Tuesday, September 13, 2022

941>|| মানুষ শ্রেষ্ঠ ||

      941>|| মানুষ শ্রেষ্ঠ ||

                 <---আদ্যনাথ--->

কুমারের সৃষ্টি মাটির মূর্তির সামনে মানুষ মাথা নত করে, তাকে পূজা করে।

মাটির মুর্তিরকে মানুষ তার শ্রেষ্ঠ আসনে বাসায়।

কিন্তু ঈশ্বরের সৃষ্টি মানুষ নিজেদের মধ্যে ধ্বংসের লীলা খেলে, একে অপরকে হিংসা করে,নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে চলে।


ঈশ্বর সৃষ্টি করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ কে।

কুমোরও সৃষ্টি করেন তার শ্রেষ্ঠ কে।

শুদু শ্রেষ্ঠের শ্রেষ্ঠ হয় অধম,

আর অধমের শ্রেষ্ঠ হয় শ্রেষ্ঠ।

পদ্ম, গেলাম এবং সকল ফুল সুন্দর , তারা শুকিয়ে গেলে পাকে পরিণত হয়,

আবার সেই পাকেই সুন্দরের সৃষ্টির অঙ্কুর অঙ্কুরিত হয়।

এভাবেই সকল চক্র আবর্তনে সৃষ্টি ও ধ্বংস করে চলে। আর এভাবেই ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ অঙ্কুরিত হয়।

তাইতো বলাহয় মানুষ শ্রেষ্ঠ,

মানুষের সৃষ্টি ও শ্রেষ্ঠ।

      <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

Monday, September 12, 2022

940>|| বিশ্বাস ||

      940>||  বিশ্বাস ||

                  <--আদ্যনাথ-->

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।

জ্ঞান ও সত্যের নাই কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা,

বিশ্বাসেরও নাই সর্বজনসম্মত সংজ্ঞা।

বিশ্বাস মানে আস্থা অথবা ভরসা,

বিশ্বাস, নিশ্চয়তার উপর আস্থা।


সন্দেহ মুক্তহলেই বিশ্বাসে বাড়ে ভরসা,

মনে প্রানে একান্ত  ভরসা করাই বিশ্বাস।

বিশ্বাস অর্জন করা বড়ই কঠিন,

কিন্তু বিশ্বাস হারান অতি সহজ।


বিশ্বাস অতি ভঙ্গুর

সহজেই হারিয়ে বা ভেঙে যায়।

হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস 

ফিরে পাওয়া যায়না আর।

বিশ্বাস জীবনকে অনেক শেখায়

অবিশ্বাস জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ।

বিশ্বাস সত্যের আর এক রূপ,

বিশ্বাস সত্যতেই শুরু সত্যতেই শেষ।


   বিশ্বাসে বাড়ে ভক্তি

ধর্মের বিশ্বাসে বাড়ে মনের শান্তি।

ধর্মের গোড়ামীতে বাড়ে নানা অশান্তি।

অতিবিশ্বাসের ফল অন্ধবিশ্বাস।


মানুষ কে বিশ্বাস করা একান্ত উচিত,

বিশ্বাস যোগ্য মানুষ নির্বাচন বড়ই কঠিন।

বিশ্বাস করা যেমন কঠিন,

অবিশ্বাস করা ততোধিক কঠিন।

<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================


939>|| দিনের শেষে ||

 


    939>|| দিনের শেষে ||

                 <--আদ্যনাথ-->

জীবনের এতটা পথ পারহয়ে এসে, 

দিনের শেষে ক্লান্ত মনে একলা বসে।

ভবনা গুলি অতীতে দিচ্ছে পারি,

শত চেষ্টাতেও অতীত ভুলতে নাপারি।


চেয়েছিলাম খুশি রাখতে সকলকে,

কখনো পারিনি কাউকে কিছু বলতে।

কেউ খুশি হোল, কেউ নারাজ রইলো,

কেউ আবার হিংসার পথ বেছে নিলো।


আজ মনে হল একটু হিসাব করি,

কিছুতেই মেলেনা হিসাবের কড়ি।

আগে পিছে,সকলেই এগিয়ে গেছে,

হিংসুখেরা দেখি আজও পিছনে আছে।


যারা খুশি তারা নিজের কেউ নয়,

নিজের বলতে যারা, এখনো অখুশি রয়।

নিজের জনেরা অপরের ত্রুটি মন্দ খোঁজে,

নিজের সময়ের হিসাব কি আর রাখে!


