988>|| ষড়রিপুর চক্রব্যূহ ||
<------আদ্যনাথ---->
মানুষই শ্রেষ্ঠ জীব এই পৃথিবীর বুকে,
ষড়রিপু সেই মানুষকেই বশে রাখে।
ষড়রিপু ভিন্ন কোন শত্রুই নাই জগতে,
মানুষ অস্থির ষড়রিপুর মোহবশেতে।
কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, ও মাৎসর্য
এই ছয় রিপু সর্বদাই মানুষের চরম শত্রু।
এই ছয় শত্রুর বাস মন আর হৃদয় মাঝে,
তাদের নিয়েই ঘর করা বিশ্বসংসার মাঝে।
ষড়রিপুকে যে করেছে বশ তার কোন
শত্রুনাই জগতে।
পশু পাখি কীট পতঙ্গ সকলেই তুষ্ট তাঁর ভালবাসাতে।
ষড়রিপুর অদৃশ্য অমোঘ ছয় বন্ধনের কারনে,
মানুষ নিজেকে নিজেই হারিয়ে ফেলে।
রিপুবন্ধনের আকর্ষণ থাকে যতক্ষন
মানুষ পাপ কর্ম হতে মুক্ত হয়না ততক্ষণ।
ষষ্ঠ রিপুর ষষ্ঠ আকর্ষণের রঙিন স্বপ্ন,
মানুষ নানা অপকর্মে রয় গভীর মগ্ন।
আমরা প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিকে নিজের শত্রু বলে মনে করি,
তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করি তাকে হারানোর চেষ্টাও করি।
কিন্তু আমরা আসল শত্রুকে চিনতে করি ভুল,
ষড়রিপুর চক্রব্যূহে পথ হারায়ে পাইনা কোন কুল।
শত্রু সর্বদা বিপথগামী করার চেষ্টা করে
বিপথে চলার যন্ত্রনাও দেয় বারে বারে।
এই ছয় রিপু যন্ত্রনা দেয় বিপথগামী করে
এরা দুরে নয় নিজের ঘরেই বাস করে।
এরা নিজের হৃদয়ে অবস্থান করে, নিজের অজান্তেই নিজের সর্বনাশ করে।
আমরা তাকে বশ করার চেষ্টাই করিনা,
এই রিপুকে চিনেও চিনতে পারিনা।
ছয় রিপু বিজিত মানুষের বহির্জগতে কোন শত্রু নেই,
এমনকি কোন হিংস্র জন্তু পর্যন্ত নাই।
এই ছয় রিপু প্রথমে বিবেককে ধ্বংস করে।
বিবেক বর্জিত জন কামান্ধ হয়ে কামনার আগুনে পুড়ে মরে।
তার পরেই শুরু ক্রোধের খেলা
ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংসের খেলা।
ক্রোধ সর্বনাশা,বোঝেনা কোন ক্ষমা ধর্ম,
ক্রোধের অস্ত্র দন্ড,ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।
★★( কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন
বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়। )
ক্রোধের পরেই লোভ দেখায় জারিজুরি,
আসলে লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী।
লোভীর জীবনে সুখশান্তি পাওয়াই ভার।
কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার,
মোহ নিশ্চিত মনুষ্য হৃদয়ের দুর্বলতা,
মোহের মুক্তি ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা।
মোহে আবিষ্ট জনের থাকেনা মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ,
সে জন ধুলায় লুন্ঠিত, মৃত, থাকেনা জীবনের বোধ।
মদ অতিশয় মিথ্যা অহঙ্কার,
নাম,জস সকলই মিথ্যা অহঙ্কার
মদের অহঙ্কার ত্যাগ করা কঠিন প্রয়াস,
মনেপ্রাণে হতে হবে ঈশ্বরে দাসানুদাস।
মাৎসর্য বড়ই ভয়ঙ্কর পরশ্রী কাতর,
কারুর ভালো সহ্য করতে না পারা।
এ ভাবেই মনকষ্টে অপরের অনিষ্ট করা,
নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ করা
==========================
★1. কাম - যৌন সঙ্গকামনা, রিরংসা, যৌনক্ষুধা। (Sex urge)
★2. ক্রোধ - রাগ, উত্তেজনার বশীভূত হওয়া। (Anger)
★3. লোভ - লালসা । (Cupidity)
★4. মোহ - মায়া, বিভ্রম । (Illusion)
★5. মদ - অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব। (Arrogance)
★6. মাৎসর্য - পরশ্রীকাতরতা, অন্যের ভালো দেখতে না (Envy)
======================
★----কাম----★
#কাম অর্থ রিরংসা, যৌনক্ষুধা।
কাম বলতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সাহিত্য উভয় ক্ষেত্রেই ইন্দ্রিয়সুখ, কামেচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়। কাম হল মানব জীবনের চারটি লক্ষ্যের একটি এবং এটিকে হিন্দু ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনের পর্যায়গুলিতে পূরণ করার জন্য প্রাথমিক প্রয়োজনগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
