।

আপন কি পর, নেই অবসর,

সকলের মুখে সেই একই বোল।

ঢুকিয়ে দিলো ইলেকট্রিক চুল্লিতে,

ভীষণ সেই আগুনের চেম্বারে।

নিমেষে শরীরটা গেল ঝলসে,

আমি অসহায় দর্শকের বেশে,

বোধ করছিনা কোন জ্বালা যন্ত্রনা,

শুধু বুঝলাম আমি আছি শরীর ছাড়া।

যে ছিল একান্ত আদরের,

সেই কান্নায় ভাবুক হয়ে,

প্রথমে আগুন দিয়েছিল মুখে।

ছিল শরীর একটা, 

নামও ছিল একটা,

আজ বুঝি মুছে গেল সবটা।

    <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

======================


905> || চলেগেল মৃদুল দা ||

  905> || চলেগেল মৃদুল দা || 

প্রিয়জন চলেজায় নীরবে

ব্যাথা রেখেজায় ধীরে আড়ালে।

আপনজনের অসুস্থতার ভাবনায় মন যখন ভাবে,

হঠাৎই খবর পাই তার চির বিদায়ের।

বড় আপন ও প্রিয় ছিলেন মৃদুল দা

আমাদের আশা ভরসার মৃদুল দা।

শিক্ষাপ্রসার ও জনকল্যাণ সংসদ।"

আবার একবার অভিভাবক শূন্য হল।

আমরাও হারালাম আমাদের আদরের দাদা ও অভিভাবককে।

আমাদের আদরের মৃদুল দা, 

আমাদের ছেড়ে, ইহলোকের মায়া জাল ছেড়ে চলেগেল। চলেগেল পুরানো ঠিকানা ছেড়ে নুতন ঠিকানায়, মঙ্গলময় ঈশ্বরের চরণ তলে 10ই এপ্রিল 2022।

আজ 10 এপ্রিল 2022  রাম নবমীর

শুভ লগ্নে অর্থাৎ চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবম দিনে বসন্তের নবরাত্রি রাম নবমী।

বাসন্তিপূজার নবরাত্রির শুভ ক্ষণে

 একনিষ্ঠ সমাজ সেবক ও  মহা পুণ্যবান

আমাদের আদরের মৃদুল দা ( মৃদুল কান্তি দাম) চলে গেলেন নিজ ধামে, ঈশ্বরের চরণ তলে।



Mridul Kanti Dam 

General Secretary of

"Shiksha Prasar O Janakalayan Samsad."

এমন দুঃসংবাদ লিখতেও হাত কাঁপছে।

মৃদুল দার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

     <--আদ্যনাথ রায়  চৌধুরী-->

===========================

 

   A sad news-------

   10th April 2022

To day Mridul da, left this world and

Went on the path of eternity.-----

Because of such bad news I am Extremely shocked.

Our respected   Mridul Kanti Dam, 

General Secretary of

"Shiksha Prasar O Janakalayan Samsad."  

He is no more with us today.


========================

   || অঘটন ঘটেজায় হঠাৎ ||


হঠাৎ হঠাৎ এমন অঘটন ঘটেজায়

যার বেদনা জীবন ভর বয়ে চলতে হয়।

চলে গেলেন আমাদের মৃদুল দা (মৃদুল চন্দ্র দাম, সাধারণ সম্পাদক,

শিক্ষাপ্রসার ও জনকল্যাণ সংসদ)  

হৃদয়ে রয়েগেল বেদনার গভীর দাগ।

কি করে ভুলবো ওনার নাথাকার বেদনা

বার বার চেষ্টা করেও বুঝতে পারছি না।

সংগঠনের কি হবে,কি করে চলবে,

কত দুস্থ শিশু ওনার পথ চেয়ে থাকে বসে,

তাদের চাহিদা পূরণ হবে কি ভাবে?

আমরা তো এক একটি পদ ধরে বসে আছি।

কোন কাজেই কোনদিন হাত বাড়াই নি,

মৃদল দা ই নিজেকে উজাড় করে দিতেন,

ওনার শূন্য স্থান অপূর্নই রয়ে যাবে।

আমরা একটু শোক প্রকাশ করেই বাহবা লুটবো,

কিন্তু কিহবে ওই ভবিষ্যতের শিক্ষার্থী  দের,

হয়তো ওরা সহায়তা পাবে কারুর একটু

সৌজন্যে,

কিন্তু আপন করে নেবার মতন কাউকে কি পাবে!

জানি শিক্ষার প্রসার হয়তোবা হবে,

কিন্তু সেই একান্ত হৃদয় দিয়ে জনকল্যাণ কি হবে?

এই টুকুই আজ আমাদের  ভাবতে হবে।

   আমাকে দিন রাত ভাবাচ্ছে।

     <--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

             11ই এপ্রিল 2022

========================≠