বিনিময়ের কখনো করিনি একটুও আশা,

মনের গোপনে ছিল ভালোবাসা।

প্রতিদানে পেয়েছি অনেক ক্রুর সাজা,

সাজা গ্রহনেও ছিল আনন্দ মজা।


প্রকৃতির কোলে প্রকৃতিরে ভালোবেসে,

জীবনের অর্থ খুঁজি জীবনকে ভালোবেসে।

সুন্দর তো অসীম অফুরন্ত,সদা আনন্দময়

সুন্দরের পূজারীর হৃদয়েসদাই আনন্দরয়।


ভাগ্যর দোহাই না দিয়ে কর্মেই ছিল মন,

ছিল দিন রাত কর্ম ব্যস্ত জীবন।

তবুও আপনজনেরা কেন জানিনা,

নিকটে থেকেও কাছে রয় না।


ওরা ভুলেগেছে, সবপেয়েছির জীবনে,

জীবন ক্ষনিকের, কিছুই যায়না হারিয়ে।

আনন্দের উৎস হৃদয়ে লুকিয়ে রয়,

সদা হাস্য মুখে তাকে খুঁজে নিতে হয়।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

============================

937>|| একলা মন ||+938

 937>|| একলা মন 

938>|| বুঝেছি যত্নে ||

===========================

   937>|| একলা মন ||

              <--আদ্যনাথ--->

সকল কাজের মাঝে,

হয়তো দিনের শেষে,

হয়তো  কাজের শেষে,

কিছু ভাবনা ভাবায় সবশেষে।

বহু পথ চলেছি নানান দেশে,

নানান বেশে, 

নিত্য নুতন পরিবেশে,

শেষ যাত্রার ট্রেনটিও ধরতে হবে।


তাই তো শেষের দিনের শেষের তরীটির খোঁজের ভাবনা।

আছে নানান ভাবনা 

নয়তো কোন অলীক কল্পনা।


ভাবনা গুলি ভাবায়,

দূরের স্বপ্ন দেখায়,

ভাদ্রের বৃষ্টি ভেজা সকালে ভাবায়,

মোহ ময় আকাশটা অনেক ভাবায়।

মাঝে মাঝেই ভাবায় অনেক,

দুরন্ত সেই দিনের কিছু ক্ষনের,

মন না চাইলেও প্রাণের টান যে থাকে,

কি করে কেমনে ভুলবো তারে!!


আমি এক ভবঘুরে,

ঠিকানা খুঁজি ঘুরে ঘুরে,

হয়তো ছিল একদিন আদোর করে

হরিয়েছি হয়তো অবহেলা করে।

মনে মাটির টান যে আছে,

একলা মন অনেক ছবি আঁকে।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

======================

    938>|| বুঝেছি যত্নে ||

                  <---আদ্যনাথ--->

বুঝেছি অনেক যত্ন করে

আরও কিছুকাল বাঁচতে হবে।

জানিনা কোন আদরে,অনাদরে,

শেষের দিন আসবে কেমন করে।

আজ তাই ভাবছি সারা দিন,

সবকিছু থাকতেও আমি নিতান্ত দীন।

জানি মন ভাবনার অধীন,

তবুও ভাবায় স্বপ্নে সেইদিন।


জীবমাত্রেই সময়ের হাতে পরাধীন,

সময়ের শেকল ভাঙ্গা অসম্ভব কঠিন।

সময়ের গতি পথ বড়ই মসৃণ।

সময় অবশ্যই সম্পুর্ন স্বাধীন।

অনেক ভেবেও বুঝিনাই কিছু

নানান সংস্কারের আছে পিছু টান কিছু।

সংসারের কিছুই দেখিনাই, 

সময়কে অবহেলা করে কিছুই বুঝিনাই।


মুহূর্ত দেখে হয়না কারুর জন্ম,

মুহূর্ত না দেখেই আসবে মৃত্যু।

তবুও সকল কাজেই খুঁজেছি শুভ মুহূর্ত,

নিত্য নুতন হরেক কর্মের হরেক মুহূর্ত।

সময়ের দুরন্ত প্রলয় আবর্তে,

বৎসর মাস দিনগুলি তর্ক বিতর্কে।

একলা নিরালায় ভাবনা দিনশেষে, 

ফেলে আসা দিনগুলির স্বপ্ন আবেশে।

     <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===========================