চারটি পুরুষার্থ হল:
●ধর্ম: "(ধর্মীয় ও সামাজিক) নীতিবোধ, আধ্যাত্মিক ও আনুষ্ঠানিক কর্তব্যকর্ম।
●অর্থ: "(জাগতিক ও অর্থনৈতিক) প্রগতি।"
●কাম: "(পার্থিব) সুখ।"
●মোক্ষ: "(আধ্যাত্মিক) মুক্তি।"
======================
★--ক্রোধ--★
#ক্রোধ অর্থাৎ ধ্বংস---
ক্রোধ সর্বনাশা,
ক্রোধ বোঝেনা কোন ক্ষমা,
ক্রোধের অস্ত্র দন্ড।
ক্ৰোধী বোঝেনা ধর্ম।
ক্ৰোধী বোঝেনা ক্ষমা কত সুন্দর।
বোঝেনা ধর্ম ও সত্য ততোধিক সুন্দর।
ক্ৰোধীর ক্রোধ প্রতিশোধেও হয়না পরিসমাপ্তি।
ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ বড়ই কঠিন,
ক্রোধ নিয়ন্ত্রনে ক্ষমা করার শক্তি অর্জন
একান্ত প্রয়োজন।
(কিন্তু ক্রোধ যদি হয় সার্বিক হিতের কল্যানে, ধর্ম রক্ষার্থে শত্রু প্রতিহত করার নিমিত্তে শান্তির সমস্ত দ্বার বন্ধ হলে এমন
বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রোধ প্রয়োগ ধর্মের কল্যাণের পথ দেখতে সমর্থ হয়।)
============================
★--লোভ--★
#লোভ হচ্ছে চরিত্র হননকারী ।
যে ব্যক্তির চরিত্র ঠিক নেই তার ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা , মনুষ্যত্ব ও বিবেক-বিচার বোধ পথের ধুলায় লুন্ঠিত সে জীবিত অবস্থায় মৃত ।
লোভী কখনও সুখ শান্তি পায়না ।
লোভকে বৈরাগ্য দ্বারা সংযত করা যায় বা আয়ত্বে রাখা যায়।
তাই গীতায় ভগবান শ্রী কৃষ্ণ বলেছেন, কাম- ক্রোধ-লোভ এই তিন নরকের দ্বার।
====================
★---মোহ---★
#মোহ হচ্ছে হৃদয়ের দুর্বলতা ।
কোন কিছুর লাভ বা ক্ষতিতে হৃদয় যখন ভারাক্রান্ত হয় বা দুর্বল হয় তখন তা মোহ সৃষ্টি করে ।
প্রকৃত পক্ষে কোন কিছু আমার নয় এবং কখনও আমার ছিলো না।
না আমি সঙ্গে এনেছি না আমি সঙ্গে নিয়ে যাব ।
চিরদিন কারও সঙ্গে আমার সম্পর্ক স্থায়ী হবেনা ।
এই তবে কেন অনিত্য বস্তুতে নিত্য সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা ।
তাই নিত্য সম্পর্ক একমাত্র ইষ্ট বিনে হতে পারে না ।
অতএব ভগবানের সঙ্গে নিত্য সম্পর্ক স্থাপন করে তাঁর প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হয়ে বিষয় সংসার মোহমুক্ত হওয়ার একমাত্র পথ।
================
★---মদ-----★
#মদ হচ্ছে মিথ্যা অহংকার ।এই জড় শরীরের উপাধি মাত্র । আমি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি , চাষি, ব্রহ্মচারী , গৃহস্থ, সন্যাসি , ব্রাহ্মণ, ধননবান রুপবান ইত্যাদি । এগুলি সবিই মিথ্যা অহংকার ।কিন্তু আমিত এই শরীর নই আমি ভগবানের নিত্য অবিচ্ছেদ্য অংশ চিন্ময় আত্মা এবং ভগবানের নিত্যদাস । এটাই আমার প্রকৃত পরিচয় ।যখন কেউ ভগবানের দাসত্য স্বীকার করে তার আর মিথ্যা অহংকার থাকেনা ।
======================
★------মাৎসর্য-----★
#মাৎসর্য হল অন্যের ভাল দেখতে না পাওয়া বা পরশ্রী কাতরতা ।কেউ ভালো খেলে ভালো পড়লে সহ্য হয়না । তখন মনের ভীতরে একটা যন্ত্রনা অনুভব করে তার অনিষ্ট করার চেষ্টা করা । তাতে সে কোন ভাবেই সুখী হয়না । নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা।অন্যকে গর্তে নামানোর আগে থেকে নিজেই গর্তে নামে।
"কাম কৃষ্ণ কর্মার্পণে
ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে
লোভ সাধু সঙ্গে হরিকথা,
মোহ ইষ্ট লাভ বিনে
মদ কৃষ্ণ গুন গানে
নিযুক্ত করিব যথাতথা ।।"
||| "হরিবোল-- হরিবোল" |||
<-------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-------->
*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-
No comments:
Post a Comment