955>|| সাগর পারের কান্না ||
<---আদ্যনাথ-->
যে ঘর বাঁধবো বলে ছেড়েছিলাম ঘর
গাঁথতে পারিনি সে ফুলমালাডোর।
ঘুরেছি বহু পথ,অনেক ভাবনার তরি-বেয়ে
পাইনি কুল কুয়াশার অন্ধকারে।
ছিল আশা ছিলনা নির্দিষ্ট ঠিকানা,
দেখেছি কালো মেঘের আনাগোনা।
তুফান ছিল মাঝ দরিয়ায়,
হাঁ- হাঁ-কার শুনেছি নদী কিনারায়।
মৌয়ালরা ছিল মধুর আশায়,
ভেঙেছে বাঁধ পশ্চিমের ঝঞ্ঝায়।
সেদোবনে মৌয়ালরা মধুজল ছেটায়,
মানুষের গন্ধে এগিয়ে আসে দক্ষিণরায়।
হিংস্রতা লুকায়ে থাকে আড়ালে,
তবুও যেতেই হবে মধু আহরণে।
কত সিঁথি মুছে পড়েছে সাদা থান,
তবুও মৌ-এর টান মানেনা মন।
কুন্তলির জঙ্গল কাটা তার ঘেরা,
অনেক চেষ্টাতেও ওরা মানেনি মানা।
শিশু দুটি তাকিয়ে অবাক চোখে,
একটি এখনো মায়ের মাই চোষে।
সেদো বনের আইন বড়ই কঠিন,
একবার গেলে ফিরে আসাই কঠিন।
তবুও ওরা যায়, পেটের টানে
ঘটা করে পূজা চড়ার বনবিবির থানে।
বনদেবী, বনদুর্গা, ব্যাঘ্রদেবী বা বণচণ্ডী নামেও পরিচিত,
ওদের জীবনে একমাত্র আরাধ্য।
এভাবেই ওরা যায় মধু, কাঠ, বা মাছ ধরতে,
পথে ভয়ঙ্কর মৃত্যু সকল প্রতি পদে পদে।
এক পলকের ভুলেই বিপদ চিরতরে,
তবুও যেতে হবে সাহসে ভরকরে।
প্রকৃতির রোষে যখন নদী বাঁধ ভাঙে
হৃদয় মাঝি আকুল হয়ে কাঁদে।
চারিদিকে কেবলি অপূর্ণতার ধাঁধা
রাত্রি শেষেই বুঝি কাঁদা কাটা।
ফেরেনা ঘরে, যে-গেছে সাগরে,
প্রকৃতি টেনে লয় অমোঘ টানে।
অকুল পাথার দরিয়ার মাঝে
অলিক স্বপ্ন বুঝি লুকায়ে থাকে।
তবুও ফিরেআসার স্বপ্ন দেখা
মৌলিরাও বুঝি ছেড়েছে আশা।
সেদিন ছিলাম ওদের সাথে,
শুনেছি কান্নার রোল ঘরে ঘরে।
ভাবনা ছিল যাব ওদের সাথে সাগরে,
ভেঙে ছিল ঘর সেদিনের প্রবল ঝরে।
অসহায় শিশু গুলি বসে সাগর পারে,
বুঝি কোন নৌকাই আর ফিরবেনা ঘরে।
কালো মেঘ ছিল পশ্চিমের আকাশে,
নৌকা গুলি ভেসেছিল নোনা শস্যের আশে।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
===========================
No comments:
Post a Comment