Saturday, September 10, 2022

936>|| আমার জন্মদিবস ||

     936>|| আমার জন্মদিবস ||

                        <---আদ্যনাথ--->

আজ,10 সেপ্টেম্বর::--

আজ, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস।

তাই বুঝি আজ, আমার জন্মদিবস।


আত্মহত্যা, মনের এক করুন প্রবণতা,

এহেন প্রবণতা প্রতিরোধের জন্য চাই একান্ত ভালোবাসা।

আত্মহত্যা প্রতিরোধের একমাত্র পথ

একান্ত ভালোবাসা।


আমরা ভালোবাসি তাই পাই সুগন্ধ,

ভালোবাসি খাবার আর তার সুগন্ধ,

ভালোবাসি মাকে,পাই মায়ের স্নেহের গন্ধ,

ভালোবাসি পুজো তাই পাই পূজার গন্ধ।


ভালোবাসি প্রকৃতির আদর মাখা গন্ধকে।

ভালোবাসি শরতের মেঘ মুক্ত আকাশকে।

ভালোবাসি ছয় ঋতুর প্রকৃতির ছন্দকে,

ভালোবাসি মাতৃ ভূমির মাটির গন্ধ কে।


ভালোবাসি সকল ধর্মের মানুষ কে,

ভালোবাসি সকল অসহায় জনকে।

ভালোবাসি ওই সকল পথ শিশুকে,

ভালোবাসি ওদের ভালোবাসা দিতে।


ভালোবাসি গ্রাম বাংলার মাটি কে,

ভালোবাসি গ্রাম বাংলার জল বায়ুকে।

ভালোবাসি  ভাঙাওই কুঁড়ে ঘরটিকে,

ভালোবাসি সকল মায়ের আঁচল কে।


ভালোবাসাতে চাই বিশ্বের সকল দুঃখী জনকে,

ভালোবাসাতে চাই সকল অবহেলিত 

'মা' কে।

ভালোবাসাতে চাই দীন-দরিদ্র হতাশা-গ্রস্থ ভগ্নহৃদয় জনকে,

মানুষ হতে চাই,হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে মানুষকে।

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

===========================





Sunday, September 4, 2022

935>|| এটাই জীবন ||

 


    935>|| এটাই জীবন ||

             <---আদ্যনাথ--->

জীবন নিজেই এক আনন্দ সাগর,

যে সাগরের নির্দিষ্ট সীমা থাকেনা।

জীবন নিজেই কিছু দুঃখ,

যে দুঃখের কোন সমাধান থাকেনা।

জীবন নিজেই কিছু প্রশ্ন,

যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়না।

জীবন নিজেই কিছু ভুল,

যে ভুল কখনো শোধরান যায় না।

জীবন নিজেই কিছু কষ্ট,

যে কষ্ট কাউকেই বলা যায় না।

জীবন নিজেই কিছু চাহিদা,

যে চাহিদা তৃপ্তি দায়ক হয় না।

জীবন নিজেই কিছু ইচ্ছা,

যে ইচ্ছা কোনদিনই পূর্ন হয় না।

জীবন তো খুশি চায়,

যে খুশির কোন বাঁধন থাকে না।


জীবনে সুখী মানুষ সেই জন,

সর্বদা কর্ম ব্যস্ত যার জীবন।

সংসারে দুঃখী মানুষ সেই জন

অপরের খুশীতে ত্রস্ত সেই জন।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================


Friday, September 2, 2022

934> || ভাল আছি ||

 


  934> ||  ভাল আছি ||

            <---আদ্যনাথ-->


কেমন আছি!!

খুব সহজভাবে বললাম, 

ভালো আছি, বেশ ভালো আছি।

হাঁটুর ব্যাথা,বয়সের ভার,

রেলিং ধরেই উঠতে হয় দোতলায়।

ছাদে যাওয়া টা ভুলেই গেছি বোধ হয়।

দাঁতের কারণে,কিছু পারিনা চাবাতে,

রুটিও খেতে হয় চটকে মেখে।

ওরা আসেনা ফোনেই জানতে চায়,

 বলি  ভাল আছি,বেশ ভালো আছি।


সব কিছুই যেন ঝাপসা দেখি,

পড়তে চাই কিন্তু সব ঝাপসা লাগে

লিখতে বোধ হয় ভুলেই গেছি।

ব্যাঙ্কে সই মিলতে চায় না,

বার বার হাতটা কেঁপে কেঁপে যায়।

গিন্নি বলে ইচ্ছা করেই নাকি শুনিনা,

ইচ্ছা করেই নাকি লিখিনা,

হাত যে কাঁপছে সেটা কেউ দেখে না।

কেমন আছি,ফোনেই জানতে চায়,

বলি  ভাল আছি,বেশ ভালো আছি।


চাওয়া পাওয়ার পেয়েছি অনেক,

তবুও রয়ে গেছে কিছু শেষ।

মনটাকে অনেক নিয়েছি গুটিয়ে  

তবুও মনেনা মন চায় ছুটতে চুটিয়ে।

চায় দৌড়ে বেড়াই পাহাড়, জঙ্গল,

তাইতো ডুয়ার্স যাবো বেঁধেছি কোমর।

হয়তো হয়েছে কিছু বয়স বেশি

মন মানতে চায়না যৌবনের বেশি।

ফোনেই জানতে চায়,কেমন আছি,

বলি  ভাল আছি,বেশ ভালো আছি।


হয়তো কমেছে হাত,পা,কোমরের জোর,

তথাপি মনে আছে অফুরন্ত জোর।

ঘুরে বেড়াবো দেশ বিদেশ,জঙ্গল,পাহাড়

মনের ইচ্ছা পূরণে অতিশয় তৎপর।

বয়সের সাথে অনেক কষ্টও বাড়ছে

হোকনা কষ্ট সহ্য করতেও হয় জানতে।

মনের ইচ্ছা পূরণে যদি হয় শরীর পতন,

ক্ষতি কি এভাবেই যদি হয় ইচ্ছা পূরণ।

ওরা ফোনেই জানতে চায় কেমন আছি,

বলি  ভাল আছি,বেশ ভালো আছি।

   <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->

==========================

=====================