Thursday, June 22, 2023

978>|| ফিরে দেখা ||

        978>|| ফিরে দেখা  ||

                <----আদ্যনাথ---->

মনেপরে সেই দুর্দান্ত দিনগুলির কথা,

 বেরিয়ে পড়তাম যেথা খুশি সেথা।

একলাই থাকতাম মধ্য প্রদেশ,ছত্রিশ গড়, বা ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলে।

চাকরিটাই এমনি ছিল যে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে সমস্ত ভারত বর্ষের পাহাড় জঙ্গল,

কোন শহরে খুব কমই থাকতে পারতাম।

সেই চাকরি ছেড়ে যোগ দিলাম ভারত সরকারের খনি বিভাগে।

এবারেও সেই শেষে যোগ দিতে হল কয়লার খনি অঞ্চলে, নুতন নুতন প্রজেক্ট বিশাল বিশাল দৈত্যাকার সব মেশিন তাদের ইরেকশন, সিস্টেম আপডেট, পিরিচালনা, ও দেখাশোনা করার দায়িত্বে।

সকল কিছু ভালোই চলছিল।

ধানবাদের কুশমুন্ডার সেই ফায়ার প্রজেক্ট

যেখানে মাটির নিচে কয়লার খনিতে আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছে হাজার হাজার টন কয়লা। বাগমারা ব্লক 2 ও মহুদা অঞ্চলের বিশাল বিশাল প্রজেক্ট।

রানীগঞ্জের গভীর কয়লার খনি।

দশ তালা এগারো তালা গভীর খিনি।

চাকরির শেষ 25 / 30 বৎসর কলিয়াতেই কেটেছে।

তাইতো যখন যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে পেরেছি কেউ ছিলনা নিষেধ করবার।

আর কোথাও ঘুরতে যাবার ইচ্ছা হিলেই বেরিয়ে পড়তাম।

বন্ধুরা সাথ দিলে ভালো একটু হৈচৈ হতো,

 নাহলে একলাই বেরিয়ে পড়তাম,

মনের আনন্দে পাহাড়ে জঙ্গলে প্রকৃতির কোলে।

আজ কিন্তু বন্ধু খুঁজি নিজের তাগিদে,

মন চায় সর্বদা নুতন জায়গা খুঁজে নিতে,

একটু নিরিবিলি লোকালয় থেকে দূরে

ঘুরে বেড়াতে চাই নিজের মতন করে।

সময়ের তালে তালে জানি বয়স বেড়েছে,

মন কিন্তু সেদিনের মতনই সবুজ আছে।

সন্তানরা সকলেই নিজেরা প্রতিষ্ঠিত,

ওরা সকলে অতিমাত্রায় সতর্ক ও চিন্তিত।

ওরা জানে ছুট পেলেই আমি পালিয়ে যেতে পারি সেই পাহাড় জঙ্গল বনে বাদারে, নিরিবিলি কোন অজানা স্থানে।

তাইতো ওরা সকলে বার বার একলা বারহতে বাঁধ সাধে।

আজ রবিবার বেরিয়ে ছিলাম সেদিনের স্কুল জীবনের বন্ধুদের খোঁজ নিতে,

ফিরে আসলাম মন ভারাক্রান্ত হয়ে কারণ

ওরা অনেকেই চলে গেছে পরোলোকের পারে।

দিলীপ নিজেই বললো গত দশ দিনে চলেগেছে আরও চার জন ইহলোক ছেড়ে।

যার যখন সময় হবে তথা ডাক আসবে তাকে তো চলে যেতেই হবে প্রকৃতির নিয়মে।

তবে বুঝলাম সকলেই কেমন যেন নীরবে

চলেযাচ্ছে একটু তাড়াতাড়ি সব বন্ধন

ছিন্ন করে।

যারা আছে তাঁরাও  কেমন যেন হাঁপাচ্ছে

মনেহয় মতন ঝিমোচ্ছে।

প্রাণ আছে শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে অসুধ খেয়ে ঘুমোচ্ছে।

