985> || বৈশাখের দুপুর বেলা ||
<---আদ্যনাথ---->
বৈশাখের ঠিক দুপুর বেলা
আমবাগানে জমতো খেলা।
কাল বৈশাখীর ঝড়ের বেলা,
আমকুড়োনোর দুপুর বেলা।
আনন্দের সেই বৈশাখীর দিনে,
হঠাৎ আসে কালবৈশাখী বৃষ্টি নিয়ে।
আমবাগানে সেই বৃষ্টিভেজা,
দিনভর গাছে গাছে ভীষণমজা।
ছুটির দিনে আমরাই বনের রাজা,
দিনভর আমের ডালকে বানিয়ে ঘোড়া।
আজও মনেপরে স্বপ্নে ঘেরা রাজা সাজা,
ছেলেবেলার সেই দিনগুলির মজা।
আমের ডালে ঝুলিয়ে দড়ির দোলনা,
দোল খাওয়া সে এক মজার খেলনা।
রোজ দুপুরে আমগাছের স্নিগ্ধ ছায়ায়,
দোল খাওয়া আজও মনকে ভাবায়।
মনে ছিল আনন্দ উদ্যম অফুরন্ত,
সে দিনের শিশুমনে ছিল সাহস একান্ত।
সকলে মিলে মনের সুখে আম কুরাই,
আসুক-না ঝড়-ঝঞ্ঝা থোড়াই ডরাই।
বৈশাখের বিকেলে আকাশ পানে,
যখনই মেঘজমতো ঈশানকোনে,
বুঝতাম ঝড় আসবে ভীষণ বেগে,
তখনি ছুটে যেতাম আম বাগানে।
জানতাম ঝড় আসবে সাথেনিয়ে বৃষ্টি,
ঝড়ের দোলাতেই হবে আমের বৃষ্টি,
তখনি আম পড়তো উঠান ভরে।
আমরা আম কুরোতাম কোচর ভরে।
কাঁচা আমে নুন মাখিয়ে,
সাল পাতায় নিয়ে সাজিয়ে,
বৈশাখের দুপুর বেলা,
বাগানে বাগানেই চলতো খেলা।
মা রোজ রাগ করতেন আমাদের নিয়ে,
পিঠে পারতো মায়ের লাঠি ঘরে গিয়ে।
রাতের বেলা বাবা শুনলে আবার লাঠি
আজও যত্নে রাখা আছে সেই বেতের লাঠি।
কাঁচামিঠে আমের গন্ধে মাতাল
জিভের জল মানেনা সামাল।
সত্য বলি আমকুরোনো ভীষণমজা,
সকলেই জানি আম ফলের রাজা
নানান স্বাদের নানান আম আর
কাঁচা মিঠের তুলনা ভার।
জ্যৈষ্ঠ এলেই ধরবে পাক
সে কথা না হয় বাকি থাক।
পাকা আমের মিঠে গন্ধে
প্রাণ ভরে খাও সকাল সন্ধে।
কতো রকম আছে আম
শুনলে বুঝি ছুটবে ঘাম।
আমকে বলে অমৃত ফল
বাংলার খ্যাতি আমের ফল।
আমপাকা অতি সুমিষ্ট,
সব দেবতাই আমে তুষ্ট।
<---আদ্য নাথ রায় চৌধুরী---->
======================
No comments:
Post a Comment