শুদু আমাকে ছেড়ে সকলের খবর রাখে,

আমি তো সর্বদাই থাকি দূরে দূরে  কি করে আমার খবর পাবে।

তথাপি মনে হোল ওরা কেমন যেন হারিয়ে গেছে, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে।

দুই এক জন একটু স্বতেজ আছে কিন্তু প্রাণ খুলে হাসতেই ভুলে গেছে।

বাজার স্টেশনে দেখলাম মানুষ সেই আগের মতন দৌড়চ্ছে।

বাজার করে হাতে সাগ, তরকারির ভর্তি ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে চলেছে।

ওদের থামবার উপায় নাই,মনেহয় ওরা থামলে পৃথিবীটাই থেমে যাবে।

বাসে, ট্রেনে সেই উপচে পড়া ভিড়,

পথে দোকান দারদের হাক ডাকে অস্থির।

তখন তো এত অটো, টোটো ছিলোনা,

ছিলো  সাইকেল-রিক্সা,হাতে টানা রিক্সা।

আজ দেখলাম অটো, টোটোর বার বাড়ন্ত 

পথচলাই যেন ভীষণ মুশকিল একান্ত।

ওদের চলার গতি দুরন্ত।

দিন পাল্টেছে বেড়েছে মানুষ ও যানবাহন,

সংকীর্ণপথ কারণ পথ তো বাড়েনি তেমন।


চিরদিন কারুর সমান যায় না

খারাপ সময়ই চিনিয়ে দেয় মানুষ।

তাইতো খারাপ সময় না আসলে 

কি করে চিনবো কে ভালো কে মুখোশ পড়া ভদ্র মানুষ।

জল ভড়লেই বুঝিয়ে দেয় কলসির ছিদ্র কোথায় , 

আর বিপদ এলে বুঝিয়ে দেয় আপন মানুষ কোথায়।    


বহুদিন পরে নিজের পাড়ায় একটু ঘুরে বেরিয়ে দেখে শুনে ফাঁপাচ্ছি সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলাম পরিশ্রান্ত হয়ে।


       

ক্লান্ত পথিক চলেছে ভাবনার বোঝা বয়ে,

ক্লান্ত বুঝি গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে।

ক্লান্তি মাখা শরীরে ঘামে সিক্ত বসন,

ক্লান্তির পথে খোঁজা একটু ছায়া তখন।

ক্লান্ত শরীরে ভাবনার বোঝাই ভারী,

ক্লান্ত মনে চিন্তার বোঝাই বেশি ভারী।


তবুও চলতেই হবে অনেক পথ বাকি,

এখনো আনেক কথাই বলা আছে বাকি।

আজ ওরা সকলেই বোধ হয় ক্লান্ত,

দিনের শেষে শ্রান্ত শরীরে মন অশান্ত,

কিছু বুঝে কিছু না বুঝে মনে মনে ক্লান্ত,

জানে শান্ত মনে চিন্তাই নিদান একান্ত।

ততক্ষণ যতক্ষন না আত্মসমর্পনে একান্ত,

নিজেকে নিজে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত।

ডুব দিয়ে নিজের মনের গভীরে, 

জট পাকানো ভাবনার গভীরে।

খুঁজে নিতে হবে নিজের শান্তি,

তবেই দূর হবে মনের সকল কান্তি।


 জীবন চলে জীবনের মতো,

জীবন সহজ নয়, জটিলও নয়।

কর্মই জীবনের পথ দেখায়,

অলস জীবন সর্বদা কঠিন হয়।


প্রতিদিন অনেক ভাবনাই ভাবি

জীবনকে  সহজ অথবা জটিল করি।

নিজের তৈরি ফাঁদে নিজেকেই জড়াই,

তথাপি সর্বদা করে চলি নিজের বড়াই।

     || ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ||

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================


No comments:

Post a